প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও হতাশা আরো গভীর হয়েছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। সিবিএস নিউজ ও ইউগভ পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘সংগ্রামময়’ ও ‘অনিশ্চিত’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
গত ১৭ মে প্রকাশিত ওই জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার সক্ষমতার প্রতি জনসমর্থন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জরিপে মাত্র ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার পদ্ধতিকে সমর্থন করেছেন। এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৩১ শতাংশ। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও তার প্রতি আস্থা কমেছে; মার্চে যেখানে ৭৪ শতাংশ রিপাবলিকান তার অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করেছিলেন, নতুন জরিপে তা কমে ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জরিপে আরো দেখা যায়, তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি উত্তরদাতা মনে করেন তাদের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই বেড়েছে ০.৬ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে ৩.৮ শতাংশ। বিশেষ করে গ্যাসোলিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এপ্রিল মাসে গ্যাসের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্চের ২১ দশমিক ২ শতাংশ রেকর্ড বৃদ্ধির পর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। বছরে মোট গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের হতাশা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে জরিপের ফলাফলে। ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিকে আরো খারাপ করছে। অন্যদিকে ৫০ শতাংশ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদের এসব নীতি অর্থনীতির ক্ষতি করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অনুভূতি জানতে চাইলে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা নিজেদের ‘হতাশ’ এবং ৩২ শতাংশ ‘ক্ষুব্ধ’ বলে উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে ৫৯ শতাংশ মানুষ গ্যাসের উচ্চমূল্যকে সরাসরি আর্থিক কষ্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর ২৬ শতাংশ এটিকে বড় ধরনের অসুবিধা বলে মনে করছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার সময় তিনি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘একটুও ভাবেন না।’ তার এ মন্তব্যও অর্থনীতি নিয়ে জনঅসন্তোষ আরো বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।