২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৬:০৬:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টারমার দৈনিক সময়ের আলো‘র উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছেন শায়রুল কবির খান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যানজটে সিগন্যাল মেনেই গাড়ীতে অফিস করছেন প্রধন মন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে পাসপোর্ট বাতিলের উদ্যোগ জোরদার দ্রুত গণনির্বাসনে নতুন বিধি জারি নিউইয়র্ক সিটির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেড় বিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষের স্বাস্থ্যবীমা ঝুঁকির মুখে কোভিড তহবিল প্রতারণা : ৮ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের দোষ স্বীকার রমজান শান্তির এক মহৎ দর্শনের প্রতীক


আ.লীগের ভোটারদের মন জয়ে জিএম কাদেরের নানা কৌশল
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০১-২০২৬
আ.লীগের ভোটারদের মন জয়ে জিএম কাদেরের নানা কৌশল জিএম কাদের


জাতীয় পার্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি শক্ত অবস্থানে যেতে বসতে চায় প্রধান বিরোধী দলের আসনে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশগত কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দলটির বিশ্বাস করে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করলে তারাই সংসদে শক্ত অবস্থানে চলে যাবে। আর একারণে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং এর পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। একিই সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোটকে নিজেদের ভাগে আনতে মরিয়া হয়ে দলটির জোর সমর্থন পেতে বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। 

কি করছে জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির দুই অংশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ নির্বাচনে মাঠে থাকলেও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে দুই পক্ষই সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 

চুপচাপ থাকলেও কাদের বসে নেই

রাজনৈতিক অঙ্গনে সুক্ষ্মভাবে কলকাঠি নাড়তে পাকা খেলোয়ার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বসে নেই। তা-র অংশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৫টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে। এরপর থেকে তার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলটি গোপনে দেশে ও বিদেশে নানান কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। দেশের ভেতরে দলটি বেশ কয়েকটি কৌশল নিয়ে মাঠে নামার কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে তারা এখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে চেষ্টা করছে নানান ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। প্রথমে তার দল ঘোষণা দিয়েই নেমেছে যে তারা গণভোটে ‘না’ তে প্রচারণা চালাবে। এক সংবাদ সম্মেলন করে সংবিধান সংস্কার ও আসন্ন গণভোটের কড়া সমালোচনা করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, স্বৈরাচার রোধ করার নামে সংবিধানে যে সংশোধনীগুলো করা হয়েছে, তাতে প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত ক্ষমতাহীন করা হয়েছে। তাঁর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা ছাড়া কেউ কোনো দিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারে না। তিনি আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তার পক্ষের যুক্তি দেখিয়ে বলেন, এই গণভোট সংবিধানবিরোধী ও অবাস্তব। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শুধু নির্বাচিত সংসদই সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার রাখে। গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান বদলানোর চেষ্টা দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেবে। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার হলে দেশ অচল হয়ে পড়বে বলেও দাবি করেন জাপার চেয়ারম্যান। কারো কারো মতে জি এম কাদেরের এমন বক্তব্য আওয়ামী লীগকে উৎসাহিত করবে, জাপায় ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। 

অন্যদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ সমর্থন করে ভোটারদের কাছে টানতে বক্তব্য দিয়ে-ও বক্তব্য রাখা হচ্ছে। ভোটের প্রচারণায় কৌশলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হামলার বিরুদ্ধে ঝাঝালো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার মামলার নামে জনগণের ওপর ‘স্টিম রোলার’ চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে নামলে জাপার কর্মী-সমর্থকদের মামলা দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদেরও মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বক্তব্যে বলা হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। মব করে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, অথচ যারা এখন ক্ষমতার নিয়োগকর্তা, তারা দেশে নাৎসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে দেশের ভেতরে বাইরে মাঠ গরম করে বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। 

বাদ সাধলো বিএনপি

এদিকে জি এম কাদের ভেবেছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির পুরো সুযোগ জি এম কাদেরের জাপা একাই নেবে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে দেশের অনেক আসনেই আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিএনপি’র দিকে ঝুকছে বলে জি এম কাদেরের ধারণা। এছাড়া সারা আওয়ামী লীগ ও জাপার নেতাকর্মীরা হুড়মুড় করে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে দলটির প্রায় ৭০ জন নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে দুই দিনে জামায়াত, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গাজীপুরের কাপাসিয়ার দুর্গাপুর ইউনিয়নে চার শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। ফলে এমন সব খবরে বিচলিত হয়ে পড়েছেন। কারো কারো মতে, মাঠে আওয়ামী লীগ নাই। এমন পরিস্থিতিতে জি এম কাদের আসলে একটা সুযোগ নিতে চেয়ে। এজন্য এখন জোরেসোরে অংশগ্রহণমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে, বলছে নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে। কারো কারো মতে, আওয়ামী লীগে কি হচ্ছে বা হবে তা-নিয়ে আসলে কিছুই যায় আসে না জি এম কাদেরের। অন্তর্বর্তী সরকার যদি জি এম কাদেরের দলকে কোনোভাবে আশ্বস্ত রাখতে পারতেন, তখন তিনি ঠিকই সবার আগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মাঠে নামতেন। এখন কোনো কুলে ঠাঁই না পেয়ে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সহানুভুতি পেতে অংশগ্রগহণমূলক নির্বাচনের আওয়াজ তুলছেন। আসলে জি এম কাদেরেরও টার্গেট সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসার। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেই তারই সুবিধাই বেশি। সে সুযোগ নিতে আওয়ামী লীগকে ভোটে আনার কথা মাঠে তুলছেন। কেননা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। খোদ জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিনে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির বড় ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়েনি। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় মোট প্রার্থী দিয়েছে ৩০ জন।

তাই মাঠে তার দলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একটি অংশকে নামাতে তার এসব সাম্প্রতিক বক্তব্য বলে অনেকের অভিমত। এক সময় উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা জাতীয় পার্টি এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় সেখানে তুলনামূলকভাবে নীরব অবস্থানে রয়েছে।

শেয়ার করুন