১১ জানুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ০৩:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন


খালেদা জিয়ার ৫ বার কারাবরণ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
খালেদা জিয়ার ৫ বার কারাবরণ পুলিশ হেফাজতে খালেদা জিয়া


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক শাসনামলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মোট পাঁচবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করতে হয়েছে যা বাংলাদেশের অস্থির রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিরোধী আন্দোলন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তার কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতিফলন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগদানের পর খালেদা জিয়া স্বৈরশাসক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এই সময়ে তিনি আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনবার গ্রেফতার হন ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর।

তবে এসব কারাবাস তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি ছিল, এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করতে হয়নি।

২০০৭ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আটক

২০০৬ সালে তার সরকারের মেয়াদ শেষে দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং জাতীয় নির্বাচন স্থগিত হয়। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই সময়ে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মইনুল হক রোডের বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয় এবং তাকে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে পাঠানো হয়।

আটক অবস্থায় খালেদা জিয়া ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর ঈদুল ফিতর এবং একই বছরের ২১ ডিসেম্বর ঈদুল আজহা কারাগারেই পালন করেন। উভয় ঈদে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এবং কাপড়, খাবার ও ফুল দিতে পেরেছিলেন। 

২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি দিনাজপুরে তাঁর মায়ের মৃত্যু হলে, পরদিন ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

মোট ৩৭২ দিন কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কারাবাস

২০১৮ সালে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খালেদা জিয়াকে আবার কারাবরণ করতে হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের একটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে রাখা হয়েছিল মানুষ বসবাসের অযোগ্য ও অনেকটাই পরিত্যাক্ত রুমে। যে বিল্ডিং থেকে প্রতিনিয়ত খসে পরতো দেয়ালের বালি মিশ্রিত ওয়াল চুনা। যা খালেদা জিয়ার চোখে ও ত্বকে মারাত্মক ক্ষতি করে। এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে। 

স্বাস্থ্যগত অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি কার্যত দুই বছরেরও বেশি সময় বন্দি অবস্থায় ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তার সাজা স্থগিত করে, যাতে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন। তবে এটি পূর্ণ মুক্তি ছিল না; তিনি কার্যত গৃহবন্দির মতো আইনগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিলেন।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে তার সাজা লঘু করেন। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া খালাস পান।

শেয়ার করুন