০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১০:১৮:৩৪ অপরাহ্ন


নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা শাহ আলমের মর্মান্তিক মৃত্যু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৩-২০২৬
নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা শাহ আলমের মর্মান্তিক মৃত্যু দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নূরুল আমিন শাহ আলমের লাশ


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৫৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তার ২০২৫ সালের গ্রেফতারের আগ মুহূর্তের পুলিশ বডি-ক্যাম ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে বাফেলোর ডাউনটাউন এলাকার পেরি স্ট্রিট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তার লাশ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তির পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে টিম হর্টনস নামের একটি বন্ধ কফি শপের সামনে নামিয়ে রেখে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শাহ আলমকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয়। প্রকাশিত নতুন বডি-ক্যাম ফুটেজে সেই ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে, যার পর তিনি এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। পুলিশ রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটের একটি বাসার আশপাশে অপরিচিত একজন ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করেছেন-এমন অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। পরে ওই ব্যক্তিকে নুরুল আমিন শাহ আলম হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বডি-ক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুই পুলিশ কর্মকর্তা তার দিকে এগিয়ে গেলে শাহ আলমের হাতে সরু লাঠির মতো বস্তু ছিল। কর্মকর্তারা বারবার সেটি মাটিতে ফেলে দিতে নির্দেশ দেন। পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, “নিচে রাখুন! নিচে রাখুন! মাটিতে ফেলুন!

এক পর্যায়ে তিনি লাঠিটি মাটিতে ঠেকালেও পুরোপুরি ছাড়েননি এবং পরে সেটি কর্মকর্তাদের দিকেই নাড়াতে থাকেন। তখন দুই কর্মকর্তা টেজার ব্যবহার করেন। একটি টেজার তার শরীরে লাগলেও তেমন কার্যকর হয়নি এবং অন্যটি বিকল হয়ে যায় বলে ফুটেজে দেখা যায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে এনে হাতকড়া পরান। ধস্তাধস্তির সময় তিনি দুই কর্মকর্তাকে কামড় দেন বলে পুলিশ জানায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় তাকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়তে শোনা যায়।

স্ট্রেচারে তোলার পর কর্মকর্তারা তার শরীর থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে ভাষাগত সমস্যার কারণে পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে তাকে কেবল ওকে এবং আই লাভ ইউ বলতে শোনা যায়। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এক কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “সে আহত হতে পারে। কতটা গুরুতর জানি না। চারটি টেজার লাগার পরও সে রড নিয়ে আমাদের দিকে আসছিল। অল্পের জন্য গুলি করা হয়নি।”

শেষ পর্যন্ত শাহ আলমের বিরুদ্ধে হামলা, অনধিকার প্রবেশ এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়-যেখানে তার ব্যবহৃত পর্দার রডকেই অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আইনজীবীদের মতে, তাকে এরি কাউন্টি হোল্ডিং সেন্টারে নেওয়ার পরই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করে। ভিডিওর শেষ অংশে জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মীদের তাকে এরি কাউন্টি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

তবে আইনজীবী ম্যাকালুসো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মক্কেল কাউকে আক্রমণ করতে চাননি; বরং কুকুর ও চারপাশের হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিতে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।

সেদিন যা ঘটেছিল

২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সকালে নুরুল আমিন শাহ আলম বাফেলোর ওয়েস্ট সাইডে অবস্থিত নিজের বাসা থেকে হাঁটতে বের হন-এমন তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী ও বাফেলো পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ আলম, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শরণার্থী হিসেবে বাফেলোতে এসে বসবাস শুরু করেন এবং তারা বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তীব্র শীতের কারণে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকার পর সেদিন রোদেলা আবহাওয়া দেখে তিনি একটু হাঁটার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হন। হাঁটার জন্য একটি লাঠির প্রয়োজন হওয়ায় হাতে থাকা ২০ ডলার দিয়ে বাসার কাছের একটি দোকান থেকে তিনি একটি পর্দার রড (কার্টেন রড) কিনেছিলেন বলে জানান তার আইনজীবী লিগ্যাল এইড ব্যুরোর অ্যাটর্নি বেঞ্জামিন ম্যাকালুসো। পরে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে শাহ আলম বাসায় ফেরার চেষ্টা করেন, তবে পথ হারিয়ে ফেলেন বলে জানান ম্যাকালুসো। সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে তিনি রিভারসাইড এলাকার টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটের ৫০০ ব্লকের একটি বাড়ির পেছনের উঠানে ঢ়ুকে পড়েন।

