০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারি কর্মজীবীদের বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আগে টিআইবির শর্ত মানার আহ্বান রোগীর সুস্থতায় পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বালিয়াড়ি ধবংস করলে প্রাকৃতিক উপকূলীয় সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে ইসরায়েলের সমালোচনা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার অসাংবিধানিক রাজু হত্যার অভিযুক্ত আতোস্তা গ্রেফতার নিউইয়র্কে মাদকে মৃত্যু ৪৫ শতাংশ কমেছে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে স্বীকৃতি দিতে বিল পাস মসজিদে তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ড : লিন্ডসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উল্টো পথে আসা গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি মা-মেয়ে নিহত আশ্রয়প্রার্থী শতাধিক অভিবাসীকে আফ্রিকার ৮ দেশে পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র


আশার আলো গভীর স্তরে খনন প্রকল্প
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৯-২০২৬
আশার আলো গভীর স্তরে খনন প্রকল্প গ্যাসের জন্য লাইন


ভ্রান্ত এবং অদূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে নিঃশেষ হতে চলেছে বাংলাদেশের প্রমাণিত গ্যাস সঞ্চয়। বিকল্প জ্বালানি দেশের কয়লা সম্পদ আহরণ বা ব্যবহার নিয়ে দিক ভ্রান্ত সরকারগুলো। বড় বড় কথা বলা হলেও নবায়ণযোগ্য জ্বালানির ব্যাবহারে সাফল্য নিদারুণভাবেই সীমিত। জ্বালানি সংকটে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ চেনে। মাঠপর্যায়ে জ্বালানি সেক্টরে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নেই এমন তথাকথিত জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সীমিত পুঁথিগত কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরোলেও বাংলাদেশের নেই সুনির্দিষ্ট গ্যাস কূপ খনন পরিকল্পনা বা ডিপ্লেশন স্ট্র্যাটেজি। দেশের একটি বিশাল অংশে সিসমিক সার্ভে করা হয়নি। দীর্ঘদিন হয়নি রিজার্ভার স্টাডি। কোন তথ্যের ভিত্তিতে তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসসম্পদ নিঃশেষিত হতে চলেছে। বাংলাদেশ গ্যাস সেক্টরের সব সেগমেন্ট দীর্ঘ তিন দশক মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০০৫-২০২৬ নিবিড়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতায় বলছি বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর হয়তো ভাসছে না। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও বলছি গ্যাস সম্পদের বিশাল অংশ এখনো মাটির নিচে লুকিয়ে আছে। উৎপাদনরত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর বিভিন্ন স্তরেই আছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস, গভীর স্তরে আছে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা। হয়তো খননে সাফল্য ১:৩ সাফল্য সম্ভাবনা সীমিত। তবে কোনোভাবেই বলা যাবে না এমনকি দেশের ২/৩ এলাকা গ্যাস অনুসন্ধানের বাইরে রেখে স্থলভাগে গ্যাস সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ তিন দশক কাজ করার সময় দেশি-বিদেশি অনেক প্রকৌশলী এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্যাস সম্পদ নিয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে সবচেয়ে তুখোড় পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী ছিলেন প্রয়াত প্রিয় অগ্রজ কাজী শহিদুর রহমান। বিজিএফসিএল এবং এসজিএফএলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শহীদ ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে অনেক কিছু জেনেছি। ১৯৮৮ সালে নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণকালে বাংলাদেশে কাজ করা আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি শেল বিভির একজন অভিজ্ঞ ভুতত্ব বিদের কাছ থেকে পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ সুরমা বেসিনের বিপুল গ্যাস সম্পদ বিষয়ে জেনেছি। তাই ১৯৮৮ সালে যখন আমাকে এসজিএফএলে ব্যাবস্থাপক (উৎপাদন) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন সেখানে সংরক্ষিত তথ্যউপাত্ত নিয়ে অগ্রজ কাজী শহীদ, প্রয়াত প্রকৌশলী বাসিত, প্রকৌশলী রহমান মুর্শেদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করেছি। আমার দৃষ্টিতে স্ক্যাম সিমিটারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করায় আমাকে এসজিএফএল থেকে বদলি এবং তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হলেও যখনি সুযোগ পেয়েছি পেট্রোবাংলার পিআইইউ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিয়ানীবাজার, কৈলাশটিলা, রশিদপুর হবিগঞ্জ, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে কানাডিয়ান কোম্পানি চ্যালেঞ্জারের কাজ করার সময়ে খনন প্রকৌশলী এবং ওয়েল সাইড ভূতত্ববিদদের কাছ থেকে অনেক শিখেছি। পরবর্তী সময়ে ইউনোকোল/শেভরন জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন এবং বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে খননকালে আইসিগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছি। অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, শুধু সুরমা বেসিন থেকেই অন্তত ২-৫ টিসিএফ গ্যাস দ্রুত প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। 

দীর্ঘদিন নিজেদের গ্যাসসম্পদ উত্তোলন এবং আহরণ অবজ্ঞা করে অদূরদর্শী পরিকল্পনায় জ্বালানি আমদানি করে জ্বালানি সেক্টরকে মহাসংকটে ফেলার জন্য আমি ২০০০-২০২৪ পর্যন্ত জ্বালানি সেক্টরে কাজ করা মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কারিগরি কর্মকর্তা এবং অশুভ সিন্ডিকেটদের দায়ী করবো। কেন সিমিটার স্ক্যান্ডাল, নাইকো কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী ব্যাক্তিদের বিচার করা হয়নি? কেন সঠিক পেশাদারদের দায়িত্ব না দিয়ে অনভিজ্ঞ অদক্ষ আমলাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে পেট্রোবাংলাকে?

বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে সংকটাপন্ন জ্বালানি খাত পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। নানা কথা, নানা মতে বিভ্রান্ত সরকার আমলা নিয়ন্ত্রণ থেকেই মুক্ত হতে পারছে না। অশুভ সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রে পেট্রোবাংলায় কর্মরত কয়েকজন শত দক্ষ কারিগরি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে। দুর্যোগের এ সময়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে।

তবে আমি আশান্বিত তিতাস, বাখরাবাদ, শিকাইলে বাস্তবায়নাধীন গভীর স্তরে খননকাজে সাফল্য পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আবিষ্কার পাল্টে দিতে পারে গ্যাস সম্ভাবনা। প্রবাসে ফিরে স্বপ্ন দেখতে থাকবো। পেট্রোবাংলার সহকর্মীদের জন্য প্রার্থনা এবং শুভকামনা অব্যাহত রাখবো।

শেয়ার করুন