মেয়র মামদানি ও স্পিকার মেনিন
টানা প্রায় ছয় মাসের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আলোচনার পর অবশেষে শহরের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেটে হাত মেলালেন মেয়র জোহরান মামদানি এবং সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন। ৩০ জুন মঙ্গলবার সকালে সিটি হলের রোটুন্ডায় এক যৌথ ঘোষণায় দুই পক্ষ জানায়, ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন বাজেটে তারা একটি হ্যান্ডশেক ডিল-এ পৌঁছেছেন। এই বাজেট আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নিউইয়র্কের বিতর্কিত হাউজিং ভাউচার প্রোগ্রাম সিটি এফএইচইপিএস। কাউন্সিল এই প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের পক্ষে চাপ দিলেও মেয়র প্রশাসন এর ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল।
শেষ পর্যন্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে বাজেটে হাউজিং সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ১৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে আরও ১২৫ মিলিয়ন ডলার বেসলাইন অর্থায়ন যোগ করা হবে। নতুন একটি ভাড়া সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হবে, যা সিটি এফএইচইপিএস-এর বর্তমান যোগ্যতার বাইরে থাকা নিউইয়র্কবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত করবে। সিটি কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচি প্রায় ৩০,০০০ মানুষকে সহায়তা দিতে পারে এবং এটি পরিচালিত হবে ডিপার্টমেন্ট অফ হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর মাধ্যমে।
এছাড়া, বাজেট চুক্তির অংশ হিসেবে মেয়র প্রশাসন ২০২৩ সালের আইন বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার জন্য করা সিটি কাউন্সিলের মামলার আপিল প্রত্যাহার করবে।এই নতুন বাজেটের মোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলার। এতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৫৪ মিলিয়ন ডলার ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচি সম্প্রসারণে (সাবওয়ে ও বাস ভাড়া অর্ধেক করার সুবিধা), ৫৩ মিলিয়ন ডলার এনওয়াইসি কিডস রাইজ শিক্ষা সঞ্চয় কর্মসূচিতে, ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টিগেশনের জন্য অতিরিক্ত ৬.২৫ মিলিয়ন ডলার, ৯/১১ বিষাক্ত পদার্থ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশে নতুন অর্থায়ন, ৯/১১ বায়ু মান তথ্যের জন্য অনলাইন পোর্টাল তৈরিতে ৩৪.২ মিলিয়ন ডলার এবং সিটির রিজার্ভে অতিরিক্ত ৩৫০ মিলিয়ন ডলার সংরক্ষণ।
সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান বাজেট একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিলেও ভবিষ্যতে শহরকে বড় ঘাটতির মুখে পড়তে হতে পারে। মার্ক লেভিন বলেন, এই চুক্তি শহরকে একটি কঠিন বছর পার হতে সাহায্য করবে, তবে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।
সিটি এফএইচইপিএস কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল-২০১৯ সালে যেখানে খরচ ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়র মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যয়জনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন। বাজেট চুক্তিটি অর্থবছরের শেষ দিনে সম্পন্ন হয় এবং মঙ্গলবারই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাধ্যমে পাশ হওয়ার কথা রয়েছে। সিটি হলের কর্মকর্তারা এটিকে দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার পর অর্জিত একটি সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নিউ ইয়র্ক সিটিবাসীর মতে, এই বাজেট নিউইয়র্কের সামাজিক কর্মসূচি ও আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রাখার একটি প্রচেষ্টা হলেও ভবিষ্যতের বাজেট ঘাটতি শহর প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।