আইসের আটক নিয়ে ভয় ছিল পরিবারের

এরিক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল কিনের কার্যালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের জন্য গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হতে চার মাস সময় লাগে। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে শাহ আলমের জামিন নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ডলার। তবে পরিবার আশঙ্কা করছিল, জামিনে মুক্তি পেলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করতে পারে। সে কারণে পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে জেলেই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে নিয়মিত দেখা করতে পারে-এমনটাই জানান তার আইনজীবী বেঞ্জামিন ম্যাকালুসো।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু খালেদা শাহও নিশ্চিত করেন, গত বছর জামিনে মুক্তি পেলে শাহ আলমকে আইস আটক করতে পারে-এই ভয়েই পরিবার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তী কয়েক মাস ধরে মামলার শুনানি চলতে থাকে এবং মামলাটি বিচারের কাছাকাছি পৌঁছে যায় বলে জানান ম্যাকালুসো। অবশেষে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় শাহ আলমকে একটি প্লিয়া ডিল (দোষ স্বীকারের বিনিময়ে সমঝোতা) প্রস্তাব করে।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল কিন এক বিবৃতিতে বলেন, “তার আচরণ, পূর্ব অপরাধের ইতিহাস, দায় স্বীকার, শারীরিক অবস্থা, বিচারপূর্ব আটক অবস্থায় কাটানো সময় এবং মামলার সম্ভাব্য নিষ্পত্তি-সবকিছু বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে বাধ্যতামূলক বহিষ্কারের মতো গুরুতর পরিণতিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”

শাহ আলম শেষ পর্যন্ত দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন-অনধিকার প্রবেশ এবং মিসডিমিনার পর্যায়ের অস্ত্র রাখার অভিযোগ, যেখানে তার ব্যবহৃত পর্দার রডকেই অস্ত্র হিসেবে ধরা হয়। তার ইমিগ্রেশন আইনজীবী সিয়ানা ম্যাকলিন জানান, এসব অভিযোগ আইসের মাধ্যমে আটক বা বহিষ্কারের মতো গুরুতর পদক্ষেপের উপযুক্ত ছিল না। তিনি বলেন, মুক্তির আগে সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের আইনজীবীরাও একমত হন যে মুক্তির পর শাহ আলমকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়,“এই অভিযোগে দোষ স্বীকার করার ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের যোগ্য করে তোলে না।” তবে মুক্তির সময় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, বর্ডার পেট্রোল কর্মকর্তারা সহজেই বুঝতে পারতেন যে তাকে বহিষ্কারযোগ্য নয়, কিন্তু তার আসন্ন মুক্তি সম্পর্কে কাউকে জানানো হয়নি।

পরিবারের বন্ধু খালেদা শাহ বলেন, “তাদের কাছে আমাদের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য ছিল। তাহলে তাকে সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলো না কেন? অথবা আবার হোল্ডিং সেন্টারে ফিরিয়ে দেওয়া হলো না কেন? টিম হর্টনসের সামনে কেন রেখে যাওয়া হলো? শাহ আলম বর্ডার পেট্রোলের হেফাজতে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তার আইনজীবীরা ধারণা করেছিলেন, আইস তাকে বাটাভিয়ার একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাবে, সেখান থেকেই তাকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি ছিল। এরি কাউন্টি শেরিফ অফিসের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার হরভাটিটস জানান, জেল থেকে মুক্তির পর শাহ আলমকে হেফাজতে নিতে বর্ডার পেট্রোলই অনুরোধ করেছিল। বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু পর বর্ডার পেট্রোল এজেন্টরা হোল্ডিং সেন্টার থেকে তাকে নিয়ে যায়।

