২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৭:৩৬:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতা রোধে প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রচন্ড তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প


যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানরা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাবে না
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-১২-২০২৪
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানরা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাবে না প্রতীকী ছবি


যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানরা আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী নাগরিকত্বের বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব ব্যক্তি নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। এ ব্যতিক্রম হচ্ছে, বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অধিক্ষেত্রের আওতায় না থাকার কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না।

যদি কোনো কূটনীতিকের সন্তান ভুলবশত বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার সেই নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। উদাহরণস্বরূপ মিথ্যা তথ্য দিয়ে যদি কোনো শিশু জন্মসনদপত্র বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট নিয়ে থাকে। মার্কিন সরকার চাইলে সেটি বাতিল করতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি মিশন অফিস (ওএফএম) এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। যদি সরকারি ভুলের কারণে তাদের পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা সংশোধন বা বাতিল করা হয়। যদি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, কূটনীতিকের সন্তান ভুলবশত নাগরিকত্ব পেয়েছে, তখন তাকে নাগরিকত্ব বাতিল করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি ও দস্তাবেজ জমা দিতে হয়, যা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে। এছাড়া আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছে এবং তাদের কূটনৈতিক ইমিউনিটি হারিয়েছে বা তা ত্যাগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানদের সংখ্যা নির্ধারণ করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ এ তথ্য সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশিত হয় না। তবে কিছু সূত্র থেকে ধারণা পাওয়া যায়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ বিদেশি সরকারের প্রতিনিধি অবস্থান করছেন। এই ১ লাখ প্রতিনিধির মধ্যে কূটনীতিক, কনস্যুলার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। তবে তাদের মধ্যে কতজনের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বা বসবাস করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কূটনীতিকদের সন্তানদের নাগরিকত্বের বিষয়টি বেশ জটিল এবং এটি বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মের ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানদের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা নিয়ে অনেক জটিল আইনগত দিক রয়েছে। এসব সন্তানের নাগরিকত্বের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন এবং মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কূটনীতিকদের সন্তানরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক অধিক্ষেত্রের আওতায় পড়েন না। কারণ তাদের পিতামাতা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কূটনৈতিক সুবিধা উপভোগ করেন। তবে এ সন্তানেরা কীভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারে, তার একটি সুস্পষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা হয়েছে, বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানরা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন না। কারণ তাদের পিতা-মাতা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক অধিকারীর আওতায় থাকেন না। এদের জন্য নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে তাদেরকে আইন অনুযায়ী বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এই সন্তানের জন্য আইনগতভাবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জন সম্ভব। তবে তা স্বেচ্ছায় নিবন্ধিত হতে হয়। অর্থাৎ তারা যদি চান, তবে তারা মার্কিন সরকারের কাছে স্থায়ী বাসিন্দার রেকর্ড তৈরি করতে আবেদন করতে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘ব্লু লিস্ট’ বা কূটনৈতিক তালিকায় যেসব বিদেশি কূটনীতিকের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাদের সন্তানদের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য। কূটনীতিকদের মধ্যে থাকে রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, কাউন্সেলর, সেক্রেটারি, আক্রম্ভী এবং অন্যান্য কূটনৈতিক পদাধিকারী যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত। এছাড়া জাতিসংঘ বা আমেরিকান রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সন্তানদেরও এই নিয়ম অনুসৃত হয়।

তবে যদি কূটনীতিক অফিসারের বাইরে অন্য কোনো বিদেশি সরকারের কর্মকর্তার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার থাকে। যেমন যদি কোনো কূটনীতিকের সন্তান না হয়ে, একজন বিদেশি কনস্যুলার কর্মচারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন, তবে সে শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে।

যেহেতু কূটনীতিক পিতা-মাতার সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায় না, তারা স্থায়ী বাসিন্দার রেকর্ড তৈরি করতে চাইলে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য সন্তানের বয়স, তাদের পিতা-মাতার কূটনৈতিক মর্যাদা এবং স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়। একবার নিবন্ধিত হলে, তাদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্তির সুযোগ দেওয়া হয়। নাগরিকত্ব বজায় রাখতে হলে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বাসস্থান প্রমাণ করতে হবে এবং তাদের কোনো অবস্থান পরিবর্তন না করার শর্তে আবেদন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও সেটা তাদের স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদার ওপর প্রভাব ফেলেনি।

শেয়ার করুন