০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৬:২২:২০ অপরাহ্ন


এইচ-১বি ভিসা প্রদানের নিয়মে পরিবর্তন আনছে ডিএইচএস
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-১২-২০২৫
এইচ-১বি ভিসা প্রদানের নিয়মে পরিবর্তন আনছে ডিএইচএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)


যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-১বি কর্মভিত্তিক ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এতদিনের বহুল সমালোচিত র‌্যান্ডম লটারির পরিবর্তে এখন বেশি দক্ষ ও বেশি বেতনের বিদেশি কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এইচ-১বি ভিসা বরাদ্দ করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো আমেরিকান কর্মীদের মজুরি, কর্মপরিবেশ ও চাকরির সুযোগ আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দেওয়া।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসএইএস)-এর মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্রাগেসার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান র‌্যান্ডম নির্বাচনী পদ্ধতিটি বহু মার্কিন নিয়োগকর্তা দ্বারা অপব্যবহৃত হয়েছে। তারা অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকান কর্মীদের তুলনায় কম মজুরিতে বিদেশি শ্রমিক আমদানি করতে এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছিল। তিনি আরও বলেন, নতুন ওজনভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং নিয়োগকর্তাদের উচ্চ বেতন ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগে উৎসাহিত করবে।

বর্তমানে প্রতিবছর এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা নির্ধারিত ৬৫ হাজার সাধারণ ক্যাটাগরিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার। এতদিন এই ভিসাগুলো র‌্যান্ডম লটারির মাধ্যমে বাছাই করা হতো। এই পদ্ধতিতে কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা কম দক্ষ ও কম বেতনের বিদেশি কর্মীর আবেদন হিসেবে জমা দিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতেন, যার সরাসরি ক্ষতি হতো আমেরিকান শ্রমবাজারের।

নতুন চূড়ান্ত নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশি দক্ষতা ও বেশি বেতনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, যেসব পদের বেতন ও দক্ষতার মান তুলনামূলকভাবে বেশি, সেগুলোর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, সব বেতন স্তরের জন্যই এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, বরং অগ্রাধিকার কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছে। এই নিয়ম কার্যকর হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এবং এটি ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি ক্যাপ রেজিস্ট্রেশন মৌসুমে প্রযোজ্য হবে।এই নিয়মকে এইচ-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রামের স্বচ্ছতা ও সততা জোরদারের আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে প্রশাসন একটি প্রেসিডেনশিয়াল প্রোক্লেমেশন জারি করেছে, যেখানে নিয়োগকর্তাদের প্রতিটি এইচ-১বি ভিসার জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার ফি পরিশোধের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।ম্যাথিউ ট্রাগেসার বলেন, এইচ-১বি সংস্কারের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা নিয়োগকর্তা ও বিদেশি আবেদনকারীদের কাছ থেকে আরও বেশি দায়বদ্ধতা চাইব, যাতে আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয় এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়িত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রযুক্তি ও উচ্চদক্ষ পেশাভিত্তিক খাতে উচ্চ বেতনের চাকরিতে বিদেশি পেশাজীবীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পেতে পারেন। তবে একই সঙ্গে কম বেতনের বা এন্ট্রি-লেভেল পজিশনের জন্য এইচ-১বি ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে একদিকে যেমন মার্কিন ব্যবসাগুলো প্রয়োজনীয় উচ্চদক্ষ জনবল পাবে, অন্যদিকে তেমনি আমেরিকান কর্মীদের মজুরি ও চাকরির নিরাপত্তা রক্ষায় একটি শক্ত অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন