০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


আ.লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা আবারো মহাবিপদে
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
আ.লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা আবারো মহাবিপদে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সাধারণ নেতাকর্মীরা আবার-ও মহাবিপদে পড়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় তারা মহাবিপদেই ছিল। সেসময় দলটির মোটামুটি পরিচিত নেতাকর্মীদের ঘর থেকে বের হওয়া দূরে থাক, উঁকি ঝুঁকি মারতেও ইতস্তত বোধ করতো। কেননা তখন ছিল এক দিকে ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তবর্তী সরকারের কঠোর নজরদারি। অন্যদিকে মাঠে ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ব্যানারে থাকা ছাত্র-জনতার দাপট। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় বসার পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের অবস্থা মোটামুটি গত সাত মাসে ভালোই ছিল কিন্ত বর্তমানে বিএনপি সরকারের হার্ড লাইনে পড়ে এরা মহাবিপাকে পড়ে গেছে। এসব খবর জানা গেছে রাজনীতির মাঠ ঘুরে। 

কিন্তু কোনো এই বিপদ?

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুথান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ দুই দশক পর দলটি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসার আগে এমন কি পরেও ঘোষণা দেওয়া হয় অহিংস নীতির কথা। তারেক রহমান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম জাতীয় ভাষণে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রতিশোধ না নেওয়ার এবং দেশে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিস্কার জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কোনো ব্যক্তি বা দলের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ধরনের বক্তব্যেও পর দম ফিরে পায় দেশে ভেতরেও লুকিয়ে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সাধারণ নেতাকর্মীরা। কিন্তু এখন বিশেষ করে গত দুই মাসে এসব নেতাকর্মীরা গ্রামেগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছে। কেননা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে জানিয়েছেন যে, তিনি এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। আওয়ামী ও দেশ বাঁচাতে তিনিই বাংলাদেশে আসবেনই..। তার এই ঘোষণার পর থেকে দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের বিত্তশালী অংশটি অনলাইনে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের ভেতরে থাকা আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সাধারণ নেতাকর্মীদের টার্গেট করে ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিচ্ছেন। সব প্রচারণা একটি বার্তা তা হলো শেখ হাসিনা দেশে, ফিরছেনই..। তা-ই মাঠে নেমে পড়তে হবে, প্রেক্ষাপট তৈরি করো.। 

নেতাকর্মীরা নাছোড়বান্দা..

কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সাধারণ নেতাকর্মীরা যারা মূলত ত্যাগি তারা নাছোড়াবান্দা। কোনোভাবেই তাদের বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না যে বিষয়টি এতো হালকা না। শেখ হাসিনার এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেও এর বাস্তবায়ন ও আইনি জটিলতা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও একটি বড়ো অংশ দেশের বাইরে যে যা-র মতো করে পালিয়ে গেছে। কলকাতা-দিল্লী থেকে নিয়ে উন্নত দেশগুলিতেও তারা এখন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে। আপাতত লোক-লজ্জার ভয়ে তারা উন্নত দেশগুলিতে-ই চলাচল সীমিত করেছে। কেননা মাঝে মধ্যেই সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা দেশ প্রতিনিধির সাথে কথা বলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান যে দেশ থেকে যারা এমনকি কাছাকাছি অবস্থানে আশ্রয় নেওয়া কলকাতার আওয়ামী নেতা-কর্মীরাও আগামী দুই থেকে তিন বছরে বাংলাদেশে ঢুকবেই না। আর সেক্ষেত্রে খোদ শেখ হাসিনা চলে আসবেন? কার ভরসায় তিনি আসবেন? কিভাবে ঢুকবেন- এসব নানান প্রশ্ন থাকলেও অন্ধ ভক্তরা চুপচাপ বসে থাকতে পারছে না। আর তাদের কোমল মন পুঁজি করে বিদেশে বসে অনলাইনে হুঙ্কার ছাড়া হচ্ছে ‘এই তো নেত্রী চলে আসছেই...সব রেডি..’।

মমলার খরচ চালাতে হিমশিম

খোজ নিয়ে জানা গেছে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ঢুকবেন বলে শেখ হাসিনার ও-ই ঘোষণার পর থেকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু নেতাকর্মী। এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝটিকা মিছিলের ছবি পোস্ট করে দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা কোটিপতি আওয়ামী লীগ নেতাদের থেকে কিছু হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্ত এর প্রতিক্রিয়া ওইসব এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সাধারণ নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। কেউ কেউ আটক হচ্ছেন তবে ছাড়া পেলেও অনেক অর্থকড়ি খরচ হয়ে যাচ্ছে। আবার কারো কপালে জুটছে মামলা মোকাদ্দমা। এতে করে দেশের ভেতরে থাকা স্ধাারণ সমর্থকরা দারুণ অর্থকষ্টে পড়ছে, মামলা মোকাদ্দমায় পড়ে নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে। কিন্ত এর বিপরীতে দলের কোনো পর্যায়েই আইন সহায়তা মিলছে তো না-ই এর পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে না তথাকথিত ‘আওয়ামী লীগ ফান্ড’ থেকে। এমনকি শোনা যায় যে, ভুক্তভোগিরা আটক কিংবা গ্রেফতার হলে তাদের পক্ষে আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরাও লড়তে চান না বা আগ্রহ দেখান না। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমেই খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলছে। প্রতিদিন গড়ে এক-দেড় হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব আসামিকে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে। এতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্দি এখন কারাগারে। ধরেই নেওয়া যায় এর একটি বড়ো অংশ আসলেই কারা? তবে এতে করে আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা কর্মীরা মহাবিপদে পড়ে গেছেন, আছেন আতঙ্কে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানিয়েছিল। ‘শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপের’ এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন বিপুল জনস্রোত ছুটে যায় গণভবনে দিকে। সে-ই বিক্ষুব্ধ জণস্রোত গণভবনে পৌঁছানোর আগেই ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দুপুরেই একটি সামরিক বিমানে করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। যিনি বেশ কযেকবার এমন কি পতনের কয়েক দিন আগেও বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা কখনো পালায় না।’

শেয়ার করুন