১১ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৯:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন


তারেক জিয়ার ফ্যামিলি কার্ডে ঈদ আনন্দ
মাসউদুর রহমান
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০৩-২০২৬
তারেক জিয়ার ফ্যামিলি কার্ডে ঈদ আনন্দ ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


ঈদের আগেই ‘ঈদ আনন্দ’ সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। ঈদ মানেই সবার আনন্দ। কিন্তু বাংলাদেশের এক শ্রেণীর মানুষ সে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না, দরিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করায়। দরিদ্রতার কষাঘাত ঈদ আকর্ষণ করে না তাদের। এবার তাতে ভিন্নতা আসতে শুরু করেছে। আর সেটা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বদৌলতে। 

১৭ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে দেশে ফিরে গত ২৫ ডিসেম্বর কুড়িল বিশ্বরোডে জনসমুদ্রে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।’ 

সে থেকেই মানুষের মাঝে কৌতুহল! কী সেই প্ল্যান। এরমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে। জিতেছেন বিপুল ভোটে। এবার সেই প্ল্যানের অধীনে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পালা। মানুষ বুঝতে পারছেন উই হ্যাভ আ প্ল্যানে থাকা একটি হয়তো ‘ফ্যামিলী কার্ড’। 

মাত্র ২১ দিনের মাথায় দরিদ্র মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুলে নিলেন সেই ‘ফ্যামিলী কার্ড।’ আর এ ফ্যামিলী কার্ড পেয়ে সাধারণ তথা দরিদ্র মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গেছে ঈদের আনন্দ। বেশিরভাগ মানুষ চোখ মুছেন। কেঁদে ফেলেন। কবে ফ্যামিলী নিয়ে ঈদের আনন্দ করেছেন হয়তো মনে নেই। এবার ঈদ করতে তালিকাভুক্ত একশ্রেণীর মানুষের মোবাইলে আড়াই হাজার বা পঁচিশ শত টাকা। ফোনে ম্যাসেজ প্রদর্শন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন অনেকেই। এছাড়াও অনেকে পেয়েছেন ফ্যামিলি কার্ড। তারাও আনন্দিত। বৈশ্বিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে নানা কারণে বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের। নুন আনতে পান্তা ফুরায় যাদের। বিশাল চাহিদার সংসারে তবু এক ঝলক খুশির ঝিলিক! 

সে দিন বিশ্বরোডে মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তাঁর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।’ তারেকের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু..। 

এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির পর থেকে এটা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অবশেষে এত দ্রুত বাস্তবায়নে নেমে পড়বেন বিএনপি চেয়ারম্যান- বিষয়টি নিয়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে যারা বিএনপির ঘোর বিরোধী তারাও হতবাক! এ নিয়ে চায়ের কাপে ঝড়। 

মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড 

প্রথমত দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে।

হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১৮০৫টি থানার তথ্য যাচাইয়ে ৪৭৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যাক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকুরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩ হাজার ৭৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালী সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬ হাজার ৭৮৫৪ টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। 

উদ্বোধন করেন তারেক রহমান 

ঢাকার কড়াইল বস্তিবাসীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের আগেই আড়াই হাজার টাকা জমা হয়েছে তাদের একাউন্টে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে মহাখালীর টিঅ্যান্ডডি কলোনী মাঠে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষদের টাকা বিতরণ করা হয়। অনেকের মুঠোফোনে সরকারি বার্তা পৌঁছেছে যে টাকা তাদের একাউন্টে জমা হয়েছে। ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তায় আনন্দ অশ্রু তাদের চোখে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় প্রভাব থাকবে না এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। মূলত নারীদের কেন প্রধান্য দেয়া হচ্ছে প্রশ্ন সেটা নিয়েও। আসলে বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার নারী প্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করলো। 

এদিন রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটন প্রেস করে এ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পোঁছে গেছে কার্ড প্রাপ্ত নারীর হাতে। পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে। দেশের সর্বস্তরে আলোচিত হয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করেন।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪টি স্থানে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বনানী টিএন্ডটি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে কড়াইল ও এর আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল হওয়ার আগেই শত শত নারী কড়াইল বস্তি সংলগ্ন উদ্বোধনী এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার জন্য।

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের শুভ সূচনার আগে কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মাওলানা ইউসুফ আল মাদানী। এর পরে বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় ব্যাক-গ্রাউন্ডে বেজে ওঠে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ...জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’

পরে ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে তৈরি করা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে দেখা যায় হতদরিদ্র পরিবারে এক নারীর অভাব আর সংগ্রামের নিদারুণ কষ্টের মাঝে স্বস্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয় বিএনপি সরকারের দেয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

১০ মার্চ মঙ্গলবার থেকে যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়, সেগুলো হচ্ছে রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা।

এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু হচ্ছে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া যেভাবে হয়েছে তা হলো- প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ ছিল না। এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে। 

পাঁচ বছরে পাবে চার কোটি মানুষ কার্ড 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতেই সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছে। আমাদের এই কড়াইল এলাকা, ভাসানটেক এলাকা এবং সাততলা— এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আজকে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার সরকার পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে, সেই ৪ কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান, তাদের কাছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাস পূরণের আগেই আমরা তা পূরণ করতে পেরেছি। সেই জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। কারণ, আপনাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য।

প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাব না 

কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ইরান যুদ্ধের জেরে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো ক্ষেত্রে কেবল কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।’

কৃষক ভাইদের জন্যও আছে কার্ড 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আরো কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে যেগুলো আমাদের প্রায়োরিটি প্রয়োজন ছিল, সেগুলোর মধ্যে আরেকটি আছে কৃষক কার্ড। সেই কৃষক কার্ডের কাজও আমরা শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি, ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’

শেয়ার করুন