বক্তব্য রাখছেন শাহ নেওয়াজ
নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো আগামী ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড (এসএইউপি)-২০২৬। এদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুইন্স বরোর জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউ, ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। প্যারেডে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ-বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রবাসী জনগণের মধ্যকার ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জোরদার করার পাশাপাশি দেশগুলো শিল্পসংস্কৃতি আমেরিকানদের মাঝে তুলে ধরাই হবে মূল লক্ষ্য। প্যারেডের আয়োজক সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক।
সিটির উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে গত ৭ জুলাই বিকালে আয়োজিত এক জণাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড কমিটির নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত তথ্য জানান।
বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ড চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্যারেডের বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এর আগে প্যারেড অনুষ্ঠানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন-প্যারেড কমিটির আহ্বাক ও সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ও সোসাইটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, প্রধান সমন্বয়কারী শাহ শহিদুল ইসলাম, চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএর (একাংশ) সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, জ্যাকন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি শাকিল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নমি।
এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির অন্যতম ট্রাস্টি সদস্য আজহারুল হক মিলন। সোসাইটির অপর ট্রাস্টি সদস্য নাঈম টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড (এসএইউপি) আয়েজনের কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক অঞ্চল এক সংস্কৃতি এক ভবিষ্যৎ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে আমাদের এবারের প্যারেড আয়োজন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা জাতীয়তার ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই আমরা আরো শক্তিশালী একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, ২০২৬ সালের সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেডের হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ ও আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি এই বছরের হোস্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, আগামী ৯ আগস্ট ২০২৬, রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউ, ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এটি শুধু একটি প্যারেড নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যকে একসঙ্গে উদযাপনের একটি উৎসব। শোভাযাত্রার পাশাপাশি থাকবে রঙিন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বিভিন্ন দেশের খাবার এবং দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরার আয়োজন।
এ আয়োজন মূলত দক্ষিণ এশিয়ার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক মহা মিলনমেলা। এবারের প্যারেডে এক সুতোয় গাঁথা হবে এই অঞ্চলের সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপকে। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এ দেশগুলোর প্রবাসী ভাইবোনেরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে বর্ণিল সাজে এ প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন, যা প্রবাসের মাটিতে আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এ বছর বাংলাদেশ হোস্ট কান্ট্রি হওয়ায় আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। তবে এ আয়োজন শুধু বাংলাদেশের নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের মানুষের মিলনমেলা। আমরা চাই, সবাই একসঙ্গে অংশগ্রহণ করুক, একে অপরের সংস্কৃতিকে জানুক এবং সম্প্রীতির এ বার্তাকে আরো শক্তিশালী করুক।
মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে সব সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ক্রীড়া, ব্যবসায়ী, যুব ও কমিউনিটি সংগঠনকে এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি আমাদের সিটি, স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায়ের সম্মানিত জনপ্রতিনিধিদেরও আমরা এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাব।
প্যারেডে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সোসাইটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জামান এবং প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহ শহিদুল হক।
প্যারেডে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ এম নেওয়াজ, সোসাইটি সভাপতি আতাউর রহমান (সেলিম) ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এবং নির্বাহী কমিটির সব সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী বলেন, এই ধরনের একটি বৃহৎ আয়োজন কোনো একক ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পুরো কমিউনিটির আন্তরিক সহযোগিতা। তাই আমরা বিনীতভাবে আপনাদের সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করছি। বিশেষ করে আমাদের গণমাধ্যমের বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা এ আয়োজনের সংবাদ ও বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন। আর কমিউনিটির সব সংগঠন ও সদস্যদের প্রতি আহ্বান, আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে এ আয়োজনকে সফল করি।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের সবার অংশগ্রহণে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ২০২৬ শুধু একটি সফল অনুষ্ঠানই হবে না, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আগামী ৯ আগস্ট, পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের নিয়ে সবাইকে এ প্যারেডে অংশ নেওয়ার আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। চলুন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যের এ উৎসবকে স্মরণীয় করে তুলি। জয় হোক সম্প্রীতির। জয় হোক ঐক্যের।’
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ডে প্যারেডের সঙ্গে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেডের কোনো সম্পর্ক নেই বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই। বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৭টি দেশকে তুলে ধরাই এ প্যারেডের মূললক্ষ্য। আমার উদ্যোগে একটি রেজিস্ট্রার্ড সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ প্যারেড করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেডের অন্যতম উদ্যোক্তা ফাহাদ সোলায়মান আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, তবে তিনি বিশেষ কাজে ব্যবস্ততার জন্য আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, প্যারেডের বিষয়ে এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথা হয়েছে। তবে অচিরেই আমরা তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসবো।
মোহাম্মদ আলী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ সোসাইটি এ প্যারেডের আযোজক সংগঠনের মর্যাদা পেয়েছে সেহেতু আমাদের হাতে সময় কম বলেই প্যারেডের দিন-তারিখ ঘোষণা করতেই তাড়াহুড়া করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধি আজ উপস্থিত হতে পারেননি। তবে অচিরেই দক্ষিণ এশিয়ার ৭ দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, প্রথমবারের মতো এই প্যারেডের আয়োজক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি দায়িত্ব পালন করবে। পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশ আয়োজক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবে।