প্রতীকী ছবি
সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে দেশটিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত থেকেই ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে সৌদি আরবের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা শুরু করবেন। সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি সন্ধ্যায় বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে নতুন চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মুন সাইটিং অনুযায়ী আমেরিকাসহ উত্তর আমেরিকায়ও রমজান শুরু হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে তরাবির নামাজ আদায় করা হয়েছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সেহেরী খেয়েছেন। সেই অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রমজান। বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এবং কমিটির সাথে আলাপকালে তারা জানান, অধিকাংশ মসজিদে খতম তরাবি আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশী মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলোতে ইফতার বক্স বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রমজান মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করা হয়। পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার টিস বলেছেন, রমজান হলো নিউ ইয়র্ক শহরের মুসলিম বাসিন্দাদের জন্য শান্তি, প্রতিফলন এবং নবজীবনের সময়, যার মধ্যে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৩,৫০০ জনেরও বেশি মুসলিম সদস্যও রয়েছেন। এই পবিত্র মাসের শুরুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে, আমরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে রমজান পালনকারী সকলেই নিরাপদে এবং মানসিক প্রশান্তির সাথে তা পালন করতে পারেন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ মসজিদ এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানের বাইরে আমাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে কাজ চালিয়ে যাব। এই সময়ে, নিউ ইয়র্ক সিটিতে রমজান পালন সম্পর্কিত কোনও নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকি জানা যায়নি। তবে সম্প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি জঘন্য আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, যা কখনই সহ্য করা হবে না।
৩০ জানুয়ারি হিজাব পরা তিনজন নিউ ইয়র্কবাসীকে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং তোমার দেশে ফিরে যাও- বলা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক সিটিতে এই ধরনের ঘৃণার কোনও স্থান নেই, এবং আমাদের ঘৃণা অপরাধ টাস্ক ফোর্স দ্রুত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই গতি গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমাদের শহরে ঘৃণা প্রকাশ পায়, তখন ঘণচউ দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলকভাবে পদক্ষেপ নেয়। আমরা যখন রমজানে প্রবেশ করি, তখন উপস্থিতি এবং অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ থাকে, কেবল ঈদ পর্যন্ত নয়, সারা বছর ধরে। বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পরে রোজা শুরু হয়। এই হিসাবে দেশে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হতে পারে।