০৭ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৩৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি মঞ্চ থেকে স্টুডিওতে নাফিজ এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার সিমপ্যাথি ছিল,আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট’ মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নিউইয়র্কে আইসের মুখোশ নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ


ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০৮-২০২৬
ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি  বেশি



হামের প্রাদুর্ভাবঃ

শিশুদের নিরাপদ স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও বাসযোগ্য নগর নিশ্চিতকরণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন 
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। 

 এতে আরও বলা হয় যে,
শিশুদের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যেমন নাগরিক অধিকারের একটি মৌলিক চাহিদা, তেমনি তাদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপদ পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং পরিকল্পিত নগর ও গ্রামীণ পরিসর নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর ও গ্রামীণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সুষ্ঠু নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে দেশের নগর, অঞ্চল ও গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদদের জাতীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং এতে শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় বিআইপি গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকালমৃত্যুর মতো পরিস্থিতি প্রতিরোধে যথাযথ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর ও গ্রামীণ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বিআইপি।

বিআইপি মনে করে, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেবল হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন, পর্যাপ্ত খোলা ও সবুজ স্থান, নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা—এসব বিষয় একটি শিশুবান্ধব নগর ও জনপদের অপরিহার্য উপাদান। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও কার্যকর ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তাই নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনায় শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে Child-Sensitive Planning বা শিশুবান্ধব পরিকল্পনা কাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে, দেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, পরিবেশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে বিআইপি। একই সঙ্গে শহর ও প্রত্যন্ত গ্রাম—সব এলাকার শিশুদের জন্য মানসম্মত ও সহজপ্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিআইপি জোর দাবি জানাচ্ছে।

বিআইপি মনে করে, শিশুদের জন্য নিরাপদ নগর ও গ্রামীণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতেও মানসম্মত শিশুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবকে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি আরও গভীরভাবে মনোযোগ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করে বিআইপি। শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করতে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং নিরাপদ ও পরিকল্পিত বসতিপরিবেশ—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বিআইপি।

বিআইপি বিশ্বাস করে, শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করা শুধু স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমন্বিত নগর, অঞ্চল ও জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার বিষয়। আজকের শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই আগামী দিনের একটি সুস্থ, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।
 

শেয়ার করুন