ইউএস মেক্সিকো সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিক
মার্কিন সীমান্তে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর অবৈধ জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একটি বড় ল্যান্ডমার্ক সমঝোতায় পৌঁছেছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, এসিএলইউ অব সান ডিয়েগো এবং কোভিংটন অ্যান্ড বার্লিং এলএলপি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেছে, পাঁচজন ফটোসাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু করার এবং সীমান্তে জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তারা সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছেন। মামলায় অভিযুক্ত ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টকে (আইস) নির্দেশিকা জারি করতে হবে, যাতে সাংবাদিকদের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট এবং প্রাইভেসি অ্যাক্টের অধিকার সীমান্তে রক্ষা করা যায়। এছাড়া অতীতের রিপোর্টিং ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সাংবাদিকদের স্বাধীনতার জন্য এটি একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলাটি নভেম্বর ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল সিবিপিও আইসের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন যে, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ইউএস-মেক্সিকো সীমান্তের কাছে তাদের রিপোর্টিংয়ের কারণে তারা অবৈধভাবে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশন এবং জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হয়েছেন।
মার্চ ২০২১-এ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সরকারের মামলা খারিজের আবেদন বাতিল করে এবং বলেছে যে সাংবাদিকরা যথাযথভাবে দাবি করেছেন যে সীমান্ত কর্মকর্তারা তাদের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছেন। অবশেষে মামলাটি জানুয়ারি ২০২৬ সালে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়।প্লেইন্টিফ বিং গুয়ান বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর। সরকারের কাজ স্পষ্টভাবে আমাদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যাতে আমরা সত্য রিপোর্ট করতে না পারি। আমাদের এই মামলা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মামলার বাদী কিত্রা কাহানা বলেন, এই সেতেলমেন্ট নিশ্চিত করেছে যে, যা আমাদের সঙ্গে ঘটেছে তা ভুল। সরকার কখনো সাংবাদিকদের গোপন তালিকায় রাখা বা সীমান্তে তথ্য জিজ্ঞাসা করা উচিত নয়। প্রেস ফ্রিডম পার্টিসিপেশন বা রাজনৈতিক দিকের বিষয় নয়। সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।
মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজন সাংবাদিক হলেন: বিং গুয়ান, গো নাকামুরা, মার্ক অ্যাব্রামসন, কিত্রা কাহানা, এবং এরিয়ানা ড্রেহসলার। তারা সকলেই মার্কিন নাগরিক পেশাদার ফটোসাংবাদিক। নভেম্বর ২০১৮ থেকে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত তারা মেক্সিকো সফর করেছিলেন মধ্য আমেরিকা থেকে আসা শরণার্থীদের কারাভানের রিপোর্টিংয়ের জন্য।
সীমান্তে কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। মার্চ ২০১৯-এ এনবিসি সান ডিয়েগোতে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সাংবাদিক, আইনজীবী এবং কর্মী দলগুলোর ওপর বিস্তৃত গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছিল। এশা ভান্দারি, এসিএলইউ স্পিচ, প্রাইভেসি ও টেকনোলজি প্রজেক্টের পরিচালক, বলেন, ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট সীমান্তেও প্রয়োগ হয়। সাংবাদিকদের কাজ করার স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সন্তুষ্ট যে তারা এখন নির্দ্বিধায় খবর রিপোর্ট করতে পারবেন।
সেটেলমেন্ট অনুযায়ী সিবিপির অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা : সীমান্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করা হবে, যাতে তাদের অধিকার রক্ষা হয়। ডেটা সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা : সাংবাদিকদের আগের রিপোর্টিং ভবিষ্যতে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আর্থিক ক্ষতিপূরণ: মামলার খরচ, আইনজীবীর ফি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খরচের জন্য অর্থ প্রদান করা হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা: সেটেলমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যূনতম মান স্থাপন করে, যা সীমান্তে সাংবাদিকদের ওপর সরকারি নজরদারির শাস্তিমূলক ব্যবহার রোধ করবে।
বাদীরা আশাবাদী যে এই সেতেলমেন্ট সাংবাদিকদের ওপর সরকারি তদারকির অবৈধ ব্যবহারের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করবে এবং সীমান্তে সংবাদ সংগ্রহ ও রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।