২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৬:৩৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিলেন মাসফিকুল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতিতে কঠোর কড়াকড়ি ঝুলে গেল ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার


‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ১০ মার্চ থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড হাতে তারেক রহমান


দেশের মাটিতে পা রেখেই বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্লান’। এখনও ওই প্লানের বিস্তারিত জানা না গেলেও তারেক রহমানের পথচলার প্রতিটা পদক্ষেপই চমক। নির্বাচনি প্রচারে বলেছিলেন তিনি ফ্যামেলি কার্ড প্রদান করবেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে। সেটা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কম হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে এক জনসভায় বলতে শোনা গেছে ‘রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড।’ বিরোধী মতের অনেকেই বলেছেন, ওই অর্থ তিনি কোথায় পাবেন। এমন অনেক সমালোচনা। এবার তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে তার সরকারের সূচনাতেই শুরু করছেন ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ প্রাথমিকভাবে ১৪ উপজেলায় একটি করে ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে তারেক রহমানের সরকার।

২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে গঠিত কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সারাদেশের ১৪টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে এই কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সরকার ১৪টি ইউনিয়নের ১৪টি ওয়ার্ডকে বাছাই করেছে। আগামী ১০ মার্চ এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে। পরে প্রতিটি উপজেলাকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই ফ্যামিল কার্ড হবে সার্বজনীন। নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি কার্ডে দেওয়া হবে আড়াই হাজার টাকা।

‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির এই বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় মন্ত্রি পরিষদ বিভাগে আসেন। এখানে প্রধানমন্ত্রী নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের বিষয়ক সভাও করেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন- অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা’র চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নারী ও শিশু মন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উপ-কমিটি ছিল মন্ত্রিপরিষদের। সেই উপকমিটির সুপারিশের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে পাইলটিংয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য প্রথমে আমরা ১৪টি উপজেলাকে বাছাই করেছি। সেই ১৪টি উপজেলার মধ্যে থেকে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটির উদ্বোধন করবেন। একযোগে ওই দিন ১৪টি উপজেলার এই কার্যক্রমের সূচনা করা হবে। পরে তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যারা হতদারিদ্র্য বলি আমরা, অথবা দারিদ্র্য এবং নিম্নবিত্ত এই তিন শ্রেণির সুবিধাভোগী আমাদের যে মায়েরা আছেন, একটি পরিবারের যে মা প্রধান, তারা এটার সুবিধা পাবেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে এটার ওপর কাজ করেছেন। প্রতি মাসে, আড়াই হাজার টাকা করে তারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা পাবেন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাস, ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করা হবে না।

মন্ত্রী বলেন, আমরা হয়তো প্রথমেই পুরো উপজেলায় দিতে পারব না। হয়তো প্রথমে একটি ওয়ার্ড, তারপর একটি ইউনিয়ন, তারপর আরেকটি ইউনিয়ন এভাবে আমরা গ্র্যাজুয়ালি (ক্রমে) এটাকে কভার করব। এভাবেই সারা বাংলাদেশ এটার সেবা পাবে এবং সুবিধাভোগী হবে।

কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে মন্ত্রী বলেন, বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে প্রতিটি ডোর-টু-ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না। বাছাই হবে ফিল্ড লেভেল থেকে। ইনফরমেশন কালেকশন করা হবে এবং কাউকে ডিসক্রিমিনেট করা হবে না, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।

ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের সঙ্গে কোনো দলীয় সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে জাহিদ হোসেন বলেন, এখানে প্রোগ্রামটা রাজনৈতিক, কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে আমাদের বিভিন্ন কর্মকর্তারা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সরকারি কর্মচারিরা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের কার্য তদারকির জন্য একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে ওই উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এটা দ্বিস্তরবিশিষ্ট চেকিং এবং রি-চেকিং হবে, যাতে ভুল-ভ্রান্তি, এরর (ভুল) সবচেয়ে কম হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি উপজেলায় যাবেন এবং সেই উপজেলায় গিয়ে তিনি এটার উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আসেন। এখানে প্রধানমন্ত্রী নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের বিষয়ক সভাও করেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা’র চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন