১ শতাংশ রেমিট্যান্স ট্যাক্স
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর নতুন করে রেমিট্যান্স ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল–এর আওতায় এই কর কার্যকর হয়েছে। নতুন কর ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সময় নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে ১ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে এবং আদায়কৃত কর সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিতে জমা হবে। এই করের আনুষ্ঠানিক নাম এক্সসাইজ ট্যাক্স অন রেমিট্যান্স ট্রান্সফারস। এটি মূলত মার্কিন নাগরিক, গ্রিনকার্ডধারী, বিদেশি শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক অর্থ প্রেরণের ওপর প্রযোজ্য। প্রাথমিকভাবে এই করের হার ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও বিভিন্ন ধাপে তা কমিয়ে ১ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অভিবাসীদের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
নতুন কর ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সব ধরনের রেমিট্যান্স এই করের আওতায় পড়বে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পাঠানো অর্থ সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। অন্যদিকে নগদ অর্থ, মানি অর্ডার, ক্যাশিয়ার্স চেক বা অনুরূপ কাগজভিত্তিক পেমেন্টের মাধ্যমে পাঠানো অর্থের ওপর ১ শতাংশ কর ধার্য হবে। ১ জানুয়ারি থেকে রেমিট্যান্স ট্রান্সফার প্রোভাইডাররা এই কর সংগ্রহের জন্য বাধ্য থাকবেন এবং প্রেরণের সময় কর কেটে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে জমা দেবেন।
এই করের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সেই দেশগুলোর ওপর, যারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পায়। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন এবং পাকিস্তান। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক রেমিট্যান্স গ্রহণকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে ভারত প্রথম স্থানে ছিল, যেখানে আনুমানিক ১২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। মেক্সিকোতে এসেছে ৬৮ বিলিয়ন ডলার, চীনে ৪৮ বিলিয়ন ডলার, ফিলিপাইন-এ ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তান-এ ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
নতুন কর ব্যবস্থার ফলে ব্যাংক ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়বে, যা আরও নিরাপদ ও ট্র্যাকযোগ্য হবে। নগদ লেনদেনের ওপর করারোপ হলে অভিবাসীরা ডিজিটাল রেমিট্যান্স ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন। একদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য নতুন রাজস্ব উৎস তৈরি করবে। প্রথম বছরে এর ফলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, অভিবাসীদের অর্থ প্রেরণাকে আরো আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতি অভিবাসীদের জন্য অর্থ প্রেরণাকে সহজ ও নিরাপদ করার পাশাপাশি বৈদেশিক রেমিট্যান্সে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এক্সসাইজ ট্যাক্স অন রেমিট্যান্স ট্রান্সফারস অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নগদ বা কাগজভিত্তিক লেনদেনে ১ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে, তবে ব্যাংক বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থ সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। একদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য নতুন রাজস্ব উৎস তৈরি করবে, অন্যদিকে অভিবাসীদের অর্থ প্রেরণাকে আরো আধুনিক, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করবে। বিশেষ করে ভারত, মেক্সিকো, চীন ও ফিলিপাইন মতো প্রধান রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশের ওপর এই নীতির প্রভাব পড়বে।