০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০৮:১২:১৩ অপরাহ্ন


বিশ্ব মোড়ল কোন আন্তর্জাতিক আইনে ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালালো?
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০১-২০২৬
বিশ্ব মোড়ল কোন আন্তর্জাতিক আইনে ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালালো? মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা


ভেনিজুয়েলায় গত ৩ জানুয়ারি ভোরে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন বাহিনী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়। তবে সব থেকে বড় প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশের সামরিক বাহিনী এভাবে কি আটক করতে পারে? এর আইনি ভিত্তি কী এবং এটি কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়? এই প্রশ্ন কে কাকে করবে? জাতিসংঘ কি বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখে বা প্রয়োগ করার মতো যোগ্যতা আছে?

জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য কোনো সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বলপ্রয়োগ বা হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সে সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনে কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে অন্য দেশে হামলা চালানো যায়। কিন্তু মাদুরোর সরকার আমেরিকার ওপর কোনো সরাসরি সামরিক হামলা করেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তি দেখিয়েছেন মাদুরো নাকি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। সেই দাবির কোন যৌক্তিকতা থাকলেও সেটি একটি দেশকে অন্য একটি স্বাধীন দেশে সামরিক অভিযান চালানোর অধিকার দেয় না। দেখলাম অপর দুই পরাশক্তি রাশিয়া এবং চীন মৃদু ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। কানাডা, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নিশ্চুপ। কারোই বুঝতে অসুবিধা হয় না আরব বসন্তের নামে এবং তথাকথিত ওয়েপন্স অফ মাস ডেস্ট্রাকশন থাকার কথিত অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের অধিকার অর্জনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেন দৃষ্টি এখন ভেনেজুয়েলার তেল এবং খনিজ সম্পদের ওপর। জানা গেছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সে দেশের শাসন ব্যবস্থা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কি বিচিত্র বিশ্ব ব্যবস্থা? কি ধরনের দ্বিচারিতা? বিশ্ব বিবেক মৃত। জঙ্গলের আইন চলছে বিশ্বজুড়ে।

স্মরণ করুন মার্কিন ডিপ স্টেট অনুপ্রাণিত মেটিকুলাস ডিজাইনে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। শেষ মুহূর্তে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাংলাদেশে চলছে তীব্র ভারত বিরোধিতা। অর্বাচীন মানুষগুলো ভারতের সেভেন সিস্টার্স বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের আধিপত্যবাদের ঘোরবিরোধী। কিন্তু একই সঙ্গে ভারতের মত শক্তিধর প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধ সংঘাতের মতো পরিস্থিতি বিষয়েও শংকিত। 

বাংলাদেশ কোনো অবস্থায়ই দেশের অভ্যন্তরে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারে না। সেটি হলে ভারত কিন্তু নিজেদের অখণ্ডতা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার অজুহাতে বাংলাদেশে সার্জিক্যাল আক্রমণ চালানোর অধিকারী হবে। জানা গাছে, কোন একটি দক্ষিণ এশীয় দেশের প্ররোচনায় বাংলাদেশ আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিতে চাইছে। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উচিত প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অনেক বন্ধু থাকলেও ভারতকে এড়িয়ে কোনো দেশ বাংলাদেশের বিপদে এগিয়ে আসবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ম্যান্ডেট না থাকায় কোনো দায় দায়িত্ব ছিল না। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রতিবেশীর সঙ্গে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে সুসম্পর্ক স্থাপনকে প্রাধিকার দিতে হবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য পরাশক্তির অশুভ দৃষ্টি আছে। যে ভুল করেছে ইউক্রেন, যে সমস্যায় পড়েছে ভেনেজুয়েলা বাংলাদেশ শেকান থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন