১২ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৫:৫৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা এক ফোটা রক্তেই মিলবে ৫০ ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের


৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার কনি আইল্যান্ডের আপনা অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার


নিউ ইয়র্ক স্টেটের মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে পাকিস্তানি-আমেরিকান কমিউনিটির একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ব্রুকলিনভিত্তিক দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই কথিত জালিয়াতির ঘটনাটি এখন নিউ ইয়র্কের অন্যতম আলোচিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণা মামলায় পরিণত হয়েছে। আদালতে প্রদত্ত ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রুকলিনের এপনা অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার এবং আশিয়ানা সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মেডিকেইড জালিয়াতি করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এমন ব্যক্তিদের নামে মেডিকেইড বিল জমা দিয়েছেন যারা হয় কখনো এসব কেন্দ্রে যাননি, অথবা খুব কম সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতা ও ১৫ টি ফার্মেসির মালিক ব্রুকলিন কমিউনিটি বোর্ড-১৩-এর সদস্য পারভেজ সিদ্দিকী, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শাজিয়া বিবি (ওরফে শাজিয়া ওয়াত্তু), আবদুল আজিজ, শায়ের আলী, জেবুন আহমেদ, জোসনা বেগম, সাইরা খাতুন এবং আতিয়া শাহনাজ। গত ১৮ জুনে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয় এবং পরে নিউ ইয়র্ক ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা নিম্ন আয়ের এলাকায়, সরকারি আবাসন প্রকল্পে, বাসস্টপে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের আশপাশে ঘুরে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের খুঁজে বের করতেন। এরপর তাদের অথবা তাদের পরিবারের সদস্যদের মাসিক নগদ অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডে কেয়ার কর্মসূচিতে নিবন্ধিত করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, অনেক পরিবার শুধুমাত্র তাদের মেডিকেইড নম্বর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে কয়েকশ ডলার করে পেতো।

ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নামে ডে কেয়ার সেবা প্রদানের ভুয়া দাবি দেখিয়ে মেডিকেইড থেকে কোটি কোটি ডলার আদায় করা হয়েছে। এসব দাবির পক্ষে উপস্থিতির তালিকা, সাইন-ইন শিট এবং অন্যান্য নথিপত্র জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিতির সংখ্যা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরো জোরালো করেছে।

মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো কথিত অর্থপাচারের কৌশল। তদন্তকারীদের মতে, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং লেনদেনের বিবরণে গিফট, ডিভিডেন্ড, মেডিসিন এবং লাড্ডুর মতো শব্দ ব্যবহার করে প্রকৃত অর্থপ্রবাহ গোপন করা হয়। বিশেষ করে ‘লাড্ডু’ শব্দটির পুনরাবৃত্ত ব্যবহারের কারণে স্থানীয় গণমাধ্যমে মামলাটি ‘লাড্ডু পেমেন্টস স্ক্যাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। লাড্ডু সাউথ এশিয়ান কমিউনিটিতে মিষ্টি নামে পরিচিত।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ আরো অভিযোগ করেছে যে বিলিং এবং প্রশাসনিক কাজের একটি অংশ পাকিস্তানভিত্তিক কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এর ফলে অর্থের লেনদেন ও কার্যক্রমের কিছু অংশ আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হয়, যা তদন্তকে আরো জটিল করে তোলে।

তদন্তে আরো জানা গেছে, কিছু সুবিধাভোগীর নামে মেডিকেইড বিল করা হলেও তারা সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি পাকিস্তান, মরক্কো এবং অন্যান্য দেশে বসবাস করলেও তাদের নামে নিয়মিত মেডিকেইড দাবি জমা দেওয়া হয়েছে এবং অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

ফেডারেল অনুসন্ধান পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পর কয়েকজন অভিযুক্ত কর্মচারীদের নতুন মোবাইল ফোন সংগ্রহ করতে এবং পুরোনো ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি চলমান তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। পারভেজ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির পাকিস্তানি-আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ। তিনি একাধিক ফার্মেসির মালিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ আনেনি।

মামলাটি নিউ ইয়র্কের অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার শিল্পে চলমান বৃহত্তর দুর্নীতি ও জালিয়াতি তদন্তের অংশ বলে জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিউ ইয়র্কে একাধিক মেডিকেইড জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে কিকব্যাক, ভুয়া বিলিং এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধার এবং জালিয়াতির পূর্ণ পরিধি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ফেডারেল আইন অনুযায়ী আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

শেয়ার করুন