প্রতীকী ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপাতত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এরপর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪২ জন। বর্তমানে ৯টি আসনে দুজন করে এবং ২২টিতে তিনজন করে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া অবশিষ্ট আসনগুলোয় প্রার্থী সংখ্যা তিনজনের বেশি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। ১১ জানুয়ারি রোববার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ছিল শেষ দিন।
কিন্তু এত্তোসব আয়োজনের মধ্যেও নানান শঙ্কা আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ কারো কারো বক্তব্য কিংবা কর্মসূচি ঘোষণা সন্দেকে আরও গভীর করেছে। আবার কোথাও আচমকা সংহিসতার খবর নির্বাচন নিয়ে নানান প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারে নেমেছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। তারা মারা যাওয়ার পর সারা দেশে এর প্রতিবাদের একটি মহল প্রতিবাদের নামে যে তান্ডব চালিয়েছিল, তা দেশে বিদেশে সকলকে হতবাক করে দেয়। কারো কারো মতে, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে তাদের ছিল এক ধরনের মোটিভ। কিন্তু এর পরে যারা দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছিল তাদেরটা ছিল ভিন্ন মোটিভ। কিন্তু এত্তোসব পর শরিফ ওসমান হাদি মূল হত্যাকারীরা যেমন গ্রেফতার হতে দেখা যাচ্ছে না তেমনি এই ইস্যুটি নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান ধরনের খেলাধুলা। যদিও সর্বশেষও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। কিন্তু তারপরেও পরিবেশ পরিস্থিতি কোথায় যেনো ঘুরপাক খাচ্ছে। বাড়ছে অজানা আশঙ্কা..।
শাহজাহান চৌধুরীকে হুমকি দিলো কারা?
শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারে নামতে না নামতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। তার হত্যাকারীদের অবস্থান বা মোটিভ নিয়ে সন্দেহের শেষ নেই। তবে এই অকুতোভয় নেতারা মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শীর্ষ ও আলোচিত নেতারা গানম্যানসহ সর্তক অবস্থানে থাকার বড়ো ধরনের সুযোগ পান। বলা চলে শীর্ষ ও আলোচিত নেতাদের নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি সবার সামনে চলে আসে। কিন্তু এমন সর্তক পরিস্থিতি বিরাজ করার কথা থাকলেও সবার নজড় কেড়েছে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে এই শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে সাদা কাপড়সহ উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডাকযোগে প্রাপ্ত ওই চিঠির খামের সঙ্গে একটি সাদা কাপড়ের টুকরো সংযুক্ত ছিল, যা কাফনের কাপড় হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ওই চিঠির ভাষা ছিল ‘আশা করি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আপনার নিকট অনুরোধ রইল, আপনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় পরিণতি শরিফ ওসমান হাদির মতো হবে। আপনি ২৪ ঘণ্টা আমাদের কিলিং স্কোয়াডের নজরদারিতে আছেন। আপনার জন্য একটি কাফনের কাপড় উপহার হিসেবে পাঠালাম। এ বিষয়টি এতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ঠেকেছে যখন শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের বাসার সামনে থেকে দুজনকে আটক
কোনো কারণ ছাড়া ছবি তোলার অভিযোগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসার সামনে থেকে একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত ৪ জানুয়ারি রোববার দুপুর ১২টার দিকে তাঁদের আটক করে গুলশান থানার পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী মো. রুহুল আমিন ও ওমর ফারুক। গত ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন তারেক রহমান। তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরেন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, রুহুল আমিন একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী। তিনি তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি। ওমর ফারুক নামের আরেক ব্যক্তিকে আটকের পর তাঁর দেহ তল্লাশি করে গাঁজা পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। প্রশ্ন হচ্ছে দেহ তল্লাশি করে গাঁজা’ই বা মিললো কেনো? কেউ কেউ বলে থাকেন দু-একটি ক্লু বলে দিতে পারে কোনটি সাজানো বা কোনটি পরিকল্পিত। দেহ তল্লাশি করে গাঁজা পাওয়া ঘটনা একারণে রহস্যজনক ঠেকেছে অনেকের কাছে। এই মহান বস্তুটি উদ্ধারের পরে পুরো বিষয়টিকে কি আসলে সাদামাটা করে দেওয়া হলো না? কিন্তু কেনো? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক সর্বত্র...।
শহীদ হওয়া এলাকার ওসিদের নামে মামলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি খবর সবাইকে বিচলিত করেছে। খবর বেরিয়েছে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকাও হচ্ছে। এই তালিকা করার পর তাঁদের নাম ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান ইস্যু পরবর্তী ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করে সভাপতি রিফাত রশিদ এসব কথা বলেন। আন্দোলনে আকাতরে প্রাণ দেওয়ার প্রতি সবার সহানুভুতি আছে। দোষীদের অবশ্যই শাস্তি হতে হবে । কিন্ত ঠিক নির্বাচনের আগে এধরণের তৎপরতা আসলে আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিতদের মধ্যে এক ধরনের হৃদকম্পন দেখা দেবে বলে কারো অভিমত। আর ঠিক এমন পরিস্থিতিতে এই খবর প্রশাসনে বড়ো ধাক্কাও দেবে। তা হলো জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জামিন মঞ্জুর। অন্যদিকে জুলাইকন্যা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রশ্ন হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাহসী এই শিক্ষার্থীর বিষয়-টি কেনো এতোদুর পর্যন্ত গড়িয়েছে। কেনো অনেক দেরিতে ব্ল্যাকমেইল, মামলা-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে জানাতে হলো আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এটা জানাতে গিয়ে কেনো তিনি এ বিষয়ে প্রতিকার পাওয়া যাবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন। এতো অল্প সময়ে তাদের সব ত্যাগ তিতিক্ষা ভুলে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কেনো এমন টানা হেঁচড়া? এর মাধ্যমে রাজনৈতিক মহলে সুযোগ সন্ধানীদের ষড়যন্ত্র করার কি পথ বাতলিয়ে দেওয়া হচ্ছে না? তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জামিন পেলেও এনিয়ে পুরো পরিস্থিতি কোন দিনে টার্ন নেয় তা সময় বলে দেবে ঠিকই। তবে এই ঘটনার পরপরই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা করার ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তৎপর হন। তাদের এই তৎপরতা প্রশাসনে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করবে, তাদের হৃদকম্পন বাড়াবে বলে কারো কারো ধারণা। কেননা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ত্যাগ-তিতীক্ষার ব্যাপারে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলির উঁচু পর্যায়ে এক ধরনের দুর্বলতা এখনো বিদ্যমান। তাই নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে এধরনের ঘটনা অন্যরকম প্রভাব ফেলতে বাধ্য বলে কারো কারো ধারণা।
আবারও মোটরসাইকেলে এসে পেছন থেকে গুলি..
চলন্ত মোটরসাইকেলে পেছন থেকে এসে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে। ঠিক যেভাবে খুন করা হয় ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। গত ৩ জানুয়ারি শনিবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকান্ডে নিহতের মেয়ের জামাই জড়িত বলে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম। তিনি জামায়াতাসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নামে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার রাত ৬টা ৫১ মিনিটে গুলির ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে যাচ্ছেন আলমগীর হোসেন। পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল তার পাশে পৌঁছানো মাত্রই গুলি করে দ্রুতগতিতে বের হয়ে যায় ঘাতকের মোটরসাইকেলটি। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত চারজন ছিল। তাদের মধ্যে প্রধান শুটার ও তার সহযোগীদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। প্রশ্ন হচ্ছে হয়তবা অপরাধীরা ধরা পড়ে যাবে কিন্তু কেনো ঠিক সে-ই যেভাবে খুন করা হয় ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে সেধরনের ঘটনা কেনো যশোরেও ঘটে গেলো? এই রকম ঘটনা কি সামনে আরও হবে? এমন আশঙ্কা কি তাহলে শেষ হয়ে যায়নি?
বিএনপি ত্যাগী কর্মীকে মারলো কারা..
এদিকে চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক নেতাকে তার বাড়ির পাশের রাস্তায় গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট এলাকার শিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জানে আলম শিকদার (৫০) রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। শিকদার পাড়া এলাকাতে তার বাড়ি। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে জানতে পেরেছি তিনি মারা গেছেন। যুবদল নেতা জানে আলম হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান ও রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাউজান যুবদলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত এবং আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা জানে আলম শিকদার। আওয়ামী লীগের বি টিম খ্যাত বিএনপি দাবিদার ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাউজানে সংগঠিত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১ জনই তার অনুসারী।
জামায়াতের অভিযোগ রহস্যজনক...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ে কিছু রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকান্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাদের দাবি তথ্য প্রমাণ, কাগজপত্র দাখিল করার পরও আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ধরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর এমপি পদপ্রার্থীগণের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এই যাছাই-বাছাইয়ের সময় কোনো কোনো জেলার রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনো কোনো জেলায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বলা হচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিটার্নিং অফিসারদের বাড়াবাড়ি করার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য প্রমাণ, কাগজপত্র দাখিল করার পরও উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করে দেওয়া মোটেও সমীচীন হয়নি। অপ্রয়োজনীয় ও অহেতুক কিছু বিষয়ে যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ধরে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এদিকে ৫ জানুয়ারি সোমবার অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে দলটির নেতারা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করছে। জামায়াতে ইসলামী নেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।
জামায়াতের অভিযোগগুলি সত্য-মিথ্যা হয়তবা সময় বলে দেবে। তবে এমন অভিযোগ ধীরে ধীরে দাঁড় করিয়ে বর্তমানে চলমান একটি ‘গোপন সমঝোতা’ শেষমেষ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলে কারো অভিমত। এবং ভবিষ্যতে তা ভিন্ন দিকে টার্ন নিয়ে নিতে সচেষ্ট হবে কি-না তা-ও সময় বলে দেবে। তবে তার সেই প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে কি-না সে সন্দেহ অমূলক না। কেননা একটি সূত্র জানায়, কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে ঠিক নির্বাচনের আগ মূহূর্তে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বা পরিবেশ নাই বলে বড়ো ধরনের আওয়াজ তোলার একধরনের গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। কারো কারো মতে, নির্বাচনের আগ মূহূর্তে বর্তমান ইসির পদত্যাগের দাবিও জোড়ালো হতে পারে। যা রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মাঠ পর্যায়ে থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের মুখে শোনা যাচ্ছে। উপরের এসব ঘটনাগুলো কি তা-ই আভাস দিচ্ছে না- এমনটা মনে করেন বিশ্লেষকরা।