১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৬:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন


সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০২-২০২৬
সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার ইউএস পাসপোর্ট


ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া পরিশোধ না করা অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট বাতিলের বিধান আরো কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এতদিন তা সীমিত আকারে কার্যকর ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে বকেয়া আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় কর্তৃপক্ষ। পররাষ্ট্র দফতর ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে, কারণ বকেয়া থাকা পাসপোর্টধারীর সংখ্যা হাজারে পৌঁছাতে পারে।

১৯৯৬ সালের পারসোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট আইনের অধীনে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিল বা নবায়ন স্থগিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট সাধারণত তখনই ব্যবস্থা নিত, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পাসপোর্ট নবায়ন বা অন্য কনস্যুলার সেবা নিতে আবেদন করতেন। এখন নতুন পদ্ধতিতে, ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের অধীন অফিস অব চাইল্ড সাপোর্ট এনফোর্সমেন্ট থেকে সরাসরি তথ্য নিয়ে আগাম পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যেসব পাসপোর্টধারীর সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ ১ লাখ ডলারের বেশি বকেয়া রয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্যক্তির সংখ্যা ৫০০-এরও কম। নোটিশ পাওয়ার পর কেউ যদি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দফতরের সঙ্গে পরিশোধ পরিকল্পনায় (পেমেন্ট প্ল্যান) সম্মত হন, তাহলে তিনি পাসপোর্ট বহাল রাখতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে যদি বকেয়ার ন্যূনতম সীমা কমিয়ে আনা হয়, তাহলে আরো অনেক অভিভাবক এই কঠোরতার আওতায় পড়তে পারেন।

পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা সন্তানের প্রতি তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন কার্যকর করার উপায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দফতরের ভাষ্য, বকেয়া পরিশোধ করা বাধ্যতামূলকএটি প্রশাসনের সহজ বার্তা। কর্মকর্তারা জানান, এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়নে সময় লাগবে এবং ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, পাসপোর্ট ডিনায়াল প্রোগ্রাম চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৬২১ মিলিয়ন ডলার বকেয়া ভরণপোষণ আদায় হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রে ৩ লাখ ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ সীমিত হওয়ার ভয় অনেক অভিভাবককে বকেয়া পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করবে। তবে কবে নাগাদ পরবর্তী ধাপ কার্যকর হবে বা মোট কতজনের পাসপোর্ট বাতিল হতে পারে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শেয়ার করুন