বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন
আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের বার্ষিক বনভোজন। বড়পর্দায় বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রতিটি শিহরণ জাগানো মুহূর্ত আর বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তৃতা, সংগীতানুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, র্যাফেল ড্র আর বাহারি খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এ বনভোজন যেন ছিল ঢাকাবাসীর মিলনমেলা।
গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে আয়োজিত বনভোজনস্থল ছিল যেন এক খন্ড ঢাকা । সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলার আমন্ত্রিত অতিথিরা। ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটির আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের নেতারা।
ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বনভোজন প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক মানুষ তথা ঢাকাবাসীর অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে সবার চোখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। উল্লেখ্য, ঢাকার পাঁচটি উপজেলা যথাক্রমে-দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার এবং ধামরাই নিয়ে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক গঠিত।
সকালে নাশতা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বনভোজনের কার্যক্রম। এ সময় সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বনভোজনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার আহ্বান জানান ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের সভাপতি দুলাল বেহেদু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন। তারা বলেন, প্রবাসের ব্যস্ততম জীবনে নিজেদের মানুষকে ন্যূনতম আনন্দ দিতে পারলেই তারা নিজেদের ধন্য মনে করবেন। এসময় তারা জানিয়ে দেন যোহরের নামাজের পর বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
এ সময়ে উপস্থিত সবাই যার যার পরিবার পরিজন নিয়ে এদিক ওদিক সময় কাটান। সেই সঙ্গে আয়োজকদের পরিবেশন করা তরমুজের স্বাদ গ্রহণ করেন। ইতমধ্যে অতিথিসহ বনভোজনের যোগ দেওয়া অধিকাংশ মানুষই হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে উপস্থিত হন।
দুপুর ১টার পর যোহরের নামাজ শেষে শুরু হয় ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্ব। এ সময় মেলার প্যাভিলয়ন প্রাঙ্গণ ছিল লোকে লোকারণ্য। ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন। এ সময় বক্তৃতা করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, উপদেষ্টারা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ খায়রুল আলম, বনভোজনের আহ্বায়ক আমির আফতাব, প্রধান সমন্বয়কারী বিএইচ সাইফুর, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী সবুজ, যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান কাউসার, সমন্বয়কারী কবির খান, মোস্তফা কামাল মুকুল, যুগ্ম সদস্য সচিব রবিউল আলম, সেলিম খানসহ বিভিন্ন এলাকার নেতারা।
এ সময় ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদু বলেন, আমাদের নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরার অভিপ্রায়ে আমরা এ বনভোজনের আয়োজন করেছি। সেই সঙ্গে আমাদের আয়োজনে যোগ দিয়েছেন অন্য জেলার অতিথিরা। সব মিলিয়ে আমি বলবো, এ বনভোজন ঢাকাবাসীর সঙ্গে অন্য সবার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ বলেন, ঢাকা একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এ জেলার ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা আমাদের সবার মাঝে মৈত্রীর সেতুবন্ধন তৈরি করাই আমাদের আজকের বনভোজন আয়োজনের উদ্দেশ্য।
পরে সবাই মিলে বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আর করতালির মাধ্যমে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত সকলে। এদিন ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। আর তাই তড়িঘড়ি করে সবার মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়। বাহারী বাঙ্গালী খাবারে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন উপস্থিত সকলে। এরপর বড় পর্দায় দেখানো হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। ছোট বড় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের নানা উচ্ছ্বাস, আবেগ আর উল্লাস বনভোজনের আনন্দের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে তুলে। উল্লেখ্য, ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালীন অনেকে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে ফুটবল খেলেন। এ সময় সবার মাঝে টিশার্ট বিতরণ করা হয়। পড়ন্ত বিকালে ছিল মেয়েদের পিলো পাসিং। চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে অংশ নেন সব বয়সী মেয়েরা। আর এ দৃশ্যটি ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন।
পিলো পাসিং শেষে শুরু হয় সংগীতানুষ্ঠান। শিল্পীদের গানের সঙ্গে নেচে গেয়ে উল্লাস করেন বনভোজনে অংশ নেওয়া সকলে। সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ঝালমুড়ি, আম ভর্তা। ছিল চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার সুযোগ। এ সময় বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সবশেষে ছিল বনভোজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট র্যাফেল ড্র। স্বর্ণালংকার সেট, এয়ার টিকেটসহ মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের নেতারা। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে সময় কাটিয়ে সবাই ফেরেন আপন নীড়ে।