০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


বাংলাদেশ মব সন্ত্রাসে বিবর্ণ
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
বাংলাদেশ মব সন্ত্রাসে বিবর্ণ প্রতীকী ছবি


প্রবাসী হয়ে এশিয়া, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকার কত দেশ ঘুরেছি, থেকেছি বসবাসের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা কয়েকটি শহরে। আবেগ তাড়িত হয়ে বলছি না প্রাকৃতিক রূপ সুষমায় অপরূপ বাংলাদেশের মতো ছবির মতো দেশ খুব কম দেখেছি। ধনে ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের বাংলাদেশ এখন মব সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং সন্ত্রাস, পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞে ক্রমাগত বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। প্রবাসে প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙে অনলাইনে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা পড়ে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ শুনলেই দেখি খুন, শিশু, নারী ধর্ষন, মব সন্ত্রাসের নিয়মিত ঘটনা। 

গত কয়েকদিন দেখছি সরকারি দলের নেতাদের মদদে মিরপুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০র বেশি সময় ধরে নারী শিশুসহ দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরদিন মিরপুরে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে দেখলাম লঙ্কা কাণ্ড, যদিও এটা ছিল প্রশসনীয় কাজ। ঢাকার কেন্দ্রস্থলে সরকারি দলের এখন চাঁদাবাজকে জনতার আক্রোষ থেকে সৃষ্ট অচল অবস্থা। এই যে দেশজুড়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রম অবনতি তার সূচনা হয়েছিল ২০২৪ জুলাই আগস্ট ছাত্র-জনতা আন্দোলনে সরকার পতনের পর থেকেই। 

অসংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময় জুড়েই ছিল অনিয়ন্ত্রিত মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধ্বংসযজ্ঞ। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে বিএনপি জোট সরকারি ক্ষমতায় আসার আট মাস অতিবাহিত হলেও সরকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে নি। সরকার দল ক্রমাগত নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।

সরকার প্রধান নিজেই বলছেন গুপ্ত আর স্বৈরাচার নাকি একসাথে হয়ে দেশ পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে। মিডিয়ায় কথা উঠেছে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো শুদ্ধাচার শুরু করার। সরকার কিন্তু এই ধরনের উদ্যোগের কথা স্বীকার করছে না। তবে রাড্ডা ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি দলের মহিলা সাংসদ পদত্যাগ করেছে। তাকেসহ সরকারি দলের অভিযুক্ত নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। 

এমনিতেই দেশ বিদেশে বিদ্যমান নানা সংকটে দেশে চলছে নানা দুর্যোগ। নানা কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি জন জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বাজারে নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য, গ্যাস বিদ্যুৎ অতিমারিতে বিপন্ন জনজীবন। এমন অবস্থায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রম অবনতি সামাল দিতে বেসামাল হয়ে পড়েছে সরকার। অনেকের অভিযোগ বিরোধী দল দায়িত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসাবে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না।

অথচ ভেবে দেখুন গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষরা কত নিরীহ। দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ নিরীহ মানুষ গুলো চায় নিরাপত্তা, শান্তি। সরকারগুলো নানা কথা নানা বাগাড়ম্বর করলেও কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সেটি অনুসন্ধানে আলবার্ট আইনস্টাইন হতে হবে না। প্রয়োজন আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মশুদ্ধি। সরকারের উচিত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সকল স্টেকহোল্ডারসদের আলাপ করে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ।

সবাই চায় শস্য শ্যামলা ছায়া সুনিবিড় বাংলাদেশ আবারো শান্তির নীড় হয়ে উঠুক।

শেয়ার করুন