চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশে এক উগ্র সাম্প্রদায়িকতার আস্ফালন চালিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলে দেশকে ’৪৭ এ নিয়ে যেতে চায়। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ ৫ জানুয়ারি সোমবার গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তারেক রহমান, তাঁর পরিবারবর্গ ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাতে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ও আসন্ন নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় সে বিষয়ে আলোচনা করেন।
যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ’২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের পর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশে এক উগ্র সাম্প্রদায়িকতার আস্ফালন চালিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলে দেশকে ’৪৭ এ নিয়ে যেতে চায়।
যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। মুক্তির জনযুদ্ধকে আওয়ামী লীগের দলীয় এবং শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। এখন সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা তথা সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার।
তারেক রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ভিত্তি। ’৭১ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই তো থাকেনা। ফলে আমি এবং আমার দল বিএনপি মনে করে ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০ ও ’২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের এগুতে হবে। আমি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেই আমার বক্তব্যে এটা বলেছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমি বলেছি আমার একটা প্লান আছে। তিনি তার পরিকল্পনায় কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন এবং যদি জনগণের ম্যান্ডেট পান তাহলে বাংলাদেশকে একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেন।’
সাক্ষাতে বিএনপি এবং যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ উভয়ে মনে করেন, মতাদর্শিক পার্থক্য ও ভিন্নমত রাজনীতিতে থাকবে, তার পরেও গঠনমূলক সমালোচনা মত ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। সমালোচনাকারীদের বিগত সরকার যেভাবে ট্যাগিং দিয়ে দেশদ্রোহী ও উন্নয়ন বিরোধী বলে নির্যাতন করতেন ভবিষ্যতে যাতে কেউ সেটা না করতে পারে সে বিষয়েও উভয় নেতৃবৃন্দ একমত পোষণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা এবং ’৭১, ’৯০ ও ’২৪ এর আকাক্সক্ষায় বাংলাদেশকে অগ্রসর করে নেওয়া এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। উভয় নেতৃবৃন্দ আগামী নির্বাচনে যাতে সকলের সমান সুযোগ এবং সুষ্ঠ-গ্রহণযোগ্য হয় তার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।