১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৯:৩৫:৪২ অপরাহ্ন


চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
কাউকে চোর বলার আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৬-২০২৬
কাউকে চোর বলার আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন মাকসুদুল হক চৌধুরী


কোরামবিহীনভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। আজ হয়তো গায়ের জোরে ভবন দখল করে সমিতির মালিক বনে যেতে পারেন, ইতিহাস কিন্তু কাউকে ক্ষমা করবে না। সব কিছুর হিসাব চট্টগ্রামবাসী আদায় করবে ইনশা আল্লাহ। কাউকে চোর বলার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের (মাকসুদ-মাসুদ) সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজি, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসান চৌধুরী, উপদেষ্টা মোহাম্মদ দিদার, তারিখ চৌধুরী দীপু, সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ, সহ-সভাপতি আকবর আলী বাপ্পি, সহ-সভাপতি আইফুর আনসারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সুমন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক শিমুল বড়ুয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আতিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল অদুদ, ক্রীড়া সম্পাদক জাহেদুল আজম, কার্যকরি সদস্য নূরুস সোফা, মোহাম্মদ শওকত আলী, খাইরুল বাসার, অমল বড়ুয়া, বিধান বড়ুয়া প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মাকসুদুল হক চৌধুরী বলেন, চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা এই প্রবাসের অন্যতম একটি বৃহৎ সংগঠন, যা মৃতের সৎকারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, তখন এ সংগঠনের নাম ছিল চট্টগ্রাম সমিতি যা পরবর্তী সময়ে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কয়েক বছর কোনো সমস্যা না থাকলেও ১৯৯৭ সালে ভবন ক্রয়ের পর থেকেই একটি মহল এ সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময় কোন রূপ সহযোগিতা না করলেও ভবন ক্রয়ের পর ওই লোকগুলো সংগঠনটির মালিক বনার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের পক্ষে সমর্থনের নামে সংগঠনটিকে দফায় দফায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০০৯ সালে সাধারণ সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ তার বিরোধী গ্রুপের সদস্যদের ওপর দেশীয় স্টাইলে সিকিউরিটির সদস্যদের লেলিয়ে দিয়ে চরম নির্যাতন করে সংগঠনটিতে পেশিশক্তি ব্যবহারের সূচনা করেছিল, যা আজও অব্যাহত। ২০০৯ সালের সেদিনের নির্যাতনে আহত হয়ে সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাবর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, আরো আহত হয়েছিল কামাল হোসেন মিঠু, এনাম চৌধুরী, তরিকুল হায়দার চৌধুরী, ফোরকান উদ্দিন, এহতেশামুল হক শিমুলসহ অনেকেই। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কোন এক জাদুর বলে বর্তমানে মোহাম্মদ হানিফের পাশের চেয়ারে বসে থাকে, উদ্দেশ্য একটাই চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া। 

তিনি আরো বলেন, চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের আর্থিক হিসাবের সমস্যা শুরু ২০১৪ সাল থেকে। তখন মো. তাহের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সভাপতি আকবর আলী এবং কোষাধ্যক্ষ মো. মোক্তাদির বিল্লাহর বিপরীত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কারণে তিনি কার্যকরি পরিষদের সব কাজে তখন উল্টো পথে হাঁটতেন। তার নিজের কোনো মতামত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না সে তার মুরুব্বি কাজী আজম, মনির আহমদ, শামসু, এনাম প্রমুখের পরামর্শ নিয়ে কার্যকরি পরিষদের সভায় উপস্থিত হতেন। ফলে আজো মোহাম্মদ তাহের তার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ের হিসাব দেয়নি, জানতে চাইলে বলে তার কাছে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে এ গ্রুপটি ২০১৭ সালে নির্বাচনের ছয় মাস পার হতে না হতে, তৎকালীন সভাপতি মরহুম আবদুল হাই জিয়ার কমিটি থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, কামাল হোসেন মিঠু, আরিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কার্যকরি পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিল, উদ্দেশ্য একটাই যেন সংগঠনটির মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়, মরহুম জিয়াকে সঠিকভাবে সংগঠনটি পরিচালনা করতে দেয়নি তারা, তিনি নির্বাচন দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও তথাকথিত মুরুব্বি এবং তার কমিটির কয়েকজন সদস্যের অসহযোগিতার কারণে নির্বাচন দিতে পারেননি। হিসাবের কাগজপত্র নিয়ে অনেকের ধারে ধারে গিয়েছিলেন কিন্তু ঠিক একই কারণে তা দিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে করোনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এসবের পেছনেও একই গ্রুপ কলকাঠি নেড়েছেন, এ মানুষগুলোর কাজই হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, সংগঠনের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে রাখা।

