১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৭:৩১:০৪ অপরাহ্ন


বিয়ানীবাজার সমিতি
দুই প্যানেলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৯-২০২৩
দুই প্যানেলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু মান্নান-জুয়েল ও মিছবাহ-অপু প্যানেলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ


বিয়ানীবাজার সমিতির আসন্ন নির্বাচনের সদস্য নিবন্ধন থেকে সমিতির সংকট যেন আষ্টেপৃষ্ঠে লেগেই আছে। একের পর এক সংকট সৃষ্টি  হচ্ছে। সমাধানের পথে না গিয়ে জটিলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে  নির্বাচনের আমেজ এবং উৎসব মলিন হচ্ছে। হোটেল-আড্ডা-রেস্টুরেন্টে নির্বাচনী আলোচনার পরিবর্তে সংকট নিয়ে আলোচনা মুখ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন দৃশ্যত নীতিগত বিরোধিতার বদলে ব্যক্তিগত আক্রোশের রূপ ধারণ করেছে। মিছবাহ-অপু প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান রুহুল নির্বাচন করবেন। তার বিপরীতে ব্যবসায়ী পাটনার, দীর্ঘদিনের বন্ধু  নিজাম উদ্দীন মুহিবুর রহমান মান্নান-জুয়েল প্যানেলের সহ-সভাপতি পদে লড়বেন। তাদের এক বন্ধু দুই জনের সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

১১ সেপ্টেম্বর সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  নিজাম উদ্দীন তার গ্রামের  সংগঠন গোলাব শাহ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার প্রার্থিতার কথা জানাননি। যে গ্রামে অন্তত ৮০০ ভোটার রয়েছে। রুহুল তার নির্বাচনী কার্যক্রম বছরের প্রথম থেকে কাজ শুরু করেন। সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

সম্প্রতি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে অনলাইনে লেখায় ‘দলের লোক’ উল্লেখ করে বর্তমান উপদেষ্টাদের নাম উল্লেখ করায় উপদেষ্টাদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এক প্রশ্নের উত্তরে বিয়ানীবাজার সমিতির দুই জন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন বলেন, এ লেখায় উপদেষ্টারা নিরপেক্ষতা হারাবেন না। কারণ এটা তাদের কোনো নিজস্ব  বক্তব্য নয়। এটা সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের লেখা। তারা বলেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের উপদেষ্টাদের নাম দলীয় লোক উল্লেখ করে লেখা ঠিক  হয়নি। সমিতির বর্তমান উপদেষ্টা বুরহান উদ্দীন কপিল বলেন, আমরা বিয়ানীবাজার সমিতির স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে সর্বজনীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে কোনো হীনতা নেই। আপনাদের দলের লোক উল্লেখ করার প্রসঙ্গে বলেন, কে  কি লিখেছে সেটা  তার নিজস্ব। লেখার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। নিরপেক্ষ, সর্বজনীন।

মিছবাহ-অপু প্যানেলের আলোচনা সভা

মিছবাহ-অপু ও মান্নান-জুয়েল প্যানেল নির্বাচনী মাঠে তৎপর। ওজনপার্ক থেকে ব্রঙ্কস, ব্রঙ্কস থেকে জ্যামাইকা, এস্টোরিয়া, পেনসিলভানিয়ার ভোটারদের দ্বারে পৌঁছেছেন। ক্লান্ত ও অবসাদকে পেছনে  ফেলে, রাতের ঘুমকে তুচ্ছ করে  উভয় প্যানেল ভোটারদের কাছে ভোট প্রদান করার অনুরোধ করছেন। ভোটারদের কাছে হাজির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম আরো জোরদার করা যায়। মিছবাহ-অপু প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সমর্থকদের বৈঠক।  গত ৮ সেপ্টেম্বর ওজনপার্কে  মিছবাহ-অপু প্যানেল নির্বাচনী অফিসে নির্বাচনী কার্যক্রম আরো জোরদার, গতিশীল, ভোটারদের আরো বেশি করে মিছবাহ-অপু প্যানেলের সঙ্গে  সম্পৃক্ততা করার ওপর ঘরোয়া আলোচনা সভায় প্রাধান্য পায়। আলোচনায় উঠে আসে, সম্প্রতি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রলাপ বকা হচ্ছে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মোজাহিদুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান পাখি, আজিমুর রহমান বুরহান, সভাপতি প্রার্থী মিছবাহ আহমদ, সেক্রেটারি প্রার্থী রেজাউল আলম অপু।

বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন ১৯ পদে ৪২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি

আসন্ন বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন আগামী ২২ অক্টোবর।  কমিশনের তফসিল অনুযায়ী গত ১০ সেপ্টেম্বর ওজনপার্কে বিয়ানীবাজার সমিতির নিজস্ব ভবনে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ১২৫ ডলার ফি দিয়ে মনোনয়নপত্রের প্যাকেজ সংগ্রহ করেন। কমিশন ১৯টি পদে ৪২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ৫ হাজার ২৫০ ডলার সংগৃহীত হয়। মনোনয়নপত্র বিক্রির সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহিউদ্দিন, কমিশনের সদস্য সালেহ আহমদ মনিয়া, হেলাল আহমদ, মোহাম্মদ আব্দুন নুর, নুরুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফায়জুর মিয়া, উপদেষ্টা বুরহান উদ্দীন কপিল, সেক্রেটারি নাজমুল হক মাহবুব।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। মনোনয়রপত্র গ্রহণ করা হবে বিয়ানীবাজার সমিতি ভবনের পরিবর্তে ৭৭ ০৮ ১০১ অ্যাভিনিউতে। একই স্থানে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। কমিশনের কাছ থেকে পৃথক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সভাপতি প্রার্থী মিছবাহ আহমদ ও সেক্রেটারি প্রার্থী রেজাউল আলম অপু এবং সভাপতি প্রার্থী আব্দুল মান্নান ও সেক্রেটারি প্রার্থী জহির উদ্দীন জুয়েল এবং উভয় প্যানেলের সমর্থকরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহিউদ্দিন দেশ পত্রিকার সঙ্গে আলাপে বলেন, আগামী ২২অক্টোবর অনুষ্ঠিত সমিতির নির্বাচন সুন্দর আনন্দ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সবার সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছেন। 

সংশোধনী

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, অসাবধানবশত নির্বাচনী  তফসিলের ৩ নম্বরে ৩০ আগস্ট ২০২৩ তারিখে যাদের বয়স ১৮ বা তার ঊর্ধ্বে তারাই  নির্বাচনে  অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রকৃতপক্ষে ৩০ আগস্টের  পরিবর্তে ৩০ জুলাই হবে।

এছাড়া নির্বাচনী তফসিলে উল্লিখিত মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের স্থান বিয়ানীবাজার সমিতি ভবন পরিবর্তন করে নতুন স্থান ৭৭ ০৮ ১০১ অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। সময় অপরিবর্তিত থাকবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন