১৪ জুলাই ২০১২, রবিবার, ১১:৩২:৫৯ পূর্বাহ্ন


সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের অভিযোগ
‘সরকার আবারও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে’
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৬-২০২৩
‘সরকার আবারও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে’


নির্বাচন আগে বিএনপিকে মাঠ মাঠ ছাড়া করতে সরকার আবার নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

 

তিনি বলেন, ‘‘ আজকে যে মামলাগুলো হচ্ছে মামলাগুলো মিথ্যা এবং আপনি শুনে অবাক হবেন যে, পুরনো যে মামলাগুলো করা ছিলো সেগুলো আবার রিভাইভ করা হচ্ছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের মামলাগুলো দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই- নির্বাচনের আগে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করে দেয়া। বাস্ ওদের কাজ হয়ে গেলো। ক্যান্ডিডেইট যদি না থাকে তখন নির্বাচন কি হবে? আজকে সেই লক্ষ্যে তারা নেমেছে। লক্ষ্য একটাই আবারও বিনা ভোটে জোর করে, কারচুপি করে যেনতেনোভাবে ক্ষমতা দখল করা।”

 

ফখরুল বলেন, ‘‘ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততিই বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে খুন-হত্যা-মিথ্যা মামলা, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মিথ্যা মামলায় নাম ভুক্ত নেতা-কর্মীদের কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে।”

 

‘‘ সরকারের জুলুম নির্যাতন বিভিন্ন

কৌশলে সম্প্রতি বেড়েই চলেছে।”

 

 

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকালে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সাবেক ছাত্র নেতাদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক নরসিংদী জেলার আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন ও সাবেক ছাত্র দল নেত্রী শিরিন সুলতানা আসামী করে ৫০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, ‘‘অতি সম্প্রতি এক ভয়ংকর চক্রান্তমূলক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা ৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক খায়রুল কবির খোকন ও শিরিন সুলতানাসহ নরসিংদীর ৫০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চক্রান্তমূলকভাবে খোকনের নরসিংদীর বাসভবন ও বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়েছে। এই ঘটনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ যোগ সাজসে এবং সমর্থনে কিছু সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে ও পরবর্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মূল লক্ষ্য নরসিংদূ থেকে বিএনপিকে নির্মূল করা ও খোকন, তার ন্যায় একজন ভদ্র, সজ্জন, রাজনীতিবিদকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়া।”

 

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি জেলা কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের ঘটনা বিষযে স্থানীয় থানায় তাতক্ষনিক অভিযোহ দেয়া হলেও জিডি এজহার করতে গেলে কোনো কিছুই পুলিশ গ্রহন করেনি। সর্বশেষ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একজন বিএনপির কার্যালয় অগ্নিসংযোগ ও বোমা মারার বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে স্বীকারোক্তি দিলেও পুলিশ ওই সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেফতার করে নাই এবংকি থানায় কোনো অভিযোগপত্র গ্রহন করে নাই।

 

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা কর্মীদের ওপর হামলা, খোকনের বাড়ি ও জেলা অফিসে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনা সরকারি মদদপুষ্টরা ঘটিয়েছে। আমরা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

 

‘চট্টগ্রামে স্থাপনা ভাংচুর:

ছাত্রলীগ-যুব লীগই করেছে’

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ গতাকাল চট্টগ্রামে তারুণ্যে সমাবেশ ছিলো।সেখানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুবদল-ছাত্রদলের ছেলেরা যখন সেই সমাবেশে আসছিলো পথিমধ্যে ছাত্রলীগ-যুব লীগের ছেলেরা তাদেরকে আক্রমন করে। আক্রমন করলে তারা প্রতিহত করে একত্রিত হয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। সমাবেশ শেষে যখন তারা ফিরে যাচ্ছিল আবারও তাদের ওপর আক্রমন করে।ওইখান থেকে পুলিশ তাদের প্রটেকশন দিয়ে চলে যেতে দেয়।”   আমরা যতটুকু জানতে পেরেছে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছেলেরা তারা নিজেরাই যে সমস্ত স্থাপনা ছিলো সেই সমস্ত স্থাপনা ভাংচুর করে একটা মিথ্যা মামলা সাজিয়ে পুলিশ ৫জন যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করছি।”

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, কামরুজ্জামান রতন, নরসিংদী জেলার সদস্য সচিব মনজুর এলাহী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন