০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নর’ইস্টারের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিউইয়র্কবাসীর ৬০ শতাংশ মামদানির পক্ষে অবৈধ জুয়ার অভিযোগে পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ নিউইয়র্কে স্থায়ী ‘জবস এনওয়াইসি’ কেন্দ্র চালু দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে মামদানির উদ্যোগে আদালতের বাধা লোয়ার ম্যানহাটনে প্রায় ১ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা তৃতীয় দেশে নির্বাসনের পথ ফের খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টায় তারেক রহমান


ডরমিটরি চালুর অনুমতি বাতিল
লং আইল্যান্ডের বে শোরে মুসলিম স্কুল অনুমোদন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
লং আইল্যান্ডের বে শোরে মুসলিম স্কুল অনুমোদন ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে নির্মাণাধীন স্কুল


নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বে শোরে একটি মুসলিম বালকদের আবাসিক স্কুলের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। টাউন অব ইস্লিপের জোনিং বোর্ডের সিদ্ধান্তে স্কুলটি চালু করার অনুমতি বহাল থাকলেও ক্যাম্পাসে ১২০ শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থা বা ডরমিটরি চালুর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে নির্মাণাধীন স্কুলটি ১৩ একর জলসংলগ্ন এলাকায় চালু হওয়ার কথা। স্কুলটি মূলত বালকদের জন্য এবং ইসলামভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। তবে ক্যাম্পাসে ১২০ কিশোর শিক্ষার্থীকে আবাসিকভাবে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা দেখা দেয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর টাউন অব ইস্লিপের জোনিং বোর্ড অব আপিলস ৩-১ ভোটে আগের একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করে। আগের সিদ্ধান্তে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য ডরমিটরি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই আবাসিক ব্যবস্থা টাউনের বর্তমান জোনিং বিধিমালায় একটি প্যারোকিয়াল স্কুলের অনুমোদিত সহায়ক ব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে না। বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্যারোকিয়াল স্কুল পরিচালনা করা অনুমোদিত। তবে জমির মালিক প্রস্তাবিত আবাসিক বা বোর্ডিং ব্যবস্থাটি টাউনের জোনিং কোডের শর্ত পূরণ করে এমন প্রমাণ দিতে পারেননি। এর ফলে স্কুলটি চালু হতে পারবে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের রাতে ক্যাম্পাসে থাকার অনুমতি থাকবে না। অর্থাৎ প্রতিদিন ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে হবে। স্কুলের আবাসিক পরিকল্পনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছিল। বিশেষ করে কাছাকাছি একটি সিনিয়র লিভিং কমিউনিটির পাশে ১২০ কিশোরকে দিন-রাত রাখার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগের মূল বিষয় ছিল সম্ভাব্য শব্দ, যানবাহন ও এলাকার পরিবেশের ওপর প্রভাব।

জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাসিন্দারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাদের আপত্তি তুলে ধরেন। বৈঠকের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজনকে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সময়ে কিছু ব্যক্তি ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যও করেন। তবে স্থানীয়দের আপত্তির পাশাপাশি বৈঠকে স্কুলের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কিছু ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যও উঠে আসে। জোনিং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অবশ্য ধর্মীয় শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং আবাসিক ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট জোনিং বিধিমালার অধীনে অনুমোদনযোগ্য কি না, সেটিই ছিল সিদ্ধান্তের মূল বিষয়।

স্কুলটি যে জমিতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেটি আগে ক্যাথলিক একটি বোর্ডিং স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রতিষ্ঠানটি ১৯২০-এর দশক থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সেখানে পরিচালিত হয়। পরে সম্পত্তিটি বিক্রি হয় এবং এখন সেখানে মুসলিম বালকদের জন্য নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জোনিং বোর্ডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে স্কুলটির শিক্ষাকার্যক্রম চালুর পথ খোলা থাকলেও ১২০ শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।

শেয়ার করুন