৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৩:৪৭:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


জাপানি-আমেরিকান অন্তরীণকরণ
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে আলাবামা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে আলাবামা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি-আমেরিকানদের জন্য ব্যবহৃত একটি অন্তরীণ শিবির।


যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা স্টেটে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি-আমেরিকান বংশোদ্ভূতদের অন্তরীণ করতে ব্যবহৃত একটি পুরোনো আইন নতুন ব্যাখ্যায় প্রয়োগ করে নতিহীন অভিবাসীরা যারা নিজেদের নিবন্ধন করেননি এমন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে উদ্বেগজনক নজির সৃষ্টি করছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে অভিবাসীদের জন্য নতুন একটি নিবন্ধন ফরম চালু করে। আলাবামা এখন সেই অল্প কয়েকটি স্টেটের একটি, যেখানে ১৯৪০-এর দশকে ব্যবহৃত এই আইন আবার প্রয়োগ করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনটির নতুন ব্যাখ্যা দেয়। এর পর থেকেই আলাবামাসহ কয়েকটি স্টেটে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনে মামলা শুরু হয়। তবে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আলাবামার সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ‘এলিয়েন ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’-এর অধীনে নিবন্ধন না করার অভিযোগে ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এছাড়া ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে আরও ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। যদিও এসব মামলার পেছনের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, আদালতের নথিতে দেখা যায়,অনেক অভিযুক্তকে পরে লুইজিয়ানার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

কার্লোস রেয়েস-টোরেস নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের ২০ মে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তিনি লুইজিয়ানার জেনা শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে নিজেই নিজের পক্ষে মামলা লড়ছিলেন। তবে আগস্টে বার্মিংহামে শুনানিতে হাজির না হওয়ায় নভেম্বর মাসে তার মামলা বাতিল করা হয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানান, মামলা বাতিল হওয়া মানে অভিযুক্তকে হয়তো দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আলাবামার আরেকটি মামলায় অস্কার ভাসকেজ-লোপেজ নামের এক ব্যক্তিকে নিবন্ধন না করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। হান্টসভিলে এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তাকে নিবন্ধনবিহীন বিদেশি হিসেবে শনাক্ত করার কথা আদালতে জানান। তার মামলাও আগস্টে হাজির না হওয়ায় নভেম্বর মাসে বাতিল করা হয়।

অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগে আলাবামায় এই আইনে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নজির তারা শোনেননি। যদিও মামলার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ইমিগ্রেশন আইনজীবী ড্যানি আপটনের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করাকে অপরাধে পরিণত করার চেষ্টা করছে, যাতে অভিবাসীদের সহজে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায়।আইন বিশেষজ্ঞ ন্যান্সি মোরাওয়েটজ ও নাতাশা ফার্নান্দেজ-সিলবার ২০১৪ সালের এক গবেষণায় উল্লেখ করেছিলেন, অনেক জাপানি-আমেরিকানের জন্য নিবন্ধনই ছিল অন্তরীণ শিবিরে পাঠানোর পূর্ব সূচনা। সরকার পক্ষের আইনজীবীরা অবশ্য দাবি করেন, নিবন্ধনের এই বাধ্যবাধকতা নতুন কিছু নয়। তাদের ভাষায়, ১৯৪০ সাল থেকেই অভিবাসীদের ফেডারেল সরকারের কাছে নিবন্ধন করতে হয়।

ফেডারেল আদালতের নথিতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত অভিবাসীদের প্রথমে সেন্ট্রাল ভায়োলেশনস ব্যুরো কর্তৃক টিকিট দেওয়া হয়। সাধারণত এসব টিকিট ফেডারেল জমিতে শিকার বা মাছ ধরার মতো ছোটখাটো অপরাধে ব্যবহৃত হয় এবং জরিমানা প্রায় ২০০ ডলার বা তার কম। ড্যানি আপটন বলেন, এই জরিমানা পরিশোধ করলে তা অপরাধ স্বীকারের শামিল হবে এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি রেকর্ড তৈরি হবে। অথচ অবৈধভাবে অবস্থান করা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি দেওয়ানি অপরাধ, ফৌজদারি নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লাখো অভিবাসীকে অভিযুক্ত করা সম্ভব। এমনকি ডিটেনশনে থাকার কারণে আদালতে হাজির হতে না পারলেও সেটিকে অপরাধ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও পেনসিলভানিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)-এর আলাবামা শাখা গত ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার আলাবামার ফেডারেল আদালতগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি-আমেরিকানদের অন্তরীণ করতে ব্যবহৃত একটি আইন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনতে আর ব্যবহার না করা হয়।

এক বিবৃতিতে কেয়ার- এর স্টাফ অ্যাটর্নি এ. ব্রিটন ও’শিল্ডস বলেন, অভিবাসীরাই আলাবামাকে মহান করে তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষক, খুচরা ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ মালিক। এমনকি সেই অভিবাসী পরিবারগুলোও, যারা আমাদের স্কুলে পড়াশোনা করে, খেলাধুলার দলে অংশ নেয় এবং আমাদের উপাসনালয়ে আমাদের সঙ্গে প্রার্থনা করে। তাদের সবার কারণেই আমাদের জীবন আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। আমরা অভিবাসীদের চিনি বলেই আমাদের জীবন আরও ভালো হয়েছে।

বর্তমান প্রশাসন যখন আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি থেকে নেওয়া কৌশল পুনরুজ্জীবিত করে আমাদের নিপীড়ন করতে এবং ভীত করে তুলতে চাইছে, তখন বিবেকবান মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে যে জর্জ লেকির ভাষায়, আমাদের সামাজিক পরিধি বিস্তৃত করা, পরিচয়ের পরিসর বাড়ানো এবং সেইসব মানুষের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হওয়া, যাদের ভয় আমাদের অন্যথায় উপেক্ষা করতে প্রলুব্ধ করে। আমরা যখন একত্রিত হই, তখনই আমরা বিজয়ী হই। বিবৃতিতে কেয়ার আরো বলে, ফেডারেল আদালতগুলোর উচিত এই আইনটির অপব্যবহার বন্ধ করা এবং আবারও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকা। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন প্রয়োগ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

উত্তর আলাবামার ইউএস অ্যাটর্নির দপ্তরের মুখপাত্র স্টেসি ক্রেন বলেন, আমাদের দপ্তর এই ডিস্ট্রিক্টের ভেতরে সংঘটিত সব ফেডারেল আইনের লঙ্ঘনের বিচার করে থাকে।

শেয়ার করুন