২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৩:০৭:৪৩ অপরাহ্ন


বাইডেন-ট্রাম্প নির্বাচনী যুদ্ধের জন্য ভয়ংকর সাতটি স্টেট
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৬-২০২৪
বাইডেন-ট্রাম্প নির্বাচনী যুদ্ধের জন্য ভয়ংকর সাতটি স্টেট জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৫ নভেম্বর। আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি। সবার নজর এই সাতটি সুইং স্টেটের দিকে। বাইডেন-ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ভর বরছে এই সাতটি স্টেটের ওপর। এই স্টেটগুলো হলো-অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিন। বাইডেন ২০২০ সালে নর্থ ক্যারোলিনা ব্যতীত সব স্টেটে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, এই স্টেটগুলোতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে আছেন।

অ্যারিজোনা

২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন অ্যারিজোনা স্টেটে শতকরা এক তৃতীয়াংশ পয়েন্টে জিতেছেন। এটি ৯০-এর দশকের পর থেকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে প্রথম ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্টের জয় ছিল।

কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্প এখন অ্যারিজোনায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে প্রায় ৬ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। অ্যারিজোনার ভোটারদের সীমান্তের আশপাশের অভিবাসন সমস্যাগুলো নভেম্বরে ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে মূল ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে দিকে ডেমোক্র্যাটরা ১১টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট দখলের জন্য গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন স্টেটের দিকে তাকিয়ে আছে। যেখানে গর্ভপাতের অধিকার সম্পর্কিত ইস্যুগুলো ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোটদানকে উৎসাহী করতে পারে। 

জর্জিয়া

প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০২০ সালে ট্রাম্পকে ১২ হাজারেরও কম ভোটে পরাজিত করে কয়েক দশক পর লাল স্টেট জর্জিয়াতে প্রথমবারের মতো নীল স্টেটে পরিণত করেছিলেন। পিচ স্টেটে পুনরায় নির্বাচনী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত এই জুটি। ২০২৪ নির্বাচনে ব্যালট রেস যেভাবে চার বছর আগে বাইডেনকে নির্বাচিত করতে উৎসাহিত করতে সহায়তা করেছিল ব্যাপক ডেমোক্র্যাটদের ভোটদানে কোনো আগ্রহ নেই। নভেম্বরে জর্জিয়ার টেবিলে ১৬ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। ডিডিএইচকিউ/দ্য হিলের সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্প বাইডেনের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। জরিপে বাইডেন ৪৩ শতাংশের কাছাকাছি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪৯ শতাংশে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প ১০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন এবং সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ২০২০ সালে জর্জিয়ানরা ডেমোক্র্যাট জন অসফকে স্টেটের প্রথম ইহুদি সিনেটর এবং রেভারেন্ড রাফেল ওয়ার্নককে রাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।

এই বছর প্রাইমারি নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়েছে। প্রাক্তন জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জিওফ ডানকান (আর) আগামী নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে সমর্থনকারী কয়েকজন বিশিষ্ট রিপাবলিকানদের একজন। তিনি সহকর্মী রিপাবলিকানদের ট্রাম্পের সঙ্গে সারিবদ্ধ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই নভেম্বরে পিচ রাজ্যে তার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে সক্ষম হবেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

মিশিগান

মিশিগানে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০২০ সালে প্রায় ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। বর্তমানে প্রগতিশীল এবং আরব আমেরিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন উল্লেখযোগ্যভাবে ধাক্কা খেয়েছেন। আরব আমেরিকানরা বাইডেনকে ২০২০ সালে বিজয়ী করতে সাহায্য করেছিল। এ বছর প্রাইমারিতে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর আরব আমেরিকানদের সমালোচনামূলক ভোট ব্লকটি তার কলামে ফিরে আসবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আরব আমেরিকানদের ভোট ছাড়া প্রেসিডেন্ট বাইডেন কোনোভাবে মিশিগান স্টেটে জয়লাভ করতে পারবেন না। ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে গ্রেট লেক স্টেটে ভ্রমণ করেছেন। মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার লাভোরা বার্নস বলেছেন যে, এই সফরটি ‘মিশিগানের মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করছে। দ্য হিলের জরিপের গড় অনুসারে মিশিগান স্টেটে ট্রাম্পের ভোট ৪ পয়েন্ট বেড়েছে। মিশিগানে ১৫টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।

নেভাদা

অ্যারিজোনার সঙ্গে নেভাদা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে হাই বোল্ড সুইং স্টেট হতে পারে। উভয় রাজ্যে উল্লেখযোগ্য ল্যাটিনো জনসংখ্যা রয়েছে। কারণ উভয় প্রার্থীই এই স্প্রিংয়ে আফ্রিকান আমেরিকান ভোটারদের জন্য একটি নাটক তৈরি করেছেন। ২০২০ সালে বাইডেন ২.৪ শতাংশ পয়েন্টে জিতেছিলেন। ডেমোক্রেটিক মনোনীত হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে নেভাদায় একটি শক্ত ব্যবধানে ট্রাম্পকে পরাজিত করেছিলেন। দ্য হিলের জরিপে ট্রাম্প এখন প্রায় ৭ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে ভোটাভুটিতে বাইডেনকে ১২ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে।

নর্থ ক্যারোলিনা

যদিও প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০২০ সালে বেশির ভাগ সুইং স্টেটগুলোতে জয় লাভ করেছিলেন, কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালে নর্থ ক্যারোলিনা স্টেটে কিছুটা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। ট্রাম্প ২০১৬ সালে মোটামুটি ১.৫ পয়েন্টে নর্থ ক্যারোলিনায় জিতেছিলেন। বাইডেনের প্রচারাভিযান এখন নর্থ ক্যারোলিনাকে তাদের দখলে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তবে ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ স্বীকার করেছে যে আগামী ছয় মাসে এটি করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নর্থ ক্যারোলিনার গভর্নর রয় কুপার (ডি) গত মাসে বলেছিলেন টার হিল স্টেট জয়ে বাইডেনের এখনো পিছিয়ে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ওবামাই ছিলেন সর্বশেষ ডেমোক্র্য্যাট যিনি ২০০৮ সালে নর্থ ক্যারোলিনাতে জিতেছিলেন। স্টেটটিতে ১৬টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট রয়েছে। দ্য হিলের গড় জরিপে ট্রাম্প ৪.৬ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

পেনসিলভানিয়া

পেনসিলভেনিয়ায় প্রাইমারিতে বাইডেন এবং ট্রাম্প তাদের দুর্বল পয়েন্টগুলো দূর করতে নভেম্বরে শো-ডাউনের দিকে যাচ্ছেন। নিকি হ্যালি যিনি প্রায় দুই মাস আগে রেস থেকে বাদ পড়েছিলেন, তিনি ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছন, যা স্টেটের বিভিন্ন কাউন্টিতে ২০ শতাংশের কাছাকাছি। যদিও তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে পারেনি। তারা মূল যুদ্ধের ময়দানে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য লাল পতাকা হিসাবে কাজ করেছিল। অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই স্টেটে বিরোধিতায় পড়েছিলেন ফিলিস্তিনি-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। পেনসিলভানিয়ায় দখলের জন্য ১৯টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট রয়েছে।

উইসকনসিন

এই মাসে প্রকাশিত কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে উইসকনসিনে ট্রাম্প বাইডেন চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। বাইডেন মে মাসের শুরুতে মাইক্রোসফ্ট দ্বারা একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য উইসকনসিন স্টেটে ভ্রমণ করেছিলেন। বাইডেন পরিকল্পিতভাবে ট্রাম্প-যুগের বিনিয়োগের সঙ্গে একটি বৈপরীত্য আঁকতে মাইক্রোসফ্ট প্রজেক্টে ভ্রমণ করেছিলেন যা কখনই বাস্তবায়িত হয়নি। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন এই গ্রীষ্মে মিলওয়াকিতে অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ২০২৪-এর জন্য তার রানিং সঙ্গী ঘোষণা করতে পারেন। ট্রাম্প বলেছেন, এটি সত্যিই আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেট। উইসকনসিন আমাদের জিততে হবে। আমরা এটা জিততে চাই। আমরা যদি উইসকনসিন জিততে পারি, আমি মনে করি আমরা পুরো জিনিসটাই জিতবো। উইসকনসিনে ১০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।

শেয়ার করুন