২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৮:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন


সেরা অভিনেতা শাকিব, অভিনেত্রী তমা, সঙ্গীতশিল্পী তাহসান-আতিয়া
ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড : লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড পেলেন আহমেদ শরিফ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৭-২০২৪
ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড : লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড পেলেন আহমেদ শরিফ পুরস্কার পেয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ এবং (ডানে) পুরস্কার হাতে আহমেদ শরীফ ও জায়েদ খান


সারাদিন ধরে টপ টপ বৃষ্টি। কখনো জোরে, কখনো মৃদু। আবহাওয়ার এই বেরসিক খেলায় নিশ্চয় আয়োজকের মন খারাপ থাকার কথা। কিন্তু তা হয়নি। বৃষ্টির বাধাকে উপেক্ষা করে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আয়োজন ছিল চমৎকার। লাইটিং ছিল চোখ ধাঁধাঁনো। তবে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনার অভাব লক্ষ করা যায়। ঢাকা থেকে এতোগুলো নামীদামি শিল্পীর সমাগম চাট্টিখানি কথা নয়। এটা সম্ভব শো-টাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলমের কারণে। তিনি বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে ভিন দেশে তুলে ধরার প্রত্যয়ে আজ থেকে একুশ বছর আগে এই সম্মানসূচক এবং কাজের স্বীকৃতির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। শত বাধাবিপত্তি এবং পারিপার্শ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি প্রতি বছর এই আয়োজন করে যাচ্ছেন। অনেকেই হয়তো সমালোচনা করেন, কিন্তু এ বিশাল যজ্ঞ সামাল দেওয়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। একজন বা দুইজন শিল্পী এনে হয়তো অনুষ্ঠান করতে পারবেন, কিন্তু ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অসম্ভব। তা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগত, টিভি অভিনেতা, অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পীদের নিয়ে এতো বড় অনুষ্ঠান প্রবাসে আর কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান সে তো অন্যকথা। আলমগীর খান আলমের তুলনা সে নিজেই। ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যেসব শিল্পী এসেছেন, অতিথি যারা ছিলেন তারা সবাই আলমগীর খান আলমের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, এটা আলমগীর খান আলমের পক্ষেই সম্ভব। তিনিই প্রবাসে দেশে কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন।

ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল গত ৩০ জুন জ্যামাইকার আমাজোরা হলে। সন্ধ্যা থেকেই লোকজন গেটে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে পড়েন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। ছিল অ্যাওয়ার্ড বিতরণ, গান, গল্প, নৃত্য পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জিনাত জাহান মুন্নি এবং আলমগীর খান আলম। অ্যাওয়ার্ড নেওয়ার পাশাপাশি শিল্পীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। আবার কোনো কোনো অভিনেত্রী কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন। তাদের এ প্রশ্নের উত্তর কী দর্শকদের মন ভোলে? নিশ্চয় না। উচিত ছিল এসব অভিনেত্রীকে দিয়ে নাচ করানো। তারা অনুষ্ঠানে এসে অ্যাওয়ার্ড নেবেন, কোনো পারফরমেন্স করবেন না, তাকে কী করে হয়। আশা করি আয়োজকরা বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় অভিনেতা আহমেদ শরীফকে। তিনি অবশ্যই তার একটি সিনেমার ডায়ালগ দিয়েছেন। বলেছেন, প্রবাসে থাকা কত কষ্টের। বলেছেন, আসলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশকে ভালোবাসেন। তারপরও নানাবিধ কারণে প্রবাসে থাকতে হয়, আমিও আছি। অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি জীবনে চুরি করেছেন? থমকে দাঁড়লেন। বললেন, সত্য বললে বলতে হয়। আমি চুরি করেছি। তবে পাল্টা প্রশ্ন করা যাবে না, কী চুরি করেছেন। উপস্থাপিকা দর্শকদের কথা বলে পাল্টা সেই প্রশ্নটিই করলেন। উত্তরে বললেন, দর্শকদের মন চুরি করেছি। তারপর একটি গানের কয়েকটি লাইন পরিবেশন করেন। পরিবেশন করার আগে বললেন, আসলে আমি শিল্পী নই, বাথরুম সিংগার। অভিনেতা তানজিন তিশাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রবাসী দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের জন্যই আমি শিল্পী। অভিনেতা জায়েদ খান, চঞ্চল চৌধুরীও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে তাহসান এবং লায়লান গান সবাইকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে তাহসান তো তরুণ প্রজন্মকে নাচিয়ে ছাড়েন। অসাধারণ ছিল তার পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে যাদের অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় তারা হলেন-বেস্ট সিংগার (পুরুষ) তাহসান, বেস্ট সিংগার (মহিলা) আতিয়া আনিসা, বেস্ট কমেডিয়ান নজরুল ইসলাম, বেস্ট টিভি অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী, ওয়েব সিরিজ তাসনিয়া ফারিণ, ওয়েব চলচ্চিত্র নিখোঁজ, বেস্ট টিভি অভিনেত্রী পপুলার ক্যাটাগরি তানজিন তিশা, বেস্ট চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পপুলার ক্যাটাগরি মন্দিরা চৌধুরী, বেস্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খান (প্রিয়তমা), অভিনেত্রী তমা মির্জা (সুড়ঙ্গ), বেস্ট ডিরেক্টর রায়হান রাফি (সুড়ঙ্গ), হিমেল আশ্রাফ (প্রিয়তমা), বেস্ট টিভি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, রাইজিং সিংগার অ্যাওয়ার্ড (নর্থ আমেরিকা) নিপা জামান, অনিক রাজ, বেস্ট সিংগার রানো নেওয়াজ, ফোক সংগীত বিন্দু কনা, সুলতানা লায়লা, স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড দর্শনা বনিক, অভিনেতা জায়েদ খান, এন্টারটেইনার শাহ নেওয়াজ, এন্টারপ্রেনিয়র নাসির সবুজ, প্রিসিলা।

অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ, আশা হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট আকাশ রহমান, খলিল বিরিয়ানির প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট আইন উপদেষ্ট এন মজুমদার, গ্রিই ম্যাকানিক্যালের প্রেসিডেন্ট তোফায়েল চৌধুরী লিটন, কাজী লিটন, শো-টাইমের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলম, বেলাল চৌধুরী, সরওয়ার, রায়হান জামান প্রমুখ।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম ফজলুল হক, শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহ জে চৌধুরী, লায়ন্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, হাসান জিলানী, ইশতিয়াক রুমি, আব্দুর রশিদ বাবু, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি শেষে আগামী ১৩ জুলাই বাফেলোতে অনুষ্ঠিতব্য ঢালিউড অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানান এবং ২০২৫ সালে অরল্যান্ডোতে শোর কথা জানান।

শেয়ার করুন