১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৫:৩৬:২৯ অপরাহ্ন


হলভর্তি দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত জারিন মাইশা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-১১-২০২৩
হলভর্তি দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত জারিন মাইশা জারিন মাইশাকে ফুল দিয়ে বরণ


‘সুরের খেয়ায় স্বর্ণালি সন্ধ্যা’ স্লোগানকে সামনে রেখে শোটাইম মিউজিক আয়োজন করেছিল প্রবাসের বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিল্পী জারিন মাইশার। আয়োজন ছিল গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে। আয়োজক হিসেবে আলমগীর খান আলমের একটা শঙ্কা থাকতেই পারে, নতুন প্রজন্মের শিল্পী বলে। কিন্তু তার সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণ করে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। এই অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী একক সংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পী জারিন মাইশার ক্ষেত্রে যা দেখা গেল তা বলতে গেলে অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্যও বটে। এতো মানুষ হলভর্তি। বলা যায়, টইটম্বুর। কোথায় যেন দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। তা-ও আবার যেনতেন দর্শক নয়, ক্লাসিক দর্শক। এমন দর্শক সম্প্রতিক সময়ের কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়। তাহলে কি বলা যায়, জারিন মাইশার ভাগ্য ভালো? মোটেও না। ভাগ্য নয়, নিয়তি নয়, বাস্তব। আর সেই বাস্তবতা কী? বাস্তবতা হচ্ছে জারিন মাইশা একজন গুণী শিল্পীতে পরিণত হয়েছেন। কণ্ঠে ধারণ করেছেন সংগীত সুধা, সুরের দ্যুতি। সেই দ্যুতিতে তিনি আলোকিত করলেন হলভর্তি দর্শকদের। গর্বিত করলেন বাবা-মাকে, সেই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। মাত্র ৪ বছর বয়সে এই ভিন্ন সংস্কৃতির দেশে এসেছিলেন জারিন মাইশা। এখানে লেখাপড়া পাশাপাশি বাংলা সংগীতের উত্তরাধিকার হবেন এমন ভাবনা বর্তমান কমিউনিটিতে একেবারেই বেমানান। আমাদের কমিউনিটিতে দেখা যায়, যারা নতুন প্রজন্ম তাদের মধ্যে অনেকেই বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছে না, সেখানে জারিন মাইশা বাংলা সংগীতের ধারক বাহক হয়ে উঠবেন-তা কী করে? উত্তর একটাই বাবা-মার একাগ্রতা এবং জারিন মাইশার ইচ্ছাশক্তি। জারিন মাইশা প্রমাণ করেছে ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। আর অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বিপা। ইংরেজিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি তার মননে, চিন্তায়, চেতনায়, শেকড়ের বীজ বপন করে দিয়েছে। রক্তের ধমনিতে সা-রে-গা-মা-পা। এতো গেল গানে, নাচেও অনিন্দ্য সুন্দর। আর আবৃত্তি-সে তো অসাধারণ। অনেক গুণে গুণান্বিত, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির গর্বিত প্রতিনিধি। ধারক এবং বাহক। জারিন মাইশারা থাকলে নিদ্বির্ধায় বলা এই প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি হারিয়ে যাবে না। জয়তু জারিন মাইশা।

আবীর আলমগীরের উপস্থাপনায় হলভর্তি অডিটোরিয়ামে জারিন মাইশা তার সংগীত পরিবেশনা শুরু করেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জারিনা মাইশা প্রমাণ করেছেন তিনি প্রবাসের অপরিহার্য শিল্পী। তার গান নির্বাচন, গায়কি- সবই ছিলো অপূর্ব। কী অধুনিক, কী রবীন্দ্র সঙ্গীত, কী ফোক- সব গানেই তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। তার গায়কিতে হল ভর্তি দর্শক বিমোহীত হয়েছেন। প্রায় তিন ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে এক বার বিরতি দিলেও সবাই ঠাঁই বসেছিলেন নিজ নিজ চেয়ারে। যা প্রবাসে সচরাচর চোখে পড়ে না। তন্ময় হয়ে তারা শুনেছেন এবং জারিনের অথৈই সুরের যাদুতে বন্দী হয়েছেন। জারি শুধু সঙ্গীত পরিবেশন করেননি। জানিয়েছেন তার বাবার কারণেই আজকে তার এই অবস্থায় আসা। মা ছায়ার মাত সারাক্ষণ পাশে থেকে সহযোগিতা করলেও বাবা সৈয়দ মিজানুর রহমান ছিলেন তার প্রেরণার উৎস, শিল্পী হয়ে ওঠার স্তম্ভ। তার বিপা ছিলো তার স্বপ্ন পূরণের সিঁড়ি। যে সিঁড়ি বেয়ে শিল্পী জারিন মাইশা এখন সবার গর্বেরবস্তু। নতুন প্রজন্মের অহঙ্কার এবং অনুকরণীয় উদাহরণ।

প্রথমে পর্বে শিল্পী জারিন মাইশা তার একক গানগুলো পরিবেশন করলেও দ্বিতীয় পর্বে তার সতীর্থ শিল্পীর সঙ্গে দ্বৈতগান পরিবেশন করেছেন। মোট কথা সাড়ে তিন ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানটি এই প্রবাসে নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকলো। অনুষ্ঠানে দর্শক সিক্ত হলে মাইশার গানে আর শিল্পী ভালবাসায় সিক্ত হলেন মানুষের।

অনুষ্ঠানে শিল্পী মাইশার প্রশংসা করে বক্তব্য রেখেছেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্যাহ, বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, কুইন্স ডেমোক্রেটিক লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, বিপার শিক্ষক সেলিনা আশরাফ, শোটাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলম, শিল্পী মাইশার গর্বিত পিতা সৈয়দ মিজানুর রহমান, কনস্যুলেট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আহমেদ, সংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, আসহান হাবিব, নাসির আলী খান পল, বেদারুল ইসলাম বাবলা, জাকারিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিল্পী জারিন মাইশাকে ফুল দিয়ে ভালবাসায় সিক্ত করেছেন। প্রশংসা কুড়িয়েছে শোটাইম মিউজিক ও বিপা। আলমগীর খান আলম জানালেন, আগামী এই ধরনের অনুষ্ঠান তিনি আরো করবেন।

শেয়ার করুন