২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :


ডালাস ও হিউস্টন বিমানবন্দরের ওজু স্টেশন : তদন্তে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে অ্যাবটের অনুরোধ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
ডালাস ও হিউস্টন বিমানবন্দরের ওজু স্টেশন : তদন্তে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে অ্যাবটের অনুরোধ টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও ওজুখানা


টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল (আইএএইচ) বিমানবন্দরে থাকা মুসলিমদের ওজু করার স্টেশন নিয়ে তদন্তের জন্য দেয়া ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের (ডিওজে) হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। অ্যাবটের দাবি, এসব সুবিধা ধর্মের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করা দরকার।

ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরের টার্মিনাল ডিতে মুসলিমদের নামাজের আগে ওজু করার জন্য আরো কয়েকটি স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব ঘিরে গত সপ্তাহে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হয়। পরে অ্যাবট বিষয়টি পরিবহন বিভাগের তদন্তের জন্য পাঠানোর পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করে। তবে অ্যাবট এবার শুধু প্রস্তাবিত নতুন স্টেশন নয়, ডিএফডব্লিউর টার্মিনাল ডির ইন্টারফেইথ চ্যাপেলে বর্তমানে থাকা ওজুর সুবিধা এবং হিউস্টনের আইএএইচ বিমানবন্দরে চালু থাকা একই ধরনের স্টেশন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট ধিলনকে পাঠানো চিঠিতে অ্যাবট বলেন, বিমানবন্দরগুলো এসব সুবিধার জন্য অর্থায়ন করেছে বলে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকেই জানা যায়। তার দাবি, এসব স্টেশন মূলত মুসলিম জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য তৈরি হওয়ায় ধর্মের ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।অ্যাবট আরো বলেন, ইন্টারফেইথ চ্যাপেল সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও সংশ্লিষ্ট ওজু স্টেশনগুলো মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। তার মতে, সরকারি অর্থ বা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন স্থাপনার ক্ষেত্রে এ ধরনের ধর্মভিত্তিক সুবিধা সাংবিধানিক ও বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যাবটের অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ম্যাকলাফলিন এক চিঠিতে বলেন, নতুন ওজু স্টেশন স্থাপনের ধারণাটি আসে বিমানবন্দরের কর্মীদের পর্যবেক্ষণ থেকে। তারা দেখেছেন, অনেক যাত্রী বাথরুমের সিঙ্ক ব্যবহার করে পা ধুয়ে ওজু করছেন। এতে পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল, কারণ বাথরুমের সিঙ্ক এ ধরনের ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়।

ম্যাকলাফলিন বলেন, প্রস্তাবিত নতুন স্টেশন স্থাপনে কোনো ফেডারেল বা স্টেট অনুদান ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল না। তিনি আরো জানান, ইন্টারফেইথ চ্যাপেলের বর্তমান ওজু স্টেশনগুলো ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনো ব্যক্তি এগুলো ধর্মীয় বা সাধারণ যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যমান ওজু স্টেশন স্থাপনেও কোনো ফেডারেল বা স্টেট অনুদান ব্যবহার করা হয়নি। ম্যাকলাফলিন বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফেডারেল ও স্টেটের সব বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলছে এবং এখানে কারো প্রতি অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে না।

গভর্নর অ্যাবট তার চিঠিতে আরো বলেন, টেক্সাসে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য ধর্মগুলোর জন্য বিমানবন্দরগুলো আলাদা ধরনের সুবিধা স্থাপন করেছে-এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সরকারকে ধর্মের ভিত্তিতে এ ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ দেয় না।

এদিকে বিষয়টি এখন টেক্সাসের রাজনীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে গভর্নর অ্যাবট বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুবিধাগুলোকে বৈষম্যের সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন; অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব স্টেশন সবার জন্য উন্মুক্ত এবং মূল উদ্দেশ্য হলো যাত্রীদের নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য সুবিধা দেওয়া।

শেয়ার করুন