ট্যাক্স রিফান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত ২৬ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জন্য প্রবর্তিত ট্রাম্পের ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট আইনের কারণে আগামী ২০২৬ সালের ট্যাক্স ফাইলিং মৌসুমে অনেক পরিবারের রিফান্ড বিশাল হতে পারে। তিনি বলেছেন, পরিবারভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত রিফান্ড প্রত্যাশা করা যায়। কারণ অধিকাংশ কর্মী তাদের প্রাক-কর কাটা আয়কর পরিবর্তন করেনি।
সেক্রেটারি বেসেন্ট, যিনি আইআরএস-এর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, এই আইনের কর সুবিধা ২০২৫ সালের শুরু থেকেই প্রযোজ্য ছিল। যেহেতু বেশিরভাগ কর্মী তাদের প্রাক-কর কাটা টেবিল পরিবর্তন করেননি, তাই অনেকেই ২০২৬ সালে বড় রিফান্ড আশা করতে পারেন। তিনি বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি প্রথম কোয়ার্টারে আমরা একটি বিশাল রিফান্ড বছর পাবো। কারণ কর্মরত আমেরিকানরা তাদের প্রাক-কর কাটা পরিবর্তন করেনি। পরিবার অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার পর্যন্ত রিফান্ড পেতে পারে। ২০২৫ সালের কর হ্রাসের কারণে আগামী ফাইলিং মৌসুমে রিফান্ডের পরিমাণ সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
মৌলিকভাবে, ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল আইনের ব্যক্তিগত ট্যাক্স হ্রাসের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শুধু মানুষদের হাতে নগদ তুলে দেওয়া নয়। তবে ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্ন ফাইল করার সময় কোটি কোটি করদাতা তাদের আয়ের ওপর এ হ্রাসের সুবিধা একসঙ্গে দেখতে পাবেন। কারণ আইনটি পাস হওয়ার পরও আইআরএস প্রাক-কর কাটা টেবিল সমন্বয় করেনি। ফলে করদাতারা বছরের মধ্যে তাদের বেতনের মাধ্যমে বেশি কর কেটে রেখেছিলেন এবং সেই অতিরিক্ত কর ফেরত রিফান্ড হিসেবে ফাইলিংয়ের সময় পাবেন।
ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল-এর ২০২৫ সালের জন্য প্রধান সাতটি কর হ্রাসের মধ্যে রয়েছে : সন্তান কর ক্রেডিট ২০০, স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৭৫০ (একক ফাইলার) এবং ১ হাজার ৫০০ (যৌথ ফাইলার) বৃদ্ধি এবং স্টেট ও সিটি কর ক্যাপ ৪০ হাজার পর্যন্ত বৃদ্ধি (যারা ৫ লাখের নিচে আয় করেন তাদের জন্য)। এছাড়া সিনিয়র নাগরিকদের জন্য নতুন ৬ হাজারের অতিরিক্ত ডিডাকশন চালু করা হয়েছে, যা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার আয়ের বেশি হলে ধীরে ধীরে ফেজ আউট হবে। নতুন সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০ হাজারের অটো লোন ইন্টারেস্ট ডিডাকশন, টিপ আয় থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত নতুন ডিডাকশন এবং অতিরিক্ত ওভারটাইম আয় থেকে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত নতুন ডিডাকশন। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের অনুমান অনুযায়ী, এই সাতটি কর হ্রাস মিলিতভাবে ২০২৫ সালে মোট ১৪০ বিলিয়ন আয়কর হ্রাস করবে।
গত দুই বছরে প্রতি বছর ১০০ কোটি করদাতা গড়ে প্রায় ৩ হাজার রিফান্ড পেয়েছেন, যা মোট ৩০০ বিলিয়নের বেশি। ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ১০০ বিলিয়ন অতিরিক্ত রিফান্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। রিফান্ডের পরিমাণ করদাতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে। সিনিয়ররা নতুন ৬ হাজার ডিডাকশন থেকে সুবিধা পাবেন, সন্তান থাকা পরিবার বড় চাইল্ড ক্রেডিট থেকে উপকৃত হবেন, আর যারা ওভারটাইম বা টিপ আয় পান, তারা নতুন ডিডাকশন অনুযায়ী বড় রিফান্ড পাবেন। এছাড়াও যারা এই বিশেষ সুবিধাগুলো পাবেন না, তারা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন এবং স্টেট ও লোকাল ট্যাক্স ক্যাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে কিছুটা সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু রিফান্ডের বৃদ্ধি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করবে না। ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল-এর মূল অর্থনৈতিক প্রভাব হলো মার্জিনাল ট্যাক্স হ্রাস, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং কাজের প্রেরণা বাড়াবে। অর্থাৎ, এই আইন কেবল সাময়িক নগদ সুবিধা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তির আয় এবং জাতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির জন্য কার্যকর।
২০২৬ সাল থেকে প্রাক-কর কাটা টেবিল পরিবর্তিত হবে এবং করদাতারা মাসিক বেতন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাসের সুবিধা পাবেন। এটি অর্থনীতিতে স্থিতিশীল নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করবে এবং ফাইলিং সময় অতিরিক্ত রিফান্ডের চাপ কমাবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যারা ২০২৫ সালের জন্য বড় রিফান্ড আশা করছেন, তারা প্রি-প্ল্যানিং বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স পরিকল্পনা বিবেচনা করতে পারেন। বিশেষত সিনিয়র নাগরিক, একাধিক আয়ের উৎস সম্পন্ন ব্যক্তি এবং টিপ বা ওভারটাইম আয় প্রাপ্ত কর্মচারীরা তাদের ডিডাকশন ও ক্রেডিটের সুবিধা নিশ্চিত করতে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও সবাই একই পরিমাণ রিফান্ড পাবেন না, তবু ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট-এর হ্রাসে পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে সাময়িকভাবে বড় সুবিধা পাবেন। রিফান্ডের এই বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উপর প্রভাব বিস্তার করবে না; তবে, এটি উপভোক্তা ব্যয় বাড়াতে এবং ক্ষুদ্রকালীন অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।