টেক্সাসের কিনি কাউন্টিতে চার অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আটক করছেন টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির বিশেষ এজেন্টরা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত কঠোর অভিবাসন আইন সিনেট বিল ৪ (এসবি ৪) কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তে এর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা স্থগিত করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। তবে আইনের একটি বিতর্কিত অংশ, যেখানে পুলিশকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সন্দেহে ব্যক্তিদের গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা ১৫ মে শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেভিড অ্যালান এজরা। তার এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
২০২৩ সালে টেক্সাস আইনসভায় পাস হওয়া এসবি ৪ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কঠোর অঙ্গরাজ্যভিত্তিক অভিবাসন আইন হিসেবে পরিচিত। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন টেক্সাস সরকার দাবি করে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ ঠেকাতে এ আইন প্রয়োজন। আইনটিতে বেশ কয়েকটি কঠোর বিধান রাখা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশ করাকে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, ম্যাজিস্ট্রেট বিচারকদের কাউকে দেশত্যাগের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া এবং আদালতের বহিষ্কার আদেশ না মানাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা। এই ধারাগুলো সরাসরি ফেডারেল সরকারের অভিবাসন ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সমালোচকরা মনে করেন।
ফেডারেল বিচারক ডেভিড অ্যালান এজরা ১৩ মে ২০২৪ তার রায়ে আইনটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা স্থগিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অভিবাসন নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা মূলত ফেডারেল সরকারের হাতে। রায়ে বিচারক লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য যদি আলাদা অভিবাসন নীতি চালু করে তবে তা জাতীয় সরকারের ক্ষমতাকে ছাপিয়ে যাবে এটি কল্পনাও করা কঠিন। বিচারক বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেই ধারাগুলো নিয়ে যেগুলো অঙ্গরাজ্যের আদালতকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তবে আইনের একটি অংশ যেখানে রাজ্য ও স্থানীয় পুলিশকে সীমান্ত অবৈধভাবে অতিক্রমের সন্দেহে ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা স্থগিত হয়নি এবং শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
আইনের বিরুদ্ধে মামলা করা সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), এসিএলইউ অব টেক্সাস এবং টেক্সাস সিভিল রাইটস প্রজেক্ট। সংগঠনগুলো আদালতের সিদ্ধান্তকে সংবিধানের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় অভিবাসন আইন পরিচালনার ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যের নয়। তারা আরো অভিযোগ করে এসবি ৪ কার্যকর হলে বর্ণগত বৈষম্য এবং জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক শনাক্তকরণ বাড়বে।
টেক্সাসের রিপাবলিকান নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে এসবি ৪ মূলত ফেডারেল অভিবাসন আইনের প্রতিফলন। তাদের মতে টেক্সাসের নিজস্ব সীমান্ত রক্ষার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের কার্যালয়ের আইনজীবী ডেভিড ব্রায়ান্ট বলেন রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব রয়েছে এবং আইনটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
আইনের একটি অংশ কার্যকর হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এখন টেক্সাসের পুলিশ কর্মকর্তারা সীমান্ত অবৈধভাবে পার হওয়ার সন্দেহে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন। সমালোচকদের আশঙ্কা এতে সাধারণ ট্রাফিক স্টপ বা দৈনন্দিন পুলিশি তল্লাশির সময় মানুষের অভিবাসন অবস্থা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ বাড়তে পারে। আইনটির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মামলাটি উচ্চ আদালত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে তারা আইনের বাকি অংশের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে টেক্সাসের এসবি ৪ শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের আইন নয় এটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন এক সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছে।