১০ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ০৯:৪৭:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাকিব প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- ‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার সিমপ্যাথি ছিল,আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট’ মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নিউইয়র্কে আইসের মুখোশ নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ


অদ্ভুত আইন
কাজী জহিরুল ইসলাম
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২২
অদ্ভুত আইন


‘ফ্রি কান্ট্রি আমেরিকা’ নামে একটি সিরিজ গদ্য লিখেছি ২০১২/১৩ সালের দিকে। সেখানে আমেরিকার ফানি (কিছুটা আজগুবিও) বিষয়গুলো তুলে ধরতাম। আজ আমেরিকার তেমন একটি আজগুবি আইনের কথা লিখছি। 

আমার শ্যালিকা তামান্না দিপু ও তার পরিবার টরন্টো থেকে বেড়াতে এসেছে ২৯ ডিসেম্বর, ইচ্ছে আমরা দুই পরিবার একসাথে হয়ে একুশকে বিদায় জানিয়ে গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকার ২০২২ সালকে বরণ করবো। ওদের ছোট মেয়ে আইদা জিওপার্ডি নামক একটি শিামূলক গেম খেলার জন্য খুবই উত্সুক। মূলত ওর জন্যই আমরা এই কয়দিনে বেশ অনেকবার এই গেমটি খেলি। খুম মজার খেলা। খেলতে খেলতে অনেক কিছু শেখা যায়। 

খেলার এক পর্যায়ে একটি প্রশ্ন এলো, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা একটি কাজ দিনে ২২ বার করে, এখন প্যানডামিকে তা আরো বেশি করে, কাজটা কি? নাহ, কিছুতেই বুঝতে পারছি না। তবে অনুমান করে বলেছিলাম, কিচেনে যায় বা খায় এরকম কিছু হবে। পরে জানলাম সঠিক উত্তর হলো, ফ্রিজ খোলে। একজন আমেরিকান প্রতিদিন অন্তত ২২ বার ফ্রিজ খোলে, ইন্টারেস্টিং তথ্য। 

কিছুণ পরে আরো একটি মজার প্রশ্ন এলো। ফোরিডার স্টেট ল’ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পরে পাবলিক প্লেসে কোনো কাজ করা নিষিদ্ধ?  আমরা ভাবছিলাম মদ্যপান হতে পারে, কিন্তু তা কি করে হয়? ছুটির দিন সন্ধ্যা ৬টার পরেই তো বারগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে। প্রশ্নটা ছিল আইদার জন্য এবং ওর অনুমানভিত্তিক জবাব কিন্তু সঠিক হয়েছে। সঠিক উত্তর হলো, ফোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে কেউ সন্ধ্যা ৬টার পরে পাদ (বায়ুত্যাগ) দিতে পারবে না। 

উত্তরটি স্ক্রিনে দেখার পর আমরা হাসতে হাসতে মরে যাই। আমাদের পুত্র অগ্নি এবং পুত্রবধূ ব্রিজিত থাকে ফোরিডায়। ভাবছিলাম ওদের স্টেটের এই গোপন (মানে তেমন আলোচিত নয়) আইনটি অগ্নিকে জানিয়ে দিই। অগ্নি শুনে হাসতে হাসতে বলে, দিলে কি জেলে নেবে? আইন যদি কোনো কিছু নিষিদ্ধ করে, তা করলে তো জেলে যেতেই হবে। কিন্তু কথা হলো ভিড়ের মধ্যে কাজটি কে করলো তা খুঁজে বের করবে কীভাবে?

ফোরিডায় আরো কিছু অদ্ভুত আইন আছে। মায়ামি বিচে কমলা বিক্রি করা যাবে না। সুইমিং স্যুট পরে কোনো দলিলে স্বার দেয়া যাবে না। রাস্তা দিয়ে ব্যারেল (ড্রাম) গড়িয়ে গড়িয়ে নেয়া যাবে না। 

পোষা প্রাণি কোথাও পার্ক করতে চাইলে টাকা দিতে হবে। সেলুনে বসে চুল কাটতে কাটতে ঘুমিয়ে পড়া যাবে না। 

সবচেয়ে কষ্টের আইন হলো কেউ নিজের সন্তান বিক্রি করতে পারবে না। কষ্টের এজন্য বলছি, এই বিষয়েও স্টেটকে একটি আইন করতে হয়েছে।

২ জানুয়ারি ২০২২

শেয়ার করুন