দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ থেকে আজ অবধি ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নাম দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অজস্র ব্যবসাসফল ও রোমান্টিক সিনেমা। তবে এবার নিজের সেই ‘মিষ্টি মেয়ে’র ইমেজ ভেঙে পর্দায় সম্পূর্ণ নতুন রূপে হাজির হতে চান তিনি। গত ১১ জুলাই ছিল এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। ঐদিন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সাথে মন খুলে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন : সম্প্রতি আপনার জন্মদিন গেল। বিলম্বে হলেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা। দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ার পার করে এসে এখন পেছনে ফিরে তাকালে কেমন লাগে?
পূর্ণিমা: অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে সময়টা কীভাবে কেটে গেল, বুঝতেই পারিনি। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু ভাইয়ের ‘এ জীবন তোমার আমার’ দিয়ে শুরু হয়েছিল। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকেরা রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এরপর তাঁদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা সত্যিই অতুলনীয়।
প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সিনেমাতেই আপনাকে রোমান্টিক বা ‘মিষ্টি মেয়ে’র চরিত্রে দেখা গেছে। দর্শক এই রূপ পছন্দ করায় নির্মাতারাও অন্য কিছু ভাবেননি। এবার কি চেনা ইমেজটা ভাঙার সময় এসেছে?
পূর্ণিমা: আমারও তাই মনে হয়। দর্শকেরা আমাকে পর্দায় সবসময় মিষ্টি আর পরিপাটি লুকে দেখতেই অভ্যস্ত। নির্মাতারাও হয়তো দর্শক চাহিদার কথা ভেবে ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে চিন্তা করেননি। তবে ক্যামেরার সামনে এতগুলো বছর পার করার পর, এবারের জন্মদিনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়েছে এখন পর্দায় ‘খলনায়িকা’ বা ভিলেন টাইপ চরিত্রে অভিনয় করার সময় এসেছে।
প্রশ্ন : খলনায়িকা! কিন্তু আপনার চেহারার যে কোমলতা, তাতে দর্শক কি আপনাকে ভিলেন হিসেবে মেনে নেবে বলে মনে হয়?
পূর্ণিমা: আমার নিজেরও ধারণা, এই চেহারার কোমলতার কারণেই নির্মাতারা আমাকে কখনো নেতিবাচক চরিত্রে ভাবেননি। সবাই ভাবেন আমার চেহারার সঙ্গে নেতিবাচক চরিত্র ঠিক জমবে না। দর্শকেরা তো একভাবে দেখেই অভ্যস্ত, তবে এবার এর বিপরীতে কিছু হলে খুব ভালো হতো।
প্রশ্ন : খলচরিত্রে অভিনয়ের পেছনে মূল ভাবনাটা কী? কেমন চরিত্রে কাজ করতে চান?
পূর্ণিমা: আমি আসলে এমন একটি জাঁদরেল চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে। অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার জন্যই এই ইচ্ছা। পর্দায় এমন একটি নেতিবাচক চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই, যা দেখে মানুষের মনে আমার অভিনীত চরিত্রটির প্রতি তীব্র ঘৃণা তৈরি হবে। একজন অভিনেত্রীর সার্থকতা তো সেখানেই।
প্রশ্ন : ওটিটি মাধ্যমে ‘হোটেল রিলাক্স’ দিয়ে আপনার ডেবিউ বেশ দারুণ ছিল। কিন্তু এরপর ওটিটিতেও আপনাকে আর দেখা গেল না কেন?
পূর্ণিমা: ‘হোটেল রিলাক্স’ ওটিটিতে আমার প্রথম কাজ ছিল এবং দর্শকদের সাড়াও ছিল চমৎকার। কিন্তু আমি আসলে সংখ্যার চেয়ে কাজের মানের ওপর জোর দিতে চাই। ওটিটির জন্য স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র যেমন হওয়া উচিত, তেমন জুতসই কিছু পাচ্ছিলাম না বলেই বিরতি নেওয়া।
প্রশ্ন : গত রোজার ঈদে ‘আহারে জীবন’ সিনেমার পর আর কোনো নতুন সিনেমায় দেখা যায়নি। ইদানীং আপনাকে অভিনয়ে খুব একটা নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না। ভক্তরা আপনাকে নিয়মিত পর্দায় কবে পাবেন?
পূর্ণিমা: হ্যাঁ, ইদানীং অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত। মাঝে মাঝে টেলিভিশনের পর্দায় সঞ্চালক কিংবা রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবে কাজ করলেও, মূল ধারার অভিনয় থেকে একটু আড়ালেই আছি। আসলে গতানুগতিক কাজ করতে চাচ্ছি না। তবে মনের মতো তেমন কোনো জাঁদরেল খল চরিত্র বা চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলে দর্শক আমাকে নতুন রূপে দেখতে পাবে এটা নিশ্চিত।