২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৪:০৫:২২ অপরাহ্ন


আজিজ বেনজীর আনারে অন্দরমহলে আতঙ্ক
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৫-২০২৪
আজিজ বেনজীর আনারে অন্দরমহলে আতঙ্ক সাবেক পুলিশ প্রধান ও র‌্যাব প্রধান বেনজীর আহমেদ এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ


প্রাক্তন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে নানা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, প্রাক্তন পুলিশ প্রধান ও র‌্যাব প্রধান বেনজীর আহমদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শুরু, ভারতের মাটিতে শাসক দলের তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে সরকার এবং শাসকদলকে বিব্রত করেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক দুর্যোগ, জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট সরকারের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। ঠিক সেই সময়ে বিরোধীদল বিএনপির দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ফেরারি আসামি তারেক জিয়াকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয় না। 

একটি দেশের প্রাক্তন প্রধান সেনাপতিকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, একজন পুলিশ প্রধানের দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত, সরকারি দলের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের পাশের দেশে নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিপক্ষ দমন। সরকারকে চার-চারবার ক্ষমতায় থাকার বিভিন্ন পর্যায়ে তিন বিতর্কিত ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। একটি দেশের সেনাপ্রধানকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ কর্তৃক দুর্নীতি অথবা মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। যে ঘটনা গোটা বিশ্বেই তোলপাড়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যা করবে, যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা বিশ্ব মিডিয়াকে ছড়িয়ে দেয়।

ফলে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা, বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা ১৮ কোটি মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। দেশে সাংবাদিকতা শৃঙ্খলার বাঁধনে বাঁধা থাকায় হয়ত সেভাবে ব্যাপক প্রচার হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিশদভাবে প্রচারিত হয়েছে। সরকার বিষয়টা আমলে নিয়েছে কি নেয়নি সেটা ঠাহর করা না গেলেও এখনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বলছেন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। অথচ অন্দরমহলের খবর সরকার ঘনিষ্ঠ অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের প্রাক্তন শীর্ষ কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকা অবস্থায় নানা কারণে বিতর্কিত ছিল। দুর্নীতি ছাড়াও মিডিয়া জগতের মক্ষ্মীরানীদের জড়িয়ে অনেক মুখরোচক কাহিনি নিয়ে আলোচনা ছিল। অথচ তার বিরুদ্ধে মিডিয়া প্রতিবেদন এবং পাশাপাশি সাহসী সাংসদ ব্যারিস্টার সুমন উদ্যোগ নেওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশন বা সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

উপরোক্ত দুই বিতর্কিত ব্যক্তির এহেন সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতা অপব্যবহারের যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে প্রমাণ হতে পারে এদের গডফাদার কে। কারা কীভাবে এদের মাধ্যমে কতটুকু লাভবান হয়েছে জানা যাবে। কিন্তু এই ধরনের ফ্রাঙ্কেস্টাইন গড়ে ওঠা বা বাধাহীনভাবে চাকরি জীবনকালে কালো সম্পদ অর্জনের দায় সরকার এড়াতে পারে না।

যশোরের ঝিনাইদহ থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত সাংসদ সদস্যের (আনোয়ারুল আজীম আনার) ভারতে নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুই দেশে পলিসি তৎপরতা চালু রয়েছে। হত্যাকাণ্ড এবং হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী নির্মমতার কাহিনী শুনে শিউরে উঠছে সবাই। মৃত সাংসদ বিষয়ে নানা বিব্রতকর কথাও মিডিয়ায় আসছে। এগুলো কিছুই সরকারের অথবা ক্ষমতাসীন দলের জন্য শোভনীয় নয়। 

এগুলোর পাশাপাশি অর্থনীতির কিন্তু ত্রিশঙ্কু অবস্থা। দেশে যখন বৈদেশিক মুদ্রা সংকট, আমদানি-রফতানি উভয়ই যখন সংকটে, জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট যখন লাল চোখ দেখাচ্ছ তখন এগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ না নিয়ে হঠাৎ করে দণ্ডিত বিএনপি নেতা তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী কি ইঙ্গিত দিলেন?

তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগের সাজা ঘোষিত হয়েছে। দণ্ডিত আসামিকে ফেরারি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬ বছর একাধারে ক্ষমতায় থেকেও এই ধরনের ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। তবে বর্তমান সংকট সময়ে দণ্ডিত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা ঘোষণা খুব যুৎসই হয়েছে বলা যাবে না।

ধর্মের ঢোল বাতাসে নড়ে। অপরাধ করে অপরাধকারী রক্ষা পায় না। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই চির সত্যের প্রমাণ দেয়।

শেয়ার করুন