০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৪:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


দিল্লিকে অপেক্ষায় রেখে এবার টোকিও সফরে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
দিল্লিকে অপেক্ষায় রেখে এবার টোকিও সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


ভারতকে অপেক্ষায় রেখে আবার এক দেশ সফরেরসূচি তৈরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন, এতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সফরে সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং জ্বালানি, জনশক্তি রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি–সংক্রান্ত একটি সমঝোতা প্রায় প্রস্তুত বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর। এ সফর আলাদা কোনো ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক কূটনৈতিক ছকের অংশ।

সফরের ধারাবাহিকতা

সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে তিনি ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীনে গিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ায় প্রধান এজেন্ডা ছিল শ্রমবাজার। দুই বছর ধরে স্থবির সে বাজার চালুর আশা ছিল প্রবাসীদের। চীনে তিনি সামার দাভোসে অংশ নেন এবং চীনা প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি ছিল। সফর শেষে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাবে সরকারপক্ষ একে সফল বলে দাবি করেছে। 

এরপর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান তিনি, ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেন, আর ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। সেখানে ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিলেও আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য ছিল, ট্রাম্প চিঠিতে বৈঠকের আগ্রহ জানিয়েছেন, তবে সেটি ভবিষ্যতে আলাদা সফরে হবে। 

দিল্লি: নিশ্চিত, কিন্তু তারিখহীন

সবচেয়ে সংবেদনশীল সফরটি ভারতের। নয়াদিল্লি ফেব্রুয়ারিতেই তাঁকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আগস্টে সফরের জোর গুঞ্জন উঠলেও ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ দরকার। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সূত্রে এখন নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের কথা শোনা যাচ্ছে, তবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সফর হবে বলে জানালেও তারিখ ঠিক হয়নি বলেছেন, আর তাড়াহুড়োর দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেছেন। আগস্টের গুঞ্জনে শেখ হাসিনা ইস্যুকে টানাপোড়েনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি এখনও। 

বিশ্লেষণ: কেন জাপান এবং কেন এখন

প্রথমত, জাপান এমন এক অংশীদার যার সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভার তুলনামূলক কম, আবার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বেশি। জ্বালানি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে জাপান দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। শ্রমবাজারও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, যেমনটি মালয়েশিয়া সফরেও ছিল।

দ্বিতীয়ত, ধারাটি ইচ্ছাকৃত ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীন, তারপর যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ, এখন পূর্ব এশিয়ার জাপান। ভারতের সফর তুলনায় সময়সাপেক্ষ, কারণ সেখানে অর্থনীতির চেয়ে রাজনৈতিক শর্ত বেশি। দিল্লির জন্য অপেক্ষার মধ্যে অন্য রাজধানীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো হলে ঢাকার দরকষাকষির অবস্থান শক্ত হয়।

তৃতীয়ত, সফরের মূল্যায়ন হবে ফলাফলে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সত্যিই চালু হয় কি না, চীনের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা কতটা বাস্তবায়িত হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বৈঠক হয় কি না, আর টোকিওর স্মারকগুলো কাগজে থাকে না মাঠে নামে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেবে এই সফর-ঘনত্ব কূটনীতি, না শুধু প্রতীক।

সবশেষ

চার মাসে চারটি গন্তব্য একটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির আত্মবিশ্বাস দেখায়। তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনো বাকি, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জট খোলা। এ সফর নিয়ে প্রতি মুহুর্তেই আলোচনা হচ্ছে। সরকার পক্ষের লোকজনও কুটনৈতিক উত্তর দিচ্ছেন। তবে কখন ওই সফরের জট খুলবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ঢাকার বার্তা নিয়ে দিল্লিতে মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। অনির্ধারিত এই বৈঠকে যোগ দিতে ৫ অক্টোবর সোমবার ঢাকা ছাড়েন তিনি। পরদিন ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে ত্রিবেদী এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করলেন। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকার বর্তমান মনোভাবের বার্তা দিতেই ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি সফর। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকার অবস্থানও তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার রাতে বিমানে করে ঢাকা ছাড়েন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে তার দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদীই প্রথম ভারতীয় হাইকমিশনার, যাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত জুনে তাকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠায় বিজেপি সরকার। ২০২৪ সালে ঢাকায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া টানাপড়েন সামাল দিতে ত্রিবেদীকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাধারণত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ খুব বেশি দেখা যায় না।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এর আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে দিল্লি। বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। এর বাইরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়েও দুই দেশের আলোচনায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ফলে চুক্তির নবায়নও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন