১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ০৪:০৫:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


দেশকে ওমর সানী
সংসারে ফাটলের গুঞ্জন যারা ছড়ায় তারা পাগল
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০১-২০২৬
সংসারে ফাটলের গুঞ্জন যারা ছড়ায় তারা পাগল ওমর সানি


চিত্রনায়িকা মৌসুমী দীর্ঘ আড়াই বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় তাদের তিন দশকের দাম্পত্য বিচ্ছেদ নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। তবে এসব খবরকে ‘পাগলামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ওমর সানী। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকাকে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো মান-অভিমান নয়, বরং অসুস্থ মায়ের সেবা ও মেয়ের দেখাশোনার জন্যই সপরিবার সম্মতিতে মৌসুমী প্রবাসে থাকছেন। ওমর সানীর সঙ্গে কথা বলেছেন আলমগীর কবির

প্রশ্ন: মৌসুমী প্রায় আড়াই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ সময় আপনারা আলাদা থাকছেন, ফলে আপনাদের তিন দশকের সংসারে ফাটল ধরার গুঞ্জন বেশ জোরালো। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ওমর সানী: দেখুন, যারা এসব কথা ছড়ায় তারা আসলে পাগল। মানুষের এসব ভিত্তিহীন প্রশ্ন শুনতে শুনতে আমি এখন চরম বিরক্ত। এমনকি কেউ কেউ তো আমার কাছে ডিভোর্স লেটারও দেখতে চেয়েছে! আমি পরিষ্কার করে বলছি, আমাদের মধ্যে কোনো ফাটল নেই। আমরা ২৯ বছর এক ছাদের নিচে কাটিয়েছি। স্রেফ দূরে থাকলেই সংসার ভেঙে যায় না।

প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছিল চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ওপর অভিমান করে তিনি দেশ ছেড়েছেন। এটা কি সত্যি?

ওমর সানী: একদমই না। ইন্ডাস্ট্রির ওপর অভিমান করে সে দেশ ছাড়েনি। সে গেছে সম্পূর্ণ পারিবারিক প্রয়োজনে। সেখানে তার যাওয়ার পেছনে দুটি বড় কারণ আছে- তার মা এবং আমাদের মেয়ে ফাইজা।

প্রশ্ন: মৌসুমীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পেছনে মূল কারণটি তাহলে কী?

ওমর সানী: মৌসুমীরা তিন বোন। ওই সবার বড়। তারপর স্নিগ্ধা। সে থাকে ফ্লোরিডায় আর ছোট বোন ইরিন আটলান্টায়। আমাদের শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওনারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছেন। কিন্তু সেখানে তো সবাই কাজে ব্যস্ত থাকে, আম্মাকে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। তখন মৌসুমী আমাকে বলল, “বাবা তো চলে গেছেন, শ্বশুর-শাশুড়িও নেই। এখন যদি মায়ের এই অসুস্থতার সময় পাশে না থাকি, তবে রোজ কিয়ামতের দিন কী জবাব দেব?” ওর এই আবেগটা আমি সম্মান করেছি। তাই মায়ের সেবা করতেই সে সেখানে আছে।

প্রশ্ন: আপনার কি সেখানে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না?

ওমর সানী: অবশ্যই ছিল। আমিও ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার ভিসাটা হয়নি। এরপর আমি আর দ্বিতীয়বার আগ্রহ দেখাইনি।

প্রশ্ন: আপনাদের মেয়ে ফাইজার বিষয়টিও কি এর সাথে যুক্ত?

ওমর সানী: হ্যাঁ, অবশ্যই। মৌসুমী যখন যায়, তখন ফাইজাও পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমরা বরাবরই সন্তানদের আগলে বড় করেছি। একা ছেড়ে দেওয়ার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। তাই আমি আর মৌসুমী মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ও গেলে একই সাথে মায়ের সেবাও হবে আবার মেয়েরও দেখাশোনা হবে।

প্রশ্ন: দীর্ঘ এই বিচ্ছেদ কি আপনাদের যোগাযোগে কোনো প্রভাব ফেলেছে?

ওমর সানী: একদমই না। আমাদের একটা ফ্যামিলি গ্রুপ আছে, সেখানে প্রতিদিন কথা হয়। মৌসুমী সেখানে মা আর মেয়ের জন্য অনেক কষ্ট করছে। যারা বাইরে থেকে সমালোচনা করেন, তারা ভেতরের ত্যাগটা বুঝবেন না। আমি আশা করছি, খুব দ্রুতই আমাদের সামনাসামনি দেখা হবে।

শেয়ার করুন