১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


দেশকে আব্দুল হাদী
সম্মাননা আমাকে আলাদা করে পুলকিত করে না
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৬-২০২৬
সম্মাননা আমাকে আলাদা করে পুলকিত করে না সৈয়দ আব্দুল হাদী


বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদী। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অনন্য কণ্ঠমাধুর্য ও কালজয়ী সব গান দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন আমাদের সংগীতভুবন। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই মহান শিল্পীকে ১২ জুন বিশেষ সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির 

প্রশ্ন: গত ১২ জুন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আপনাকে একটি বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ প্রাপ্তির মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন?

সৈয়দ আব্দুল হাদী: দেখুন, দীর্ঘ সংগীতজীবনে ভক্ত ও শ্রোতাদের কাছ থেকে আমি এত বেশি ভালোবাসা পেয়েছি এবং সম্মানিত হয়েছি যে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে নতুন কোনো প্রাপ্তি বা সম্মাননা আমাকে আলাদা করে খুব একটা পুলকিত বা আনন্দিত করে না। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাকে নিয়ে যখন এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন একজন শিল্পী হিসেবে অবশ্যই সেটা ভীষণ ভালো লাগার। আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিল্পকলা একাডেমির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 

প্রশ্ন: ‘কালজয়ী কণ্ঠ: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ শিরোনামের এই বিশেষ আয়োজনটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

সৈয়দ আব্দুল হাদী: আশা করছি আমাকে ঘিরে এ আয়োজনটি অত্যন্ত সুন্দর হবে এবং উপস্থিত সবার কাছে উপভোগ্য হবে। সেদিন সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমার সংগীতজীবন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে এবং থাকবে আলোচনা পর্ব। সব মিলিয়ে আয়োজনটি বেশ গোছানো হবে বলেই আশা করছি।

প্রশ্ন: শ্রোতারা কি সেদিন আপনার কণ্ঠে গান শোনার সুযোগ পাবেন? তরুণ প্রজন্মের কারা থাকছেন এ আয়োজনে?

সৈয়দ আব্দুল হাদী: না, এ আয়োজনে আমি নিজে কোনো সংগীত পরিবেশন করছি না। তবে আমার কণ্ঠের কালজয়ী গানগুলো আমন্ত্রিত শ্রোতা-দর্শকদের গেয়ে শোনাবেন এ প্রজন্মের বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পী-যাদের মধ্যে রাশেদ, আতিক, অপু আমান, কোনাল, অনন্যা ও সুস্মিতা অন্যতম। যারা এ আয়োজনে গান পরিবেশন করবে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।

প্রশ্ন: সিনেমার গানে আপনার অবদান অনস্বীকার্য। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘গরিবের বউ’ এবং ‘ক্ষমা’ এই পাঁচটি চলচ্চিত্রের জন্য আপনি শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এ অর্জনগুলোকে কীভাবে দেখেন?

সৈয়দ আব্দুল হাদী: চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করাটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ পাঁচটি সিনেমায় প্লেব্যাক করার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়াটা একজন শিল্পী হিসেবে অবশ্যই অনেক বড় সার্থকতা ও সম্মানের। সিনেমাগুলোর গল্প ও গানের বাণী চমৎকার ছিল, যা আমার পরিবেশনাকে শ্রোতাদের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে।

প্রশ্ন: আপনার গাওয়া ‘আছেন আমার মুক্তার’, ‘আমি তোমারি প্রেম ভিখারি’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’র মতো গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে। পেছনের দিকে তাকালে এই দীর্ঘ পথচলাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সৈয়দ আব্দুল হাদী: অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমি বাংলা গানের সঙ্গে আছি। নিজের কণ্ঠমাধুর্য আর শিল্পনিষ্ঠা দিয়ে সবসময় চেষ্টা করেছি বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করতে। শ্রোতারা আমার এই গানগুলো যেভাবে দশকের পর দশক ধরে হৃদয়ে ধারণ করেছেন, তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। এ ভালোবাসাটুকুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়।

প্রশ্ন: এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকেও একইভাবে সম্মানিত করা হয়েছিল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির এ ধারাবাহিক উদ্যোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সৈয়দ আব্দুল হাদী: এটা নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার ও ইতিবাচক উদ্যোগ। দেশের গুণী শিল্পীদের তাদের জীবদ্দশাতেই এভাবে মূল্যায়ন করা এবং তাদের অবদানকে স্মরণ করা সংস্কৃতির বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গত বছর সাবিনা ইয়াসমীনকে দেওয়া সম্মাননা অনুষ্ঠানটিও দারুণ হয়েছিল। এ ধরনের আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরো ঋদ্ধ করে।

শেয়ার করুন