১২ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, ০২:১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিউ ইয়র্কে অটো বীমা খরচ ও প্রতারণা রোধে ক্যাথি হোচুলের প্রস্তাব বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বড় স্ক্রিনে দেখানো হবে অবৈধ ট্যারিফ ফেরতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পোর্টাল চালু হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর সাদ্দাম সেলিম মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু


১২ সিনেটরের উদ্দেশে কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকানের চিঠি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০১-২০২৪
১২ সিনেটরের উদ্দেশে কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকানের চিঠি ড. মুহাম্মদ ইউনূস


সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সিনেটরের চিঠির বিপরীতে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকানরা। সিনেটর রিচার্ড জে ডার্বিনকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠিতে তারা বলেন, ‘গত ২২ জানুয়ারি অন্য ১১ জন সিনেটরসহ আপনারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে চিঠি লিখেছেন, আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী বাংলাদেশি আমেরিকানরা সে বিষয়ে আমাদের হতাশা প্রকাশ করতে লিখছি।’

উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি রিচার্ড ডারবিনসহ ১২ জন সিনেটর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয় যে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় হয়রানি করা হচ্ছে। অবিলম্বে বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে হয়রানি বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ‘চিঠিটি আপনারা একজন বাংলাদেশি নাগরিক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের মামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দ্বারা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন। যারা দাবি করেছেন, তিনি দেশের শ্রম আইনের অধীনে তাদের কর্মসংস্থান অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের জন্য চিঠিতে আরো সম্মান দাবি করে। কারণ এটি তাকে অভিবাদন দিয়ে শুরু না করে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ করাটা সার্বভৌম সরকারের প্রধানকে সম্বোধন করার ন্যূনতম শিষ্টাচারের বিরুদ্ধে যায়।’

তারা আরো লিখেছেন, ‘চিঠিতে একটি বিদেশী দেশে চলমান বিচারিক মামলার বিষয়ে মন্তব্য করার আগে আরো বোঝার প্রয়োজনীয়তা ছিল। কারণ এর ভাষাকে যুক্তির পরিবর্তে ক্রোধ দ্বারা প্রভাবিত বলে মনে হয়েছে। আমরা উদ্বিগ্ন যে, দেশের আইনপ্রণেতারা দেওয়ানি আদালতের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন এবং আইন আদালতকে সম্মান করছেন না, কিন্তু আদালতের রায়কে নিয়ে নানাভাবে বাহ্যিক প্রভাবের চেষ্টা করছেন।

সিনেটরদের অবস্থানগত সমালোচনা করে চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা আপনাকে এবং অন্যান্য সিনেটরদের গবেষণা করার জন্য এবং প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে সম্মান করার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা আপনাকে একজন শক্তিশালী কর্পোরেট প্রধান ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ না নেওয়ার জন্য এবং তার পরিবর্তে দরিদ্র ও অসহায় সাধারণ কর্মচারী-শ্রমিকদের তাদের আইনি ও আর্থিক অধিকার থেকে বঞ্চিত সমর্থন করার জন্য উৎসাহিত করছি।’

‘মার্কিন মূলধারার মিডিয়া, সিবিএস নিউজ, তাদের অনলাইন সংবাদে যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তার প্রতিফলন আপনাদের চিঠিতে আমরা প্রত্যক্ষ করি, যখন কি না তারা বলেছিল, যেমন ইউনূস পশ্চিমের রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অনেকে মনে করেন এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

চিঠিতে কংগ্রেস অব বাংলাদেশির পক্ষ থেকে সিনেটরদের অনুরোধ করে বলা হয়, ‘আপনি এবং অন্যান্য সিনেটররা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুন, বাংলাদেশ সরকার নয়। প্রয়োাজনে, আমরা আপনাকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং আইনজীবীদের বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন এবং ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত নথি পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা আপনাকে এই চিঠি থেকে আপনার নাম প্রত্যাহার করতে উৎসাহিত করি, যা আমরা মানহানিকর এবং অপ্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা বলে বিবেচনা করি।’

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেম অব বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, শামীম চৌধুরী, মঞ্জুর চৌধুরী, ড. প্রদীপ রঞ্জন করসহ আরো ৩৪ আমেরিকান বাংলাদেশি।

শেয়ার করুন