বক্তব্য রাখছেন জাহিদ মিন্টু
গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে ২০ জুন। নিউ ইয়র্ক স্টেটের অরেঞ্জ কাউন্টিতে গড়ে উঠা বাংলাদেশিদের জন্য ‘সবচেয়ে বড়’ কবরস্থানে লাশ দাফন করার কাজ শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। অরেঞ্জ কাউন্টির স্কচটাউনে ১২৬ একর বিস্তৃত ভূমিতে এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রি’। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিস্তারিত জানিয়ে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে উপরোক্ত তথ্যসমূহ জানিয়েছেন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং এ প্রজেক্টের স্বপ্নদ্রষ্টা জাহিদ মিন্টু।
গত ১১ জুন জ্যাকসন হাইটসের ‘মুনলাইট গ্রিল’ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাঈন উদ্দিন পিন্টু। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজি মফিজুর রহমান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আবুল কামাল, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি তাজু মিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক রুমি, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খোকন মোশারফ, উপদেষ্টা মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, উপদেষ্টা হাজি মমিনুল ইসলাম, মোস্তাক মোশাররফ হোসেন, শাহ নাসের স্বপন, শাহ আলম, করিম চৌধুরী, মালেক খান, সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, সহ-কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, সাংগঠনকি সম্পাদক নূরুল ইসলাম বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম, ধর্মসম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য ইকবাল হোসেন, হাসানুজ্জামান বাদল, মাহমুদুল হক প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
মিড দ্য প্রেসে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’র মুখপাত্র জাহিদ মিন্টু।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশ সেমিট্রি করার লক্ষ্যে নিউ ইয়র্কের আপ স্টেটে প্রায় ১২৬ একর জমি ক্রয় করা হয়। বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর আন্তরিক ও ঐকান্তিত সহযোগিতায় ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা পুরো নগদ অর্থে বাংলাদেশ সেমিট্রির জন্য জায়গা ক্রয় করি। বাংলাদেশ সেমিট্রিতে প্রায় ১ লাখের বেশি কবর তৈরি করা হবে পর্যায়ক্রমে। প্রবাসে বাঙালিদের সর্ববৃহৎ সেমিট্রির কাজ আমরা গত ৩১ জুলাই ২০২৫ সালে শুরু করি। আপনারা জানেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে গিয়ে আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সেই সঙ্গে ছিল ক্ষুদ্র একটি অংশের অপপ্রচার। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সবার দোয়ায় আমরা সব বাধা অতিক্রম করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সামনে এলো সে ঐতিহাসিক ক্ষণ। আগামী ১ জুলাই থেকে আমরা কবর দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছি। সেজন্যই আজকের সংবাদ সম্মেলন। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই এ প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম, তাই খুশির খবরটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। ১ জুলাই কবর দেওয়ার কাজ শুরুর আগে, যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে কবর ক্রয় করেছেন তাদের নিয়ে আরেকটি অনুষ্ঠান স্কটটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রিতে আগামী ২০ জুনে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে কবর ক্রয় করেন, বুকিং মানি দেওয়ার পর আর কোনো অর্থ দেননি, যোগাযোগ রাখছেন না, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনাদের বাকি অর্থ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে চুক্তি অনুযায়ী, আপনাদের কবরের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। অর্থ পরিশোধ না করার কারণে আমরা মার্কিংয়ের কাজও শুরু করতে পারছি না। আশা করি, এ ব্যাপারে আপনারা এগিয়ে আসবেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা কবর দেওয়ার কাজ শুরু করলেও আপাতত ফিউনারেলের কাজ আমরা করছি না। তবে কেউ সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো। আমরা ফিউনারেল হোমের ব্যাপারে কাজ শুরু করেছি। আশা করি, আগামী দিনে সে ঘোষণাও আসবে। আপনারা জানেন, প্রথম কিস্তিতে আমরা ২০ হাজার কবর বিক্রির প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম। ১১ জুন পর্যন্ত আমাদের প্রথম কিস্তির ২০ হাজার কবর বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, প্রতিটি কবর দেওয়ার জন্য খরচ পড়বে ২ হাজার ৫০০ ডলার। শিশুদের জন্য ১ হাজার ২০০ ডলার (ইনফেন্ট)। যাদের কবর নেই, তাদের ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ২৫০০+১০০০=৩৫০০ ডলার। হেড স্টোনের খরচ পড়বে ১ হাজার ২৫০ ডলার। সব হেড স্টোন একই ধরনের হবে। স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির ওইখানে জানাজা পড়ার ব্যবস্থা থাকবে অস্থায়ী ভবনে। থাকবে পানির ব্যবস্থা ও ওজুর ব্যবস্থাও। স্থায়ী ভবনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। কবর খোঁড়া, লাশ নামানোসহ সব কাজ মেশিনের মাধ্যমে করা হবে। ইতোমধ্যেই সব যন্ত্রপাতি ও মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। মানুষও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আপাতত সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত লাশ দাফন করা যাবে। রোববার লাশ দাফন করা আলোচনাসাপেক্ষ। আগামী জুলাই-আগস্ট থেকে দ্বিতীয় কিস্তির কবরের কাজ শুরু। দ্বিতীয় কিস্তিতে কবরের সংখ্যা হবে প্রায় ৪২ হাজার। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির কর্মকর্তা, ট্রাস্টি এবং উপদেষ্টারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় কিস্তির কবরের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিটি ভালো কাজের সঙ্গে আমরা আপনাদের পেয়েছি। আশা করি, সব সময় পাবো। আপনাদের লেখনী, বুদ্ধি এবং পরামর্শই আমাদের শক্তি এবং প্রেরণা। এ কাজে যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, অর্থ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের অফুরান কৃতজ্ঞতা। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা পরিষদ, ট্রাস্টি বোর্ড এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের। সেই সঙ্গে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কম্যুনিটিকে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মিন্টু বলেন, যারা অপপ্রচার করেছেন, তাদের প্রতি আহ্বান হলো ভালো কাজে সহযোগিতা করতে না পারলে ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন না। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুক। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা গুলশান টেরেসে প্রথম অনুষ্ঠানে কবর ক্রয়ের কথা বলেছিলেন, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, আশা করি তাদের জন্য কিছু করতে পারবো। তিনি ২০ জুনের অনুষ্ঠানে সবাইকে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।