২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে এ নবান্ন পার্টি সেন্টারেই (তৎকালীন খাবার বাড়ি) মোহাম্মদ হানিফ, এনাম, শামসুর নেতৃত্বে আজম, সেলিম, মিঠু, আরিফ গ্রুপের সংবাদ সম্মেলনে দেশীয় স্টাইলে হামলা করেছিল। আজ তারা উভয় গ্রুপ এক হয়েও যখন নির্বাচনে হেরে গিয়েছে, তখন আবারও পুরোনো স্টাইলে চট্টগ্রাম ভবনকে দখলে রেখে অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত হয়েছে। এরা কখনো চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের সংগঠন চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনকে ভালোভাবে চলতে দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। 

তিনি আরো বলেন, আপনারা যারা দীর্ঘদিন নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকতা করছেন চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের কমবেশি ইতিহাস আপনাদের অনেকেরই জানা আছে। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছরের কোন্দল নিরসন করে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে দুটি বিদ্যমান গ্রুপ এক হয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করলে এনাম, শামসু, মিঠুরা বিরোধিতা করেছিল। অথচ এরা এখন সংবাদ সম্মেলনের নামে মানুষের চরিত্র হনন করছে, এরা জানে না থুথু উপরে মারলে নিজের গায়ে পড়ে। যা হোক ২০২২ গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি ২৩ মাস দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে গেলে তাদের পছন্দের নির্বাচন কমিশন যখন ভোটে হেরে যায় তখন মো. আবু তাহের ও তার গ্রুপ নির্বাচন বয়কটের হুমকি দেয়। তখন আমরা সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়া দুই কমিশনার মোহাম্মদ সেলিম হারুন ও শাহাবুদ্দিন সাগরকে মেনে নিয়েছিলাম। সে দিনের সে আপসের ভুল আজ পুরো চট্টগ্রামবাসী ভোগ করছে। এ সেলিম হারুন, শাহাবুদ্দিন সাগর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ খালেদ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভয় দেখিয়ে অপর দুই কমিশনার রুহুল আমীন হোসেন ও হান্নান চৌধুরীকে নিজেদের বসে নিয়ে সংগঠনের ৬০ হাজার ডলার খরচ করে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মূল ফলাফল ঘোষণার এক সপ্তাহ পরে আমাদের কাউকে না জানিয়ে সংগঠনের নিজস্ব ভবন থাকা সত্ত্বেও একজন কমিশনারের বাড়ির কাছে লং আইল্যান্ডের একটি ডানকিন ডোনাটে বসে ফেসবুকের মাধ্যমে পূর্ব ঘোষিত ফলাফল, যা নির্বাচনের দিন সব গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করা হয়েছিল তা পরিবর্তন করে নতুন ফলাফল ঘোষণা করেন এবং তখনি আমরা মাকসুদ- মাসুদ পরিষদ এবং স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত বানানো জাল ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। শুধু তাই নয় এ অযোগ্য নির্বাচন কমিশন শপথের নামে যেদিন নাটক করেছে, সেদিনও চট্টগ্রামবাসীর প্রতিবাদের মুখে চার্চ ম্যাকডোনাল্ডের রাস্তায় তাদের নাটক মঞ্চস্থ করে সিকিউরিটি নিয়ে পালিয়ে এসেছে, যা আপনারা অনেকেই জানেন। শুধু তাই নয় তাদের ফেসবুক ফলাফলের সভাপতি হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকলেও ভার্চুয়ালভাবে নাকি শপথ নিয়েছে যা চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর চেয়ে হাস্যকর কিছু হতে পারে না। এই নির্বাচন কমিশনের আয় ব্যয়ের হিসাবও আজ পর্যন্ত চট্টামবাসী জানেন না। ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির ৭ জন নির্বাচনের কারণে পদত্যাগ করার পর বাকি আটজনের মধ্যে তিনজন অ্যাকাউন্টহোল্ডার থাকলেও নির্বাচনে হেরে যাওয়া পক্ষকে, অর্থাৎ যারা মেজরিটি পায়নি তাদের বিনা অডিটে এমনকি ওই ৮ জন সদস্যের মধ্যে কোনো রকম অভ্যন্তরীণ হিসাব কিংবা কোনোরূপ মিটিং ছাড়া তিনজন অ্যাকাউন্টহোল্ডারের দুজন যথাক্রমে-নুরুল আনোয়ার এবং মনির আহমদ অন্য আরেকজন অ্যাকাউন্টহোল্ডার মোহাম্মদ আহসান হাবীবকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং নির্বাচন কমিশনের থেকে পাওয়া আরো প্রায় ১৫ হাজার ডলার হস্তান্তর করে দিয়েছে তাহের-আরিফদের হাতে। যার কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত চট্টগ্রামবাসী পায়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি দায়িত্বকালীন চট্টগ্রাম ভবনের ভাড়া উত্তোলনের জন্য একটি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, নুরুল আনোয়ার এবং মনির আহমদের যোগসাজশে সে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিও মাইনরিটি সদস্যদের পক্ষকে হস্তান্তর করে দেয়। আমরা বারবার বিভিন্নভাবে নুরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সে কোনো রকম সহযোগিতা না করে মাইনরিটিদের পক্ষে অবস্থান নেয়। যার ফলশ্রুতিতে আমরা বাধ্য হয়ে এপ্রিল ২০২৫-এ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করি এবং পাশাপাশি তা ভাড়াটিয়াদের জানিয়ে দিয়েছি, যেন তারা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কোনোরকম লেনদেন না করেন। স্বাভাবিকভাবেই আমরা মে ২০২৫ থেকে ভবনের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোক্তাদির বিল্লাহকে ভাড়া উত্তোলনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যদিও ৬ জন ভাডাটিয়ার মধ্যে তিনজন আমাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন, বাকি তিনজন আমাদের সঙ্গে কো-অপারেশন করেনি। ফলে মে ২০২৫ থেকে আমরা তিনজন ভাড়টিয়ার কাছ থেকে ভাড়া উত্তোলন করে আসছি। পুরো ভবনের ছয় ভাড়াটিয়া থেকে মোট ভাড়া প্রতি মাসে প্রায় ৯ হাজার ডলারের মতো, তার মধ্যে আমরা প্রায় ৪ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি ভাড়া পাই। অন্যদিকে নির্বাচনে হেরে যাওয়া তাহের-আরিফ গ্রুপ অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি থেকে নেওয়া ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ( নির্বাচন কমিশনের অর্থসহ) এবং অক্টোবর ২০২৪ থেকে অদ্যবধি প্রায় ২২ মাসের মধ্যে প্রথম আট মাস ছয় ফ্যামিলির ভাড়া নিয়েছেন এবং গত ১ বছর তিনজন ভাড়াটিয়া থেকে ভাড়া উত্তোলন করেছে। অথচ সংবাদ সম্মেলনে তাদের কাছে কোনো অর্থ নেই বলে কান্নাকাটি করে চট্টগ্রামবাসীকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছে। 

