বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া
বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে (সাবেক কর্মকর্তাদের) গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়। দুই পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিলো স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা। হল ভর্তি অডিটোরিয়ামে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন বেলাল মসজিদের ইমাম মাওলানা আনসারুল করিম আল আজহারি। বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সুম্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং মূলধারার রাজনীতিবিদ আকতার হোসেন বাদল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সবুজ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মৃধা জসীম, আকিকুল ফারুক, জাহিদ ইসলাম সুমন, ইমরান শাহ রন, নূর আমিন, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, যুবদল নেতা শাহবাজ আহমেদ, বিএনপির নেতা এম বাসিত রহমান, প্রফেসর শওকত আলী, খলকুর রহমান, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি, জাফর তালুকদার, তানভীর করিম, জাকির হাওলাদার, শেখ শাহজাহান, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক গোলাম এন হায়দার মুকুট প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলী ইমাম শিকদার, কাজী আজহারুল হক মিলন, সালেহ চৌধুরী, তারেক হাসান খান, আব্দুল খালেক, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছায়েদুল হক, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহফুজুল মাওলা নান্নু, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। তিনিও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মত নির্যাতিত। সুতরাং তার মৃত্যুক্রে আমরা শহীদী মৃত্যু বলতে পারি। তিনি বলেন, বেগম খালেদার প্রত্যাশা ছিলো স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার বিদায়, তিনি তা দেখে যেতে পেরেছেন। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার আত্মা তখন শান্তি পাবে যখন খুনি শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর হলে।
প্রধান বক্তা আকতার হোসেন বাদল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন লেখাপড়া করার জন্য। সেই সাথে বিএনপির রাজনীতি করার জন্য। তিনি বলেন, আমি বেগম খালেদা জিয়াকে বলেছিলাম, প্রবাসে বিমান ও সোনালী এক্সচেঞ্জের কথা। তিনি আমাকে এবং আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানকে দিয়ে। বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ কলেছিলেন তার কাছে দেশ, মাটি এবং মানুষ বড়। সেই সাথে প্রবাসীরা। তিনি ১/১১ এর প্রেক্ষপাট এবং শমসের মমিনদের ষড়যন্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশমাতা চলেন গেছেন, এখন আমাদের উচিত হবে তার প্রত্যাশিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তিনি নেপোলিয়ানের উক্তি- আমাকে সুন্দর একজন মা দেন, আমি একটি সুন্দর জাতি দিবো। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের সেই মা।
গিয়াস উদ্দিন অনুষ্ঠান সফল করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ আমাদের সমাপ্ত করতে হবে।
কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, ১/১১ এর প্রেক্ষাপট এবং বেগম খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগ না করা বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহ সভাপতি আবুল হোসেন বুলবুলের ১৭ সিনেটরের চিঠির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই চিঠি বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশের মানুষকে আশান্বিত করেছিলো।
মোশাররফ হোসেন সবুজ খালেদা জিয়ার জাতিসংঘের সফর এবং তার স্ত্রীর সাথে বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বেগম খালেদার মমতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা একবার উনার জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি সামান্য একটু খাবার নিয়ে বাকিটুকু আমাদের ও অন্যান্যদের খেতে দিয়েছিলেন।
এম এ বাতিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এখন আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ আমাদের মাঝে রেখে গেছেন। সেই আদর্শকে লালন করেই আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
মিলাদ ও দোয়া শেষে গরুর জবাই করে তবারক বিতরণ করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি উত্তর ও মুনার শোক
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সর্ববৃহৎ ইসলামি সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)। গত ৩০ ডিসেম্বর সংগঠনটির ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলায়ার হোসাইন ও ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে এ শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রাম সব গোষ্ঠী ও মতের ঊর্ধ্বে। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
বিবৃতিতে মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসাইন ও ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক সংকটময় সময়ে জাতিকে নেতৃত্ব দেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে এবং বিশেষ করে নারীদেরকে জনজীবনে ও জাতীয় নেতৃত্বে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশি-আমেরিকান সয জনগণ মহান রবের দরবারে দোয়া করছি, আল্লাহ (সুবহানাহু তায়ালা) তার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করুন, তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, প্রিয়জন ও শুভান্যুধায়ীদের ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন। তার জীবনের সব কর্মযজ্ঞ স্মরণীয় হয়ে থাকুক এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করুক এ দোয়াই করছি।
উল্লেখ্য যে, মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা একটি আমেরিকান মুসলিম সংগঠন যা মানবতার সেবার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে নিবেদিত। ১৯৯০ সাল থেকে মুনা ইসলামিক বিশ্বাস, শিক্ষা এবং সামাজিক পরিষেবা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নিজেদের নিয়োজিত করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে আসছে।
বিএনপি উত্তরের দোয়া
নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপি ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার বাংলাবাজার মসজিদে গত ৩০ ডিসেম্বর বাদ মাগরিব নামাজের সময় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে আহবাব চৌধুরী খোকনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল কাশেম এহিয়া।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বাদ মাগরিব নামাজে আদায়কৃত সব মুসল্লি এবং মুসল্লিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ডা. আব্দুস সবুর, আব্দুর রহিম, জাফর তালুকদার, মো. লিয়াকত আলী, শাহ কামাল উদ্দীন, মনিরুজ্জামান মানিক, সোয়েব আহম্মেদ, মোহাম্মদ আলী রাজা, মো. আসাদুজ্জামান, মোমতাজ উদ্দীন, আব্দুর রব কাউসার, মাহবুব চৌধুরী, আব্দুল আওয়াল হেলাল, মোক্তাদির হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স, খন্দকার আব্দুল বাকি, হোসেন ইসলাম মিঠু, মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাচ্চুসহ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রমুখ ।
মাহফিলে দোয়া মাহফিলের আগে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন ডা. আব্দুস সবুর ও নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আহবাব চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়ার বিগত দিনের আপসহীন নেতৃত্বের গুণাবলি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিগত সরকারের আমলে জেল জুলুম মাথায় নিয়ে দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং তার জন্য সকল মুসল্লি ও নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া কামনা করেন আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আহবাব চৌধুরী সবাইকে উপস্থিত হবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মাওলা আবুল কাশেম এহিয়াকে দোয়া মাহফিল পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। সেই সঙ্গে শহীদ জিয়া ও কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেও দোয়া করেন। পাশাপাশি দেশনায়ক তারেক রহমানের সুস্থতা ও দেশের জন্য যেন কাজ করতে পারেন এই দোয়া করেন।
পরিশেষে সভাপতি আহবাব চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করেন।