২৫ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৫:৫৯:১০ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ ভারত জ্বালানি সহযোগিতা
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৩-২০২৬
বাংলাদেশ ভারত জ্বালানি সহযোগিতা প্রতীকী ছবি


প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পরস্পরের স্বার্থ সমুন্নত রেখে জ্বালানি সহযোগীতা সারা বিশ্বে একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি একটি যুদ্ধ সংঘাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ। এমতাবস্তায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পাইপ লাইনে গ্যাস, তরল জ্বালানি, আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ কানেকটিভিটি প্রচলিত বিকল্প। দক্ষিণ এশিয়া সার্ক গ্যাস, বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তোলার আলোচনা দীর্ঘদিন চলমান থাকলেও ভারত বাংলাদেশ বৈরিতার কারণে খুব একটা গতি পায়নি। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বিদ্যুৎ আদান প্রদান হয় ভারতের। বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। সম্প্রতি নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে বাংলাদেশে। ২০০৫ সালে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে একটি গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন ভারতে যাওয়ার আলোচনা একটি পর্যায় পর্যন্ত এগিয়েও থমকে যায়। মূল সমস্যা হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্কের অভাব।

যা হোক, আসামের নুমালি গড় অয়েল রিফাইনারি থেকে পাইপলাইন ডিজেল আমদানি চলমান জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশকে যথেষ্ট স্বস্তি দিচ্ছে। এমনিতেই রিফাইনারিটি সারা বছর সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পরিচালিত হয় না। উইন- উইন চুক্তির মাধ্যমে ডিজেল আমদানি উভয় দেশের জন্য মঙ্গলজনক। বাংলাদেশ সীমান্তের স্বল্প দূরত্বে আসামের গৌহাটি, ডিগবয়তে এবং পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়াতে ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানির আরো কয়েকটি রিফাইনারি আছে। বাংলাদেশ চাইলে অন্তত আরো একটি বা দুটি রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানি করতে পারে। অবশ্যই চুক্তিগুলো বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে হতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে যত দ্রুত সভ ইস্টার্ন রিফাইনারি দ্বিতীয় ইউনিট এবং অন্তত আরেকটি রিফাইনারি ২০৩০-এর মধ্যে স্থাপনের জোর তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। ভূরাজনৈতিক কারণে বিশ্বজ্বালানি বাজারে তেলের অগ্নিমূল্য থাকবে, সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হবে।

ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ, ডিজেল আমদানি গতি পেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা ন্যারেটিভে সৃষ্টি করে ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক সৃষ্টি করে। বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসায় সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিবেচনায় সম্পদসমূহ সমতার ভিত্তিতে আমদানি-রফতানি হলে উভয় দেশের জন্য মঙ্গল। আমি সুপারিশ করছি ভারত থেকে অন্তত আরো একটি রিফাইনারির ডিজেল পাইপ লাইন দিয়ে আমদানি বিষয়ে আলোচনা শুরু করার। এর পাশাপাশি শীতকালে বাংলাদেশের উদ্বৃৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত এবং নেপালে রফতানির বিষয়টি বিবেচনার।

শেয়ার করুন