আপনাদের মাধ্যমে আজ সমগ্র চট্টগ্রামবাসীকে জানাতে চাই। চট্টগ্রামে ভবনের দরজা ভাঙা কিংবা তালা পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০১৭/১৮ সাল থেকে মোহাম্মদ হানিফের হাত ধরে, যা আজও তারা অব্যাহত রেখেছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মো. হানিফ, এনাম, শামসু গ্রুপ, কাজী আজম, সেলিম, আরিফ ও মিঠু গ্রুপের মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য ভবনের প্রধান ফটকে বিশাল চেইন দিয়ে ভবনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়, যদিও তার পূর্বে বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টিভাবে উভয় গ্রুপ অফিসের দরজা ভেঙেছে। তাদের মনমতো কোনো কিছু না হলেই তারা সঙ্গে সঙ্গে সমিতির দরজা ভেঙে চর দখলের মতো সংগঠনের ভবন দখল করে রাখে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ আমরা রমজানের ইফতার পার্টির প্রস্তুতি সভা করতে গেলে দেখি কে বা কারা সংগঠনের অফিসের দরজার তালা পরিবর্তন করেছে, তখন আমরা লকস্মীত ডেকে দরজা খুলে আমাদের সভা করি এবং তার পরের সপ্তাহেও পুনরায় সভা করেছি এবং মার্চের ৮ তারিখ ইফতার পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। মার্চের ৭ তারিখ তাহের-আরিফের নেতৃত্বে পুরোনো কায়দায় ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুলিশ কল করে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ব্রুকলিনের ৬৬ প্রিসেন্টে এবং ভবনের প্রবেশপথে কয়েকজন সিকিউরিটি ২৪ ঘণ্টার জন্য বসিয়ে দেয়, যা আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি। তারপরের দিন, অর্থাৎ ৮ মার্চ আমরা পাশের ভবনে আমাদের ইফতার পার্টি যথারীতি সম্পন্ন করি। সংগঠনের বৃহৎ স্বার্থে আমরা কোনোরকম গন্ডগোল করতে চাইনি। কিন্তু তারা ঠিকই তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মার্চের ১৯ তারিখ ভোররাতে সাহরি খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আহসান হাবিবকে বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তারপরের দিন ঠিক একই সময় চট্টগ্রামবাসীর ভোটে নির্বাচিত সভাপতি মাকসুদ চৌধুরীর বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে তার পুরো পরিবারকে আতঙ্কগ্রস্ত করে। তার আরো কয়েকদিন পর ঠিক ভোর রাতেই সবচেয়ে বেশি ভোটে নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন মিয়ার বাসায়ও পুলিশ পাঠায়। এভাবে প্রায় দু-তিন সপ্তাহ চলতে থাকে, পরে মোক্তাদির বিল্লাহর চাকরিস্থলে তার মালিকের কাছে যায় এবং মোক্তাদির বিল্লাহকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার অনুরোধ করে। ফলে আমরা আমাদের আইনজীবীর পরামর্শে ডিটেকটিভের সঙ্গে অঢ়ঢ়ড়রহঃসবহঃ করে ৬৬ প্রিসেন্টে গিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিই। ওই প্রিসেন্ট থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর অর্থাৎ রাত প্রায় ১১টায় আমাদের ব্রুকলিনের সেন্ট্রাল বুকিংয়ে নিয়ে গেলে তারপরের দিন আদালত কোনোরকম জামানত ছাড়া আমাদের জামিন প্রদান করে এবং পরবর্তী কার্যদিবসে আমাদের তিনজনকে মাদক কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করে। যদিও আমাদের কারো সিগারেট খাওয়ার অভ্যাসও নেই, অভিযোগ আমরা নাকি সমিতির ভবনে ড্রাগ ডিলিং করেছি। এ দেশের আইনি কাঠামো অনুযায়ী পুলিশ, গোয়েন্দা এবং তাদের অন্যান্য এজেন্সিসমূহ দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত করেছে এবং কোনো রূপ অপরাধের প্রমাণ আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের অক্টোবরের ১০ তারিখ আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ আদালত খারিজ করে দেয়। খারিজ হওয়ার পর আমরা ভুক্তভোগীরা নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করেছি এবং পাশাপাশি মামলার বাদীর বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতি তিন মাস অন্তর হিসাব প্রদানের অঙ্গীকার করলেও জোর করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ভবন দখলে রেখে দীর্ঘ ২১ মাসে একবারও হিসাব প্রদান করেনি জবরদখলকৃত সভাপতি তাহের-আরিফ গং। তাদের নামে থাকা দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত মার্চ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী একটিতে প্রায় ২০ হাজার ডলার অন্য অ্যাকাউন্টে ৪ হাজার ডলার আছে। মুখে মুখে হিসাব করলেও অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি, নির্বাচন কমিশন এবং ঘরভাড়া থেকে আদায়কৃত গত ২২ মাসের অর্থ হিসাব করলে আনুমানিক তিন লাখ ডলারের বেশি তাদের হাতে রয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ২০২২ সালের পর থেকে আজ অবধি কোনো ট্যাক্স ফাইল করা হয়নি ফলে সংগঠনটি হড়ঃ ভড়ৎ ঢ়ৎড়ভরঃ স্ট্যাটাস হারানোর পথে। সমিতি ভবন দখল করার পর থেকে কোনোরকম প্রোপার্টি ট্যাক্স প্রদান করেনি, ফলে ভবনটিও সিটি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেতে হয়তো আর বেশিদিন নেই। আমরা ট্যাক্স ফাইল করতে চাইলে আমাদের অ্যাকাউন্টেন্ট জানান, যেহেতু ভবনসংক্রান্ত কোনো কাগজ এবং কয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিদ্যমান তা আমাদের কাছে রেকর্ড নেই, সুতরাং চাইলেও ট্যাক্স ফাইল করতে পারছি না। ভবনের যে তিনজন ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে ভাড়া প্রদান করছে না বলে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। আরিফুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে ভাড়ার রশিদসহ পোস্ট করেছে আজ থেকে কয়েক মাস পূর্বে এবং হুমকি দিয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে মানে যারা ভাড়া আদায় করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নিরীহ তিনজন ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে এলঅ্যান্ডটি কোর্টে মামলা করে হয়রানি করেও ক্ষান্ত হয়নি তাদের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মানুষের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করেছে। আমরা কার্যকরি পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের এ ধরনের এ জঘন্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি খ্ঞ আদালতের মামলা শেষ হলেই এ বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভবনের একজন ভাড়াটিয়া নুরুস সোফার বিরুদ্ধে ১০ বছর ভাড়া না দেওয়ার যে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে তার প্রতিবাদে বলতে চাই গত ১০ বছরে বেশ কয়েকটি কমিটি দায়িত্ব পালন করেছে, তাহলে ভাড়া প্রদান না করে গত ১০ বছরে সে কি করে তিনি ভবনে থাকে? সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, নুরুস সোফা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিসহ সব সময় কোনো না কোনো দায়িত্ব পালন করেছে। গত নির্বাচনেও সে মানুষের ভোটে কার্যকরী পরিষদে নির্বাচিত হয়েছে। 

আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানাতে চাই, নির্বাচনের মামলাসহ মোট তিনটি মামলার মধ্যে আমাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার পরে আরো দুটি মামলা বর্তমানে চলমান। নির্বাচনী মামলা এবং ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা। সংগত কারণে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। কারণ তারা নির্দোষ, তাদের ভাড়া মে ২০২৬ পর্যন্ত পরিশোধ করা আছে। তাদের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয়ে গঠনতন্ত্রের ধারা উল্লেখ করলেও কো-অপ্টের ক্ষেত্রে কোন ধারা ব্যবহার করেছে তা উল্লেখ করেনি। আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই কোরামবিহীনভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। আজ হয়তো গায়ের জোরে ভবন দখল করে সমিতির মালিক বনে যেতে পারেন, ইতিহাস কিন্তু কাউকে ক্ষমা করবে না। সব কিছুর হিসাব চট্টগ্রামবাসী আদায় করবে ইনশাআল্লাহ। কাউকে চোর বলার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন।

পরিশেষে আবারও সবার প্রতি অনুরোধ সব নোংরামির পথ পরিহার করে সংগঠনের বৃহৎ স্বার্থে চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে সব ধরনের হিসাব ও কাগজপত্র হস্তান্তর করে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন, তথা সব চট্টগ্রামবাসীকে প্রবাসের মাটিতে আর অপমান না করে সংগঠনটিকে তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনুন। 

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিন সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজি, মাসুদ হোসেন সিরাজি, মোক্তাদির বিল্লাহ, আহসান হাবিব প্রমুখ।

শেয়ার করুন