১৪ জুলাই ২০১২, রবিবার, ০৯:৪১:২১ পূর্বাহ্ন


নির্দলীয় তদারকি সরকারের দাবিতে জাগরণ যাত্রা বাম জোটের
বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০১-২০২৩
নির্দলীয় তদারকি সরকারের দাবিতে জাগরণ যাত্রা বাম জোটের


আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সারাদেশে জাগরণ যাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। দুর্নীতি, লুটপাট ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন অবসান, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দর্লীয় তদারকি সরকারের অধিনে নির্বাচন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে একর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জোট কেন্দ্রীয় পরিচালানা পরিষদের এ সভা গত ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, বাসদের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নিখিল দাস, বিপ্লবী কমউিনিস্ট লীগের সম্পাদকম-লীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুর সাত্তার, শামীম ইমাম, রুবেল সিকদার প্রমুখ।

সভায় অপর এক প্রস্তাবে বলা হয় বর্তমান আওয়ামী সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার হরণ করেছে। নাগরিকের মত প্রকাশ, সভা-সমাবেশের অধিকার খর্ব করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রস্তাবে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের অধিনে নির্বাচন, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে সকল বাম-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে জোরদার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে সভা থেকে বলা হয় যে পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-মিছিলের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয় এরই অংশ হিসেবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি যশোরে এবং ঢাকায় আগামী ১৮ মার্চ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সভার এক প্রস্তাবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুত-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান উর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, জনজীবনের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার চরমভাবে ব্যর্থই হয়েছে শুধু নয় দুর্নীতি, ভুলনীতি, সিন্ডিকেট তোষণের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ লুটপাটকারী বাজার সিন্ডিকেটের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে সরকার।

সভায় বলা হয় সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির দায় জনগণ বহন করবে না। প্রস্তাবে অবিলম্বে গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জোর দাবি জানানো হয়।

সভার অপর এক প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার গায়ের জোরে বলে বেড়াচ্ছে দেশে অর্থসংকট-ডলার সংকট নেই; অথচ ডলার সংকটের কারণে এলসি করে ভোগ্য পণ্য আমদানী করা ৫টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে না পারায় ৫৭ দিন ধরে সাগরে ভাসছে, বন্দরে ভিড়ছে না। ইতিমধ্যেই রোজার দুই মাস আগেই পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে, বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে। প্রস্তাবে গলাবাজী না করে সরকারকে দ্রুত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সভার অপর এক প্রস্তাবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, সরকার ও শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির রাজনৈতিক দলসমূহের নতজানু নীতির ফলেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ নাক গলানোর সুযোগ পেয়ে আসছে। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জন্য যা খুবই লজ্জাস্কর।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার ও বিরোধী দল তাদের দেউলিয়া রাজনীতির কারণে গণবিচ্ছিন্ন, তাই জনগণের উপর নির্ভর না করে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা, ভারত, চীন, রাশিয়ার মুখোপেক্ষি হয়ে ক্ষমতায় থাকতে এবং যেতে চায়। প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রপ্রিয় রাজনৈতিক দল ব্যক্তি ও গোষ্ঠিকে সরকারের নতজানু নীতি ও সাম্রাজ্যবাদীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চাার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শেয়ার করুন