আইস
নিউ ইয়র্ক স্টেটে অভিবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি বিস্তৃত নীতি প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল ইমিগ্রেশন সংস্থা আইস-এর অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার সীমিত করা, জননিরাপত্তা রক্ষা করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ঘোষিত পরিকল্পনাকে তিনি নিউ ইয়র্কের অভিবাসীবান্ধব নীতি ও মানবাধিকার রক্ষার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো স্থানীয়, স্টেট বা ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের সময় মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করতে পারবেন না। তবে ট্যাকটিক্যাল গিয়ার, সানগ্লাস বা চিকিৎসাগত মাস্ক এর আওতার বাইরে থাকবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেবলমাত্র স্থানীয় অপরাধ দমনে মনোযোগ দিতে হবে। হালকা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ বা অ-ফৌজদারি বিষয়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তির অভিবাসন স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া, সংগ্রহ করা বা শেয়ার করা সীমিত করা হবে, যদি না তা কোনো অপরাধ তদন্তের জন্য প্রয়োজন হয় বা আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে।
এছাড়া ২৮৭(জি) চুক্তি বা অনুরূপ কোনো ফেডারেল-স্থানীয় সহযোগিতা চুক্তিতে প্রবেশে স্থানীয় সরকারকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ধরনের চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ অভিবাসন আইন প্রয়োগে ব্যবহার করা যায়, যা নতুন প্রস্তাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী আটক কেন্দ্র নির্মাণ বা পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকারকে অর্থায়ন বা সহায়তা প্রদানেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
প্রস্তাবে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো;নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ সম্প্রসারণ। এতে বলা হয়েছে, ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তা যদি কারও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থাকবে। আগে ধরনের ব্যবস্থা মূলত রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত ছিল, কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ফেডারেল কর্মকর্তারাও এর আওতায় আসবেন।
নতুন নীতিতে অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি অফিসসহ সংবেদনশীল স্থানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করা হয়েছে। কোনো বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া এসব স্থানের অপ্রকাশ্য অংশে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। হাসপাতাল, স্কুল, ডে-কেয়ার, আশ্রয়কেন্দ্র, লাইব্রেরি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসনসহ বিভিন্ন স্থানে আইস প্রবেশ সীমিত করা হবে।
শিক্ষা খাতেও নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর অভিবাসন স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে তাকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। প্রত্যেক শিশুর জন্য বিনামূল্যে পাবলিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হবে, যা তাদের অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করবে না।এছাড়া স্কুল বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভয় বা চাপ ছাড়াই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোর জন্য একটি মানসম্মত নীতি তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর হোচুল বলেন, নিউ ইয়র্ক সবসময়ই এ একটি স্থান যেখানে অভিবাসীরা উন্নত জীবনের আশায় আসে। তাই কোনো ধরনের অতিরিক্ত বা অমানবিক অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। তার মতে, নিউ ইয়র্কবাসীদের নিরাপত্তাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং সেই লক্ষ্যেই আইস -এর ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে আমরা নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছি।
গভর্নর হোচুল আরো বলেন, পদক্ষেপগুলো নিউ ইয়র্কের প্রতিটি নাগরিককে, বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, জননিরাপত্তার নামে কোনো ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। প্রস্তাবকে নিউ ইয়র্কে অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি ফেডারেল অভিবাসন নীতি ও রাজ্য-ফেডারেল সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।