১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৬:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


২০ জন আশ্রয় আবেদনকারীকে তৃতীয় দেশে পাঠালো ট্রাম্প প্রশাসন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৬-২০২৬
২০ জন আশ্রয় আবেদনকারীকে তৃতীয় দেশে পাঠালো ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প প্রশাসন সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের দেশ বানগুইয়ে আশ্রয় আবেদনকারীকে পাঠালো


যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আফগানিস্তান, ইরান এবং অন্যান্য দেশের প্রায় ২০ জন অভিবাসীকে ১১ জুন পশ্চিম আফ্রিকার সংঘাতপ্রবণ দেশ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এ নির্বাসন দিয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এটিকে লেভেল ফোর : ডু নট ট্রাভেল তালিকাভুক্ত করেছে, যেখানে আমেরিকান নাগরিকদের যেকোনো পরিস্থিতিতে ভ্রমণ না করার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

নির্বাসিতদের মধ্যে ইরানের একজন গণতন্ত্রপন্থী নারী কর্মীও ছিলেন, যিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে আদালতের মাধ্যমে উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল সুরক্ষা পেয়েছিলেন। এ সুরক্ষা সাধারণত কাউকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে রক্ষা করে, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চাইলে তাদেরকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠাতে পারে। মানবাধিকার আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই নারীর কোনোভাবেই সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না এবং তাকে কোথায় পাঠানো হবে তা শেষ মুহূর্তে জানানো হয়। একইসঙ্গে আরো কয়েকজন ইরানি নারীকেও নির্বাসনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সবাইকে একই ফ্লাইটে পাঠানো হয়নি বলে জানা যায়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তৃতীয় দেশ বা অন্যান্য বন্দিশিবিরে পাঠানোর নীতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়ায় আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। ইমিগ্র‍্যান্ট অধিকার কর্মীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন শুধু সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক নয়, বরং আফ্রিকার কমপক্ষে ৮টি দেশে তৃতীয় দেশের অভিবাসী পাঠানোর বা গ্রহণের ব্যবস্থা বিস্তৃত করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, ডেমো‍েক্রটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, এসওয়াতিনি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ঘানা, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। এর বাইরে আরো কিছু আফ্রিকান দেশও আলোচনার বা চুক্তির আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া আফ্রিকার বাইরেও এল সালভাদর, কোস্টা রিকা, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশের অভিবাসী গ্রহণে সম্মত হয়েছে। মোট মিলিয়ে, এ নীতি এখন বহু দেশের সঙ্গে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক ডিপোর্টেশন নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে উঠছে।মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সংঘাতপ্রবণ ও দারিদ্র‍্যপীড়িত দেশে অভিবাসীদের পাঠানো তাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, এটি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার অংশ। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলেছে বলে ইমিগ্র‍্যান্ট অধিকার কর্মীরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন