১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:১৫:৪০ পূর্বাহ্ন


ধনীদের ওপর কর বাড়ানোই নিউইয়র্ক সিটির বাজেট সংকট সমাধানের পথ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০২-২০২৬
ধনীদের ওপর কর বাড়ানোই নিউইয়র্ক সিটির বাজেট সংকট সমাধানের পথ নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অ্যালবানিতে ককাস উইকেন্ডে একটি মেয়রাল ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছেন


নিউইয়র্কের অ্যালব্যানি শহরে মেয়র জোহরান মামদানি আবারও তার বহুল আলোচিত স্লোগান ‘ধনীদের ওপর কর বাড়াতে হবে’ উচ্চারণ করেছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি স্টেট আইনসভা ভবনে অনুষ্ঠিত ৫৫তম বার্ষিক ককাস উইকএন্ড সম্মেলনে অংশগ্রহণকালে তিনি শহরের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার জন্য সবচেয়ে ধনী নিউইয়র্কবাসীর ওপর কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। মেয়র হিসেবে এটি তার প্রথম ককাস উইকএন্ড অংশগ্রহণ হলেও, অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে ধনী ও করপোরেট খাতের ওপর কর বৃদ্ধি এবং স্টেট-শহর সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া তার বার্তার মূল অংশ ছিল।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লেজিসলেটিভ অফিস বিল্ডিংয়ে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব ব্ল্যাক, পুয়ের্তো রিকান, হিস্পানিক অ্যান্ড এশিয়ান লেজিসলেটরদের সম্মেলনে যা ককাস উইকএন্ড নামে বেশি পরিচিত স্টেটের বিভিন্ন শহরের মেয়রদের সঙ্গে এক ফোরামে অংশ নেন মামদানি। সেখানে তিনি বলেন, তার প্রশাসন এমন এক আর্থিক সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যা গ্রেট রিসেশনের আগের সময়ের পর সবচেয়ে বড় সংকট। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

এ ঘাটতি পূরণে একটি উপায় হিসেবে মামদানি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমি সব সময়ই বলবস্টেটের উচিত সবচেয়ে ধনী নিউইয়র্কবাসীদের ওপর কর বৃদ্ধি করা। তার এ বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে করতালি ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে কর্পোরেট কর বাড়ানো এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করা বাসিন্দাদের আয়করে ২ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এসব বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি অ্যালব্যানিতে নির্ধারিত ট্যাক্স দ্য রিচ সমাবেশে মামদানি উপস্থিত নাও থাকতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গভর্নর হোচুলের প্রতি সম্মান দেখিয়েই এ সমাবেশ এড়িয়ে যেতে পারেন। গভর্নর হোচুল পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে কর বৃদ্ধি নিয়ে স্পষ্ট আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

মামদানি ইতিমধ্যেই হোচুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং তার পুনর্নির্বাচনে সমর্থনও দিয়েছেন। ফলে চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে কর বাড়ানোর প্রশ্নে তিনি কতটা কঠোর অবস্থান নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি বলেন, নগরীর বাজেট সংকট মোকাবিলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো শহর ও স্টেটের সম্পর্ক উন্নত করা।

মামদানি বলেন, আমরা স্টেটের সঙ্গে অংশীদারত্ব চাই, যাতে শহরটি শক্ত আর্থিক ভিত্তিতে দাঁড়াতে পারে । কর্মজীবী মানুষ এই সংকট তৈরি করেনি। তাই দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্রতা নয়, শহর-রাজ্যের মধ্যে নতুন সম্পর্কের যুগ দেখতে চাই। ফোরামে তিনি আবাসন সংকট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিশেষ কওে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর আটক অভিযান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্যানেল আলোচনার পর তিনি দ্রুত নিউইয়র্ক সিটিতে ফিরে যান। এর আগে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, হারলেমের প্রবীণ নাগরিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভায় বক্তব্য দেন।

মেয়র হিসেবে এটি ছিল তার প্রথম ককাস উইকএন্ড অংশগ্রহণ। তবে অ্যালব্যানির এই সম্মেলন তার জন্য নতুন নয়। পশ্চিম কুইন্স থেকে অ্যাসেম্বলি সদস্য থাকাকালে তিনি এই সংগঠনের সদস্য ছিলেন এবং বহু সহকর্মীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি অ্যাসেম্বলি সদস্য ব্রায়ান ক্যানিংহ্যাম–কে রসিকতার ছলে সম্মেলনের সেরা দাড়ি বাড়ানোর অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন। অ্যালব্যানির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মামদানির বার্তা ছিল স্পষ্ট যে, নিউইয়র্ক সিটির আর্থিক সংকটের ভার তিনি কর্মজীবী মানুষের কাঁধে চাপাতে চান না, বরং ধনী ও করপোরেট খাতের ওপর কর বৃদ্ধি এবং স্টেট-শহর সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চান। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য বাজেট প্রণয়নের আলোচনায় তার এই অবস্থান কতটা বাস্তব রূপ পায়।

শেয়ার করুন