শাইমা আলজুবি
টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল শাইমা আলজুবি তার নিয়োগ বাতিল ও প্রিন্সিপাল পদ থেকে সরিয়ে ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ডিপার্টমেন্ট অব পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্কুল চয়েসে পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি গত ১৮ জুন নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ ডিভিশনে দায়ের করা হয়। ১৫ পৃষ্ঠার এ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ধর্মীয়-জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে অনলাইন চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা অধিকার বা ইক্যুয়াল প্রোটেকশন ক্লজ লঙ্ঘন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে শাইমা আলজুবিফোর্ট ওয়ার্থে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলেশিক্ষক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি রসায়ন শিক্ষক, ফ্রেশম্যান সাকসেস কোচ এবং পরে সহকারী প্রিন্সিপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গত ২২ মে তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং তার এক বছরের চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। তবে মাত্র চার দিনের মধ্যে গত ২৬ মে স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ তাকে পদ থেকে সরিয়ে অস্থায়ীভাবে পুনঃনিয়োগ করে ফোর্ট ওয়ার্থ আইএসডির ডিপার্টমেন্ট অব পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্কুল চয়েসে স্থানান্তর করে। একই দিনে তার নিয়োগসংক্রান্ত অনলাইন ঘোষণা সরিয়ে ফেলা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত কোনো পেশাগত দুর্বলতা বা শৃঙ্খলাজনিত কারণে নয়, বরং অনলাইন হেকারদের চাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পুরনো পোস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া জনরোষের ফল। অভিযোগ অনুযায়ী, এ অনলাইন প্রতিক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল তার মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হওয়া। মামলায় দাবি করা হয়েছে, তাকে উদ্দেশ্য করে অনলাইনে অ্যান্টি-মুসলিম ও অ্যান্টি-প্যালেস্টাইনিয়ান প্রচারণা চালানো হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের মধ্যে ছিল ফিলিস্তিন সমর্থনকারী ছবি, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ফিল্টারসহ পোস্ট, ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) সমর্থনসূচক পোস্ট এবং শারিয়া আইন সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট। এসব পোস্ট তার ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বহু বছর আগে করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরো বলা হয়েছে, নিয়োগের পরই ২৬ মে সকালে তাকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট লকডাউন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে তাকে জানানো হয় যে তার সোশ্যাল মিডিয়া ইতোমধ্যে নিয়োগের আগে যাচাই করা হয়েছিল এবং কোনো সমস্যা ছিল না। এরপর তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশন কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল নতুন প্রিন্সিপাল ওরিয়েন্টেশন, লিডারশিপ সামিট, নিয়োগ প্রস্তুতি বৈঠক এবং মাস্টার শিডিউল তৈরির কাজ, যা তার নতুন দায়িত্ব শুরু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মামলায় বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে স্কুল জেলা একটি তদন্ত শুরু করে এবং তাকে জানানো হয় যে তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো হেকলার্স ভেটো নীতি প্রয়োগ, যেখানে অনলাইন জনমতের চাপের কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে, যা সংবিধানবিরোধী বলে দাবি করা হয়েছে। শাইমা আলজুবির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ছিল, কর্মঘণ্টার বাইরে ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে করা হয়েছিল এবং এগুলো রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে নাগরিক মতপ্রকাশের অংশ। তাই এগুলো ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট অনুযায়ী সুরক্ষিত বক্তব্য।
ইক্যুয়াল প্রোটেকশন ক্লজ অনুযায়ী মামলায় বলা হয়েছে, একই ধরনের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ যেমন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) বা কোভিড-১৯ নীতি সমর্থন অন্য শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এটি বৈষম্যমূলক আচরণের ইঙ্গিত বহন করে।
মামলায় আরো বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কাল, অনলাইন প্রতিক্রিয়ার দ্রুত বিস্তার এবং তার পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এসব মিলিয়ে এটি পূর্বপরিকল্পিত ও পক্ষপাতমূলক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়। আলজুবি আদালতের কাছে তার পূর্বের প্রিন্সিপাল পদে পুনর্বহাল, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, জুরি ট্রায়াল এবং আইনজীবী খরচ প্রদানের আবেদন করেছেন। ফোর্ট ওয়ার্থ আইএসডি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে কোনো বিস্তারিত জবাব দেয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনাধীন। এ মামলা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ধর্মীয় পরিচয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনলাইন জনমতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।