সেদিন পরিবারের সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হোল্ডিং সেন্টারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আশায়। ইমিগ্রেশন আইনজীবী ম্যাকলিনের মতে, শেরিফ অফিসের বর্ডার পেট্রোলকে ডাকার সিদ্ধান্তটি ছিল গুরুতর ভুল। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-আসলে শুরুতেই কি তাকে বর্ডার পেট্রোলের কাছে দেওয়ার কথা ছিল? কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোলের মুখপাত্র মাইকেল নিয়েজগোদা জানান, হেফাজতে নেওয়ার পর কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে শাহ আলমকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণযোগ্য নয়। এরপর তাকে সৌজন্য হিসেবে একটি গাড়িতে করে কাছাকাছি একটি কফি শপে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা তিনি গ্রহণ করেন। নিয়েজগোদার দাবি, নায়াগ্রা স্ট্রিটের ওই টিম হর্টনসকে তার সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানার কাছাকাছি “উষ্ণ ও নিরাপদ স্থান” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে ওই কফি শপ তখন বন্ধ ছিল-শুধু ড্রাইভ-থ্রু সার্ভিস চালু ছিল। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-আসলে শুরুতেই কি তাকে বর্ডার পেট্রোলের কাছে দেওয়ার কথা ছিল?

গ্রেফতার থেকে মুক্তি পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়

এদিকে, ইনভেস্টিগেটিভ পোস্টের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বর্ডার পেট্রোলের একটি ভ্যান থেকে শাহ আলমকে নামিয়ে দেওয়ার পর তিনি ড্রাইভ-থ্রু জানালার পাশ দিয়ে হাঁটছেন। পরে তাকে বন্ধ থাকা প্রথম দরজার সামনে কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি পার্কিং লট পেরিয়ে পাশের একটি ফ্যামিলি ডলার স্টোরের দিকে হেঁটে যান। তাকে নামিয়ে দেওয়ার মাত্র এক মিনিট পরই ভ্যানটি সেখান থেকে চলে যায়।

এদিকে গ্রেফতার থেকে মুক্তি পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে শাহ আলমের পরিবার বাফেলোর ইস্ট সাইডের ব্রডওয়ে-ফিলমোর এলাকায়, প্রায় পাঁচ মাইল দূরে নতুন বাসায় চলে যায়।

আইনজীবী বেঞ্জামিন ম্যাকালুসো জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পুরো দিন তিনি বাটাভিয়ায় তার মক্কেলকে খুঁজেছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সপ্তাহান্তজুড়ে বাফেলোর বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি তাদের আগের বাসার আশপাশেও অনুসন্ধান চালানো হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়, যখন স্পেশাল ভিকটিমস ইউনিটের ডিটেকটিভ রিচার্ড হাই পুরোনো আইস ডিটেইনার তথ্য দেখে ভুলবশত মামলাটি বন্ধ করে দেন। চার ঘণ্টা পর বিষয়টি বুঝতে পেরে আবার মামলাটি পুনরায় চালু করা হয়।

শাহ আলমের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর হতাশা ও শোক প্রকাশ করেছেন তার ইমিগ্রেশন আইনজীবী সিয়ানা ম্যাকলিন। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামান্য মানবিকতা দেখানো হলে হয়তো আজ আমরা এই অবস্থায় আসতাম না।” ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জানাজা ও দাফন শেষে শাহ আলমের পরিবারের বন্ধু ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন।

কবরস্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরিবারের বন্ধু খালেদা শাহ জানান, শাহ আলমের তিন ছেলে এখনো মিয়ানমারে রয়েছেন। বাফেলোতে থাকা বড় ছেলে কেবল খণ্ডকালীন চাকরি করেন। পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং সহায়তার প্রয়োজন। খালেদা শাহ বলেন,“তারা শরণার্থী ছিল। একটি নিরাপদ ঘরের খোঁজে এখানে এসেছিল-কিন্তু সেই ঘরই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন কেড়ে নিল।”

শেয়ার করুন