স্বাস্থ্য বীমা
অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) সম্প্রসারিত ভর্তুকি ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার ফলে নিউইয়র্কের অনেক দম্পতি ও পরিবারকে এখন গড়ে ৪০ শতাংশ বেশি মাসিক স্বাস্থ্যবীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হবে। এই বাড়তি খরচের চাপ অনেকের ওপর চলতি সপ্তাহ অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকেই নিউইয়র্ক স্টেটে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবারের উপর পড়তে শুরু করেছে। নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ এমন ব্যক্তি যারা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বীমা পান না এবং মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। এদের মধ্যে রয়েছেন সেলফ-এমপ্লয়েড ওয়ার্কারস, ছোট ব্যবসার মালিক, কৃষক ও খামার শ্রমিক এবং যারা ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য বীমা কিনে থাকেন। এই সকল মানুষ অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ) ট্যাক্স ক্রেডিট বা ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ায় তাদের মাসিক স্বাস্থ্য বীমার খরচ হঠাৎ করে গড়ে ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তন অনেকের জন্য স্বাস্থ্যবীমা বজায় রাখা আরো কঠিন করে তুলেছে এবং তাদের অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
গভর্নর হোচুল বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা, যারা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বীমা পান না এবং যাদের মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নেই। এই তালিকায় রয়েছেন অসংখ্য স্বনিযুক্ত কর্মী, ছোট ব্যবসার মালিক, কৃষক ও খামার সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবীরা। গভর্নরের কার্যালয়ের মতে, হঠাৎ করে এই ব্যয় বৃদ্ধি বহু পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখাকে কঠিন করে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের আওতায় ভর্তুকিপ্রাপ্ত ২ কোটিরও বেশি মানুষ ২০২৬ সালে গড়ে ১১৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রিমিয়াম বৃদ্ধির মুখে পড়ছেন। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই মাসিক স্বাস্থ্যবীমা খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির জন্য গভর্নর হোচুল সরাসরি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে দায়ী করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই ওয়াশিংটনের রিপাবলিকানদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে হাজার হাজার পরিশ্রমী নিউইয়র্কবাসী আকাশচুম্বী স্বাস্থ্যসেবা খরচের মুখে পড়ছেন। এটি ব্যর্থ নেতৃত্বের লজ্জাজনক উদাহরণ। এখন এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে কারণ হাজার হাজার পরিবার এই করছাড়ের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা এই সংকটের দায় ডেমোক্র্যাটদের ঘাড়ে চাপিয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর আগে দলীয় ভোটে পাস হওয়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টই সমস্যার মূল, আর ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ডেমোক্র্যাটরা যে ভর্তুকি সম্প্রসারণ করেছিল, সেটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থাছিল বর্তমানে যার মেয়াদ শেষ হওয়াই স্বাভাবিক। কংগ্রেসে এই ইস্যু গত শরৎকাল থেকেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। করছাড় বাড়ানোর দাবিতে ডেমোক্র্যাটদের চাপে সরকারকে ৪৩ দিনের শাটডাউন পর্যন্ত যেতে হয়েছে। কিছু মধ্যপন্থী রিপাবলিকান ২০২৬ সালের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য সমাধানের আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একপর্যায়ে সংকট নিরসনের ইঙ্গিত দিলেও রক্ষণশীল মহলের চাপের মুখে সেখান থেকে সরে আসেন।
শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পৃথক ও পরস্পরবিরোধী প্রস্তাব থাকলেও কোনো উদ্যোগই ৩১ ডিসেম্বরের আগে করছাড় রক্ষা করতে পারেনি। তবে জানুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদে একটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নতুন করে এই ভর্তুকি পুনর্বহালের আরেকটি সুযোগ এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এদিকে, স্বাস্থ্য বীমা প্রিমিয়ামের এই আকস্মিক বৃদ্ধি নিউইয়র্কের নিম্ন ও মধ্য আয়ের বহু পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা বা বন্ধ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করাচ্ছে-